কবে থামবে মব সন্ত্রাস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দেশে মব সন্ত্রাসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। মবের ঘটনা আগেও ছিল, এখনও ঘটছে। আগে যেসব ঘটনা ‘গণপিটুনি’ হিসেবে চিহ্নিত হতো, এখন সেসব ঘটনা মব সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে মবের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে বড় পরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। আর সেই সুযোগে দেশে মব সন্ত্রাসের ঘটনা বাড়তে থাকে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। এখন ২০২৬ সাল। বিএনপি সরকারের দেশ পরিচালানোর এক বছরও পার হয়নি। এর মধ্যেও মবের ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগে মধ্যরাতে মিরপুর ১-এর ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেরদিন, গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাতমসজিদ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক লোক নিয়ে হামলা-ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। আবার একই দিনে রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাংবাদিক পেটানো বা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কৃষক দল নেতার নেতৃত্বে মব করে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘মব কালচার’ আর থাকবে না। কিন্তু সেই মব সন্ত্রাস যে বহাল তবিয়তে টিকে আছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে প্রমাণিত। পরিসংখ্যান বলে, চলতি বছরের আগস্ট মাসে সারা দেশে মব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে জুলাইয়ের ৩১ জনের তুলনায় আগস্টে মব সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত এবং আহতের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৭৪ জন হয়েছে। এমএসএফ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৬৫ টি মবের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৩ জন নিহত ও ৭৪ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। আবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সারা দেশে ১৫৪ জন মানুষ মবের কারণে মারা গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে সবচেয়ে বেশি, ৫৭ জন। মব সন্ত্রাসের পেছনে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। এটি বর্তমানে দেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্যে পরিণত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাক্তিগত বিরোধকে মবের রূপ দিয়ে দায়মুক্তির চেষ্টা চলছে। ক্রমবর্ধমান এ মব সন্ত্রাসে ধীরে ধীরে দেশের পরিস্থিতি অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এবং ক্রমশ তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে। এর জন্য সরকারকে আরো অনেক বেশি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে লালন না করে, মবের সন্ত্রাসের কারণে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের অধীনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মবের মানসিকতা এই দেশের মানুষের মন থেকে দূর করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..