জয়তু কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার
আইয়ুব আলী স্যার। অর্থাৎ কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার। স্বরূপকাঠি অঞ্চলে তিনি আইয়ুব আলী স্যার নামে সমধিক পরিচিত। ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি স্যার। এমনকি পার্টি কমরেডরাও তাঁকে স্যার বলে সম্বোধন করেন। কমিউনিস্ট বলতে যা বুঝায় তিনি তা-ই।
ব্রিটিশ ও পাকিস্তানবিরোধী লড়াই-সংগ্রামে বরিশালের স্বরূপকাঠি নাম উল্লেখযোগ্য। এই স্বরূপকাঠির থানার বালিহারী গ্রামে ১৯২৮ সালে জন্ম হয় কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারের। তাঁর বাবা মৃত গৈজউদ্দিন এবং মা মৃত. করিমন নেছা। তাঁর বাবা ১৯৮০ সালে এবং মা ১৯৯২-তে মারা যান।
প্রাথমিক পড়াশুনা শেষ করে তিনি ১৯৪৮ সালে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কলেজ (ঢাকা বোর্ড) থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাসের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর দু’বছর বিরতি দিয়ে এইচএসসিতে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনে তিনি মুসলিম লীগের পরোক্ষ সমর্থক ছিলেন। কারণ তখন কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু যখন মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক চরিত্র উন্মোচন হয় তখন গ্রাম-বাংলার প্রগতিশীল তরুণদের মতো তিনিও মুসলিম লীগের মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত করেন।
কলেজ জীবনে তিনি রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠেন। রাজনীতির নানাবিষয়ে বোঝাপড়ার পর তিনি প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি কমিউনিস্ট পার্টির লাইব্রেরিতে যাতায়াত শুরু করেন। লাইব্রেরিটির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী কমরেড লতিফ মিয়া।
তখন কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় অন্যান্যদের মতো লতিফ মিয়া পার্টির সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগের মধ্যে কাজ করেন। কারণ মুসলিম লীগের ভিতর থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-ফ্যাসাদ দূর করা ছিল কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য। মুসলিম লীগে তখনও অনেক প্রগতিশীল ছাত্র-যুবারা ছিলেন, তাদেরকে গাইড পরামর্শ দিয়ে কমরেড লতিফ মিয়া কমিউনিস্ট পার্টিতে নিয়ে আসেন। এই লতিফ মিয়ার হাত ধরেই কমিউনিস্ট পার্টির হাতেখড়ি নেন কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার।
১৯৫৬ সালে স্বরূপকাঠি পার্টির ওই লাইব্রেরিতে যারা আসা-যাওয়া করতেন, তাঁদের মধ্যে কমরেড মুকুল সেন (বরিশাল), নলিনী দাস (ভোলা), জগদীশ আইচ সরকার (স্বরূপকাঠি), আব্দুস সাত্তার (কাওখালী), হাকিম শিকদার (হুলারহাট), কমরেড লাল মিয়া (স্বরূপকাঠি), কমরেড ডা. আব্দুল হালিম (স্বরূপকাঠি), নুরুল ইসলাম মুন্সি (স্বরূপকাঠি) প্রমুখ। এঁরা প্রত্যেকেই পার্টির একনিষ্ঠ নেতা ছিলেন এবং এঁরাই তরুণ ছাত্র-যুবদের কমিউনিস্ট পার্টিতে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেন। এঁদের সান্নিধ্যে এসে এবং পার্টির নিয়ম-কানুন মেনে কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার কমিউনিস্ট পার্টির মেম্বারশীপ অর্জন করেন।
পার্টিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার ছাত্র ইউনিয়ন দেখাশোনা করতেন, লাইব্রেরিতে আসা সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পার্টির বিভিন্ন কাগজপত্র কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করতেন। পার্টির দলিল কর্মীদের পড়ার জন্য সার্বক্ষণিক উৎসাহ-উদ্দীপনা দিতেন।
কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার ছিলেন বইপোকা। তিনি সুযোগ পেলেই মার্কসীয় সাহিত্য পড়তেন। কর্মী-জনগণকেও বলতেন, ‘বিপ্লব করতে হলে মার্কসীয় সাহিত্য অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ’। কর্মীদের মধ্যে মার্কসের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ নিয়ে আলোচনা করতেন।
১৯৫৮ সালে পার্টি থেকে কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারকে গণসংগঠন কৃষক সমিতি গড়ে তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি কৃষকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় জেলায় কাজ করেন। ওই বছর কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে একটি কৃষক সম্মেলন করার পরিকল্পনা নেন কমিউনিস্ট পার্টি। বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠিতে কৃষক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে আইয়ুব শাহী সামরিক শাসন জারি করে। যেকারণে কৃষক সম্মেলন করার বাস্তবতা থাকে না। ওই সময় আইয়ুব শাহী সরকার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করতে শুরু করে। বিশেষ করে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীদেরকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। পার্টির সিদ্ধান্তে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপন অবস্থায় পার্টির নেতা-কর্মীরা কৃষক সংগঠনের মধ্যে কাজ করেন। এসময় কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারও কৃষক সংগঠনকে প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে থাকেন।
১৯৫৮ সালে উদ্যোগ নেয়া কৃষক সম্মেলনটি ১৯৬৪ সালে ইন্দেরহাটের স্বরূপকাঠি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
গোটা আইয়ুব শাহী আমলে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। তাই কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীরা ছদ্মরূপে ন্যাপের সাথে যুক্ত থাকতেন। পার্টির নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার জন্য ন্যাপের প্লাটফর্ম ব্যবহার করতেন।
’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনে কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনকে সফল করার জন্য কাজ শুরু করেন। স্কুল-কলেজের ছাত্রদেরকে শিক্ষা বিষয়ে বুঝাতেন, বাজারে-বাজারে ঘুরে ব্যবসায়ীদের বুঝাতেন, গ্রুপ মিটিং করতেন, হাতের লেখা পোস্টার করতেন, পার্টির যে সমস্ত দলিল-পত্রাদি আসতো তা কর্মী-জনগণের মধ্যে বণ্টন করতেন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি বহুবার পুলিশি হয়রানির মধ্যে পড়েছেন। ’৬২ শিক্ষা আন্দোলনে সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হওয়ার মূল কারণ ছিল তারা কয়েকজন পার্টি কমরেড মিলে আইয়ুব সরকারের ছবি পুড়িয়েছিল, যার মূল নেতৃত্বে ছিলেন কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার।
স্বরূপকাঠি ইন্দেরহাটের কামারপাড়ায় প্রথম ন্যাপের মিছিল বের হয়। কিন্তু মিছিলটি আওয়ামী মুসলিম লীগ প- করে দেয়। এই ঘটনার তিন সপ্তাহ পর কমরেড জহুরুল হক লাল মিয়া, কমরেড মনোরমা বসু মাসিমা, কমরেড নিরোদ নাগ, কমরেড জগদীশ আইচ সরকার, কমরেড অজিত বিশ্বাস, কমরেড রতনেশ্বর সরকার, মতিয়া চৌধুরী এবং জেলার অন্যান্য নেতা-কর্মীরা সবাই মিলে বিশাল সমাবেশ করেন।
কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার পার্টির কাজের ফাঁকে যতটুকু সময় পেতেন তখন বিপ্লবী সাহিত্য ও দৈনিক পত্রিকা পড়তেন। শুধু পাঠকই নন, তিনি লেখকও ছিলেন। দৈনিক পত্রিকা ইত্তেফাকে তিনি কলাম লিখতেন। তাঁর লেখাতে মূলত বিভিন্ন চলমান সংকটের নানাদিক ফুটে উঠতো।
কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে ’৬২ সালে নভেম্বরে সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন ডাকা হয় বগুড়াতে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বরিশাল অঞ্চলের সাংবাদিকদেরকে সংগঠিতকরণের পুরো দায়িত্ব পালন করেন কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার। পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে কোনো সাংবাদিক এই সস্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাননি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি একাই সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দেন। আই.বি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি স্বরূপকাঠি থেকে বগুড়ার সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ’৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে যায়। পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ‘ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ’ ধরে রাখার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
যে লাইব্রেরিটিতে যাতায়াতের মধ্যদিয়ে পার্টির কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার পার্টির মেম্বারশীপ পেয়েছিলেন, সেই লাইব্রেরিটি একসময় বাণিজ্যিক হয়ে যায়। কারণ ওই লাইব্রেরিটি যিনি দেখাশুনা করতেন তিনি পার্টি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। তাই কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারসহ অন্য কমরেডরা মিলে স্বরূপকাঠি কলেজে আরেকটি নতুন লাইব্রেরি দাঁড় করান। মূলত লাইব্রেরিটি ছিল পার্টি নেতা-কর্মীদের আড্ডাস্থল। এছাড়াও পার্টিরও বিভিন্ন কাজে এই লাইব্রেরিটি ব্যবহৃত হতো। অনেক সময় এখানে বসে পার্টির জরুরি মিটিংও সেরে নেয়া যেতো। এভাবে ধীরে ধীরে এই লাইব্রেরিটি হয়ে ওঠে পার্টি রাজনীতির মূলকেন্দ্র।
’৬৯-এর গণঅভ্যূত্থানে ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কাজ করেন কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার। এসময় তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের পথসভায় বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের প্রথমদিকে পার্টির পক্ষ থেকে তাঁর দায়িত্ব ছিল পার্টি কমরেডদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা। পার্টি কমরেডদের মধ্যে ছিলেন কমরেড জগদীশ আইচ সরকার, অজিত বিশ্বাস, নুরুল ইসলাম (অ্যাডভোকেট), হিরেণ সুতার প্রমুখ। তিনি উপরোক্ত কমরেডদের কিছুদিন বালীহারি চামীতে গইজউদ্দিন মুন্সির বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন। কিছুদিন সেখানে থাকার পর কমরেডরা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করেন।
পার্টির সিদ্ধান্তানুযায়ী মুকুল সেন, মাসিমা, নলিনী দাস ভারতে চলে যান মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার কাজে।
কিছুদিন পর এমন অবস্থা দাঁড়ালো যে অস্ত্র ছাড়া আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না, পার্টির কমরেডদের কোনো অস্ত্র ছিল না, তাই পার্টির সিদ্ধান্তানুযায়ী ১৬ জুন ১৯৭১ সালে ভারতে চলে যান কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারসহ আরও ২৪-২৫ জন কমরেড। তারা ভারতের শিয়ালদহে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর অফিসে ওঠেন। দু’তিনদিন পর অশোকনগর সিপিআই এম এমের পরিত্যক্ত এক বাড়িতে পার্টির কমরেডরা থাকার ব্যবস্থা করেন। ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে অনেক মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন। ওই বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেয়া হতো।
অশোকনগরে ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাম্প ছিল, যে ক্যাম্পে বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন। কমরেড আইয়ুর আলী মাস্টার এই ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যের দায়িত্বে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করতে করতে তাঁর হাতে ঘা হয়ে গিয়েছিল। তিনি ৬-৭ মাস মুক্তিযোদ্ধাদের রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের পর তিনিসহ অন্য কমরেডরা মিলে ’৭২ এর ৪ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
তিনি কমিউনিস্ট জীবনের বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকেন। পার্টির কাজ করতে গিয়ে বারবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন এবং গ্রেপ্তারও হন। তিনি জেলে বসে কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ জেলবন্দীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতেন। যার ফলে একসময়ে এই সাধারণ জেলবন্দীরা কমিউনিস্ট মতাদর্শে দীক্ষা নেন। তারা অনেকেই জেল থেকে বেরিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যুক্ত হন।
একবার পুলিশ কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য পার্টির কর্মীরা, সাধারণ ছাত্ররা থানা ঘেরাও করেন এবং আইএ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। তখন থানা কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রামে-গ্রামে, বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে লোকজনকে বুঝাতেন– যেভাবেই হোক স্বৈরাচার এরশাদকে প্রতিহত করতে হবে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পার্টির নির্দেশে সুনিপুণভাবে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার কমিউনিস্ট পার্টির সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা কর্মী-জনগণের মধ্যে বণ্টন করতেন এবং পড়ার জন্য প্রতিনিয়ত তাগাদা দিতেন। পার্টির লেভি সময়মত দিতেন। তিনি সবসময় পার্টির শৃংখলা মেনে কাজ করতেন ও চলতেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির স্বরূপকাঠি থানার সভাপতি ছিলেন। আমৃত্যু তিনি পার্টির সদস্য ছিলেন।
কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার মনে করতেন, বিপ্লব করতে হলে জনগণকে জাগাতে হবে, জনগণকে চাপিয়ে দিয়ে বিপ্লব সম্ভব না। চেতনাগতভাবে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাপ্তাহিক একতা নিয়মিত পড়তেন। তিনি পার্টি ও বিপ্লবের প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ। ‘হতাশা’ নামক শব্দটির সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। পার্টির লোকজন পেলে রাজনীতি, দর্শন নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠতেন। কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার আজীবন সাম্রাজ্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছেন।
৯০ বছর বয়সে গত ২৪ জুলাই ভোরবেলায় কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টারের দেহযন্ত্র নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাঁর স্মৃতি ও কর্মের প্রতি লাল সালাম।
জয়তু কমরেড আইয়ুব আলী মাস্টার।
লেখক : সম্পাদক, বিপ্লবীদের কথা
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন