যন্তর মন্তরে তরুণ প্রজন্মের অসামান্য লড়াই : আগামী সংগ্রামের পাথেয়

অর্ক ভাদুড়ি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের ঢেউ অবশেষে আছড়ে পড়লো ভারতেও। ব্যাপকভাবেই পড়লো। গত কয়েক সপ্তাহজুড়ে মোদী-জমানার অন্যতম বৃহৎ গণআন্দোলন প্রত্যক্ষ করলাম আমরা। বড় আকারের গণআন্দোলন বিজেপি আমলে এই প্রথম নয়। এনআরসি-সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনও সরকারকে বিপাকে ফেলেছে ইতোপূর্বে। কিন্তু ব্যাপকতা এবং গতির নিরিখে নজিরবিহীন সাফল্য পেল ছাত্রযুবদের আন্দোলন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে অভূতপূর্ব পরাজয় স্বীকার করলো সরকার। বাংলার মার্কসবাদী কবি নবারুণ ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, ‘একটা কথার ফুলকি উড়ে শুকনো ঘাসে পড়বে কবে/ সারা শহর উথাল-পাথাল ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে’। বস্তুতই একটা কথার ফুলকি উড়ে শুকনো ঘাসে পড়তেই সারা দেশ কীরকম উথাল-পাথাল হতে পারে, তা গত মাসখানেক সময়ে হাড়ে হাড়ে টের পেলো মোদী সরকার। সেই “একটা কথা” অবশ্য সরাসরি বিজেপির কেউ বলেননি। বলেছিলেন ভারতের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য্যকান্ত। ভারতের বেকার তরুণদের কটাক্ষ করে আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের অনুপ্রেরণায় নেটমাধ্যমে জন্ম হল ককরোচ জনতা পার্টি ওরফে সিজেপির। যে সময়ে এমন তুলনা টানছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি, ঠিক তার আগেই, মে মাসের গোড়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে বাতিল হয়েছে নিট (NEET)- ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কাছাকাছি সময়েই বিভিন্ন রাজ্যে বাতিল হয়েছে আরও কিছু প্রবেশিকা এবং চাকরির পরীক্ষাও। নিট বাতিলের ফলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করছে একের পর এক কিশোর-কিশোরী। এই পটভূমিতেই, ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগৎ থেকে মাটিতে নেমে এসে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুললো সিজেপি। ২০ জুন সিজেপির ডাকে অবস্থান আন্দোলন শুরু হলো দিল্লীর যন্তর মন্তরে। ২৮ জুন সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করলেন সোনম ওয়াংচুক। সঙ্গী হলেন আরও ছ’জন ছাত্রছাত্রী। ১৮ জুলাই অনশনমঞ্চ থেকে সোনমকে তুলে নিয়ে গেলো পুলিশ। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ঘোষিত সংসদ যাত্রার প্রাক্কালে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে টিয়ার গ্যাস চালালো সরকার। পেরেক আটকানো লাঠি দিয়ে পেটানো হলো ছেলেমেয়েদের। পেটেল গান চালানো হলো যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের ওপর। ভেঙে দেওয়া হলো অনশনমঞ্চ। এরপরেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো গোটা দেশে। দিল্লির আন্দোলনকারীদের সমর্থনে পথে নেমে এলেন কলকাতা, পাটনা, মুম্বাই, রাঁচিসহ বিভিন্ন শহরের ছাত্রযুবরা। ২৫ জুলাই বিজেপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করে ছাড়লো ভারতের ছাত্রজনতা। মোদ্দায় এই হলো ‘আরশোলা’দের আন্দোলনের সময়রেখা। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র-ফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, এই আন্দোলন আসলে ছিল বছরের পর বছর দেশের কোটি কোটি যুবক যুবতীর আশা ভরসা নষ্ট করে দেওয়া একটা কুৎসিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই। সেই কারণেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ, যাঁরা ‘ছাত্র’ নন। তাঁরা এসেছিলেন নিজেদের প্রতিদিনের যন্ত্রণার প্রতিকার চাইতে, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে জমা ক্ষোভ উগড়ে দিতে। সেই দিক থেকে বিচার করলে ‘আরশোলা’রা হয়ে উঠেছে মোদীর ভারতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র-ফাঁসে নিঃসন্দেহে জড়িয়ে আছে একটা বিশাল চক্র। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আদতে ছিল একটা নির্বাচিত সরকারের দীর্ঘকালীন নিষ্ক্রিয়তা ও অপদার্থতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জনতার প্রতীকী শাস্তিবিধান- সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া যে, গণতন্ত্র তার প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহির দাবি রাখে। এই দাবিকেও দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কম করেনি সরকার। আগাগোড়া সংবাদমাধ্যমের নাগাল এড়িয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং ২৩ জুলাই মধ্যরাত্রে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। দেশবাসীকে চমকে দেওয়া সেই ভিডিওতে প্রশ্নপত্র-ফাঁসের বিষয়ে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরিয়ে দেওয়া হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দায়িত্বে থাকা শিক্ষামন্ত্রকের সচিব ভিনীত যোশিকে। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের চেয়ে কম কোনো কিছুতেই রাজি হননি সিজেপি-সহ আন্দেলনকারীদের প্রতিনিধিরা। এই আন্দোলনের মুখ অবশ্যই বলা চলে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, এবং সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। আরেক অনশনকারী, বামপন্থি ছাত্রছাত্রী সংগঠন অওঝঅ (আইসা) সংগঠক নেহাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এছাড়া বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অওঝঋ, ঝঋও এর ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জ্বল। সম্প্রতি দিল্লিতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) দফতরে গিয়ে বক্তৃতা করেছেন সিজেপির সৌরভ। কিন্তু আন্দোলনের মুখ হলেও সিজেপি বা বামপন্থি ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনের মালিকানা কখনোই দাবি করেননি। তাঁরা ডাক দিয়েছেন, কিন্তু নিজেরা ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাননি। এই দাবি না করাই সম্ভবত সারা দেশের ছাত্রযুবকে উদ্বুদ্ধ করেছে আন্দোলনকে স্বাধিকারে আপন করে নিতে। ছোটরা পথে নেমেছে তাদের ভয় থেকে, তরুণরা নেমেছেন তাঁদের যন্ত্রণা থেকে, অভিভাবকরা পাশে দাঁড়িয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অপরাধবোধ থেকে। রাজনীতির সঙ্গে সংশ্রব না থাকা মানুষ আপন আপন তাগিদে শামিল হয়েছেন। এই সর্বজনীন আবেদনই এই আন্দোলনকে ব্যাপকতা দিয়েছে। ২০ জুলাই তারিখে নিরস্ত্র ছাত্রযুবদের ওপর পুলিশের নির্বিচার লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস এই আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়। ওই রাতেই আন্দোলনকারীদের ফের যন্তর মন্তরে ফিরে আসা মানুষের মনে আশ্চর্য ভরসা জাগায়। একদিকে আগের চাইতে কয়েকগুণ হারে মানুষ জড়ো হতে থাকেন যন্তর মন্তরে, অন্যদিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্রযুবরা রাস্তায় নেমে আসেন কলকাতা, পাটনা, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, নাগপুর, বেঙ্গালুরুতে। যন্তর মন্তরের ভিড়ে শামিল হতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজারে হাজারে দিল্লি রওনা হন সদ্য স্কুল বা কলেজ পাস করা তরুণেরা। বাবা-মাকে না জানিয়ে হাজির হয় দশ-বারো ক্লাস বা প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা। কেউ আবার টেনে আনে বাবা-মাকে, কাউকে বাবা-মা বা আত্মীয়রাই হাত ধরে নিয়ে আসেন। দিল্লির ষোলোটা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েও এই জনজোয়ার ঠেকাতে পারেনি সরকার। আন্দোলনের সমর্থনে সংসদে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাকন করেছেন বামপন্থিরা। আন্দোলনস্থলে না গিয়েও পরিপূর্ণ সমর্থন নিয়ে ছাত্রযুবদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। শিকার হয়েছেন পুলিশি হেনস্থারও। সিপিআই, সিপিআই(এমএল) এবং সিপিআই(এম) দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে উপস্থিত হয়েছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং শাবানা আজমি। ক্রমে ক্রমে বাইরে থেকে সমর্থন জানিয়েছেন আরও অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সমর্থনে সরব হয়েছেন জেন জি-দের প্রিয় কমেডিয়ানরা। আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাহার ঘটেছিল। ছাত্রদের সমর্থনে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন শীর্ষ আদালতের আইনজীবীরা। সংহতি জানাতে ট্র্যাক্টর নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানা থেকে রওনা হন কৃষকেরা। ডাক্তারেরা স্বেচ্ছাসেবী শিবির খুলে ফেলেন ধর্না-প্রাঙ্গণের একপাশে। বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। গোটা দেশ থেকে সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে খাবার, পানীয় জল পাঠিয়েছেন। লন্ডন, ডাবলিন, বার্লিন, দুবাই’সহ বিদেশের বিভিন্ন শহরে জমায়েত করে আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও মোদী সরকারের প্রতি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। অসংখ্য ছবি তৈরি করেছে এই আন্দোলন। তার মধ্যে যেমন আছে জেন-জির হাতে লেখা বিচিত্র সব পোস্টার, তেমনই আছেন অনশনভঙ্গের পর সারা দেশ থেকে করা অর্ডারের ডেলিভারি নিয়ে বন্যার মত আসতে থাকা স্যুইগি-জোমাটোর ডেলিভারি-পার্সনরা। আছে ছাত্রদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়া একাকী মেয়ে। আছে পিছন থেকে প্রিজন ভ্যানের দরজা খুলে গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্ত করে দেওয়া ছেলে। গোদী মিডিয়ার বিরোধিতা ছিল এই আন্দোলনের একটি প্রধান চরিত্র। ঠিক এর বিপরীতেই এই আন্দোলনের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছেন ছোট বড় নিরপেক্ষ সংবাদকর্মীরাও। যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পরেও যাঁরা আপ্রাণ চেষ্টায় আন্দোলনের ছবি দেখিয়ে গেছেন সারা দেশকে। একের পর এক সাক্ষাৎকার নিয়ে গেছেন আন্দোলনে যোগ দিতে আসা সাধারণ ছাত্রছাত্রী বা অভিভাবকদের। দিল্লির সমর্থনে কলকাতায় মিছিল হয়েছে প্রথমে ২০ জুলাই এবং পরে ২৪ জুলাই আরও অনেক বড় আকারে। সেই মিছিল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে, যার মধ্যে ১৩ জনই মুসলিম। মিছিলের মধ্যে সাংবাদিক নিগ্রহের মিথ্যা অভিযোগে পরবর্তী দু-তিন দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও অনেককে। উত্তাল হয়েছে বিহারের পাটনা। নৃশংস লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, আর জলকামানের মুখে তারুণ্যের উত্তাপ নিয়ে উৎসব করেছেন বিহারের ছাত্রযুবরা। ২৫ জুলাই সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ও আইসার পক্ষ থেকে বনধ ডাকা হয়েছে বিহারে। তার আগে পুলিশ গণহারে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের সদস্যদে। বিহারে গ্রেফতার হওয়া প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি এই লেখা লেখার সময় অবধিও জামিন পাননি। বিহারের সিওয়ানে প্রতিবাদী জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। সারা দেশের শিক্ষিত ছাত্রযুবদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, ক্রোধ, আর ঘৃণাই এই আন্দোলনের প্রাণশক্তি। আন্দোলনের এই অভূতপূর্ব সাফল্যও তাদের জন্যই। তাই একদিকে সরকার যেমন ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ স্বীকার করেছে, অন্যদিকে বিশৃঙ্খলা থেকে হত্যার চেষ্টা পর্যন্ত বিবিধ অভিযোগ এনে গ্রেফতারি চালিয়ে যাচ্ছে বিহারে, পশ্চিমবঙ্গে, আসামে, মহারাষ্ট্রে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে ছাত্রছাত্রী নেতৃত্ব। শুধু দিল্লিই নয়, কলকাতা পাটনা মুম্বাই সহ দেশের যেখানে যে যে গ্রেফতার হয়েছে এই আন্দোলনের প্রতি সংহতিতে, সকলকেই মুক্তি না দিলে পুনরায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। সেই দাবি মেনেও নিয়েছে সরকার। স্পষ্টতই, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এবার প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগের দাবি ওঠার সম্ভাবনায় ভয় পেয়েছে সরকার। বিজেপির বারো বছরে অনেক ঘটনারই সাক্ষী থেকেছে ভারতের জনগণ। ইতোপূর্বের কোনো ঘটনা বা আন্দোলনই কিন্তু দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের প্রতি এই সরকারের দায়বদ্ধতার অভাব এমন নগ্নভাবে মেলে ধরতে পারেনি। যে কোনও আন্দোলনের পিছনেই বিদেশি মদত এবং ডিপ স্টেটের জুজু দেখায় রাষ্ট্র। সব দেশেই। এই আন্দোলনও তার ব্যতিক্রম নয়। ছাত্রছাত্রীরা এইসব অভিযোগের জবাব দিয়েছে মিম বানিয়ে। বস্তুতঃ, আন্দোলনের ভাষা যে কতখানি সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারে, এই আন্দোলন তা অনেকখানি শিখিয়ে গেল। জেন-জিরা ভারতের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। খাতায় কলমে জেন-জি আন্দোলন হলেও মিলেনিয়ালদেরও একটা বড় অংশ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হলে এই তরুণ ভোটব্যাংককে বিজেপির একান্তই প্রয়োজন। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বীজমন্ত্র দিয়ে তরুণদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে সদা সচেষ্ট বিজেপির জন্য সাম্প্রদায়িকতার নামগন্ধহীন এই আন্দোলন তাই বড় ধাক্কা। আগামীতে ভারতে বিজেপি-আরএসএস বিরোধী লড়াই নিঃসন্দেহে এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও তীব্র হবে। লেখক: ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..