গরিবের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ!

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ক্ষমতায় বসার এক মাস পার হওয়ার আগেই দেশের গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারেক রহমানের সরকার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তথা হকার উচ্ছেদে চলছে ঢালাও অভিযান। প্রতিদিনই ম্যাজিস্ট্রেট সাথে নিয়ে একেকটি এলাকায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। ফুটপাতে ছোটোখাটো ব্যবসা করে পরিবারের জন্য রুটি-রুজি সংস্থানের চেষ্টায় নিয়োজিত মানুষগুলোর সামান্য সম্বল ধ্বংস করা হচ্ছে। কেউ কথা বলতে চাইলে হয় পিটুনি দিয়ে ঠাণ্ডা করা হচ্ছে অথবা গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও অসহায় মানুষগুলো পেটের দায়ে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসার চেষ্টা করলে আরেক দফা জুলুমের শিকার হচ্ছেন। সরকারের এই গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে হাজার হাজার স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী তাদের রুটি-রুজির জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। মালামাল হারিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় পলিথিন টাঙিয়ে অথবা খোলা আকাশের নিচে যারা দোকানদারি করেন, তারা শখ করে এই পেশায় আসেননি। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যর্থতাই তাদের এই পথে নামিয়েছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করায় বছরের পর বছর যুগের পর যুগ ফুটপাতের এই ব্যবসাই তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যবসার আয় থেকে তাদের পরিবারের পেটের ভাত, সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় ও চিকিৎসার খরচ যোগাড় হচ্ছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে পুলিশ দিয়ে জোর করে উচ্ছেদ করার কারণে এই পরিবারগুলোর সামনে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করায় শুধু যে তারাই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন তা নয়, শহরের দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারণ ফুটপাতের দোকানের ৯০ শতাংশ ক্রেতাই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে, বিভিন্ন কাজে যাতায়াতের সময় তারা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করেন। ফুটপাতে দোকান না থাকলে সংসারের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই তাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। কারণ বড় বড় শপিং মলে গিয়ে উচ্চমূল্যে কেনার মতো অবস্থা তাদের নেই। অন্যদিকে ফুটপোতে যেসব পণ্য বিক্রি হয় তার প্রায় সবটাই দেশে উৎপাদিত। হঠাৎ করে হাজার হাজার দোকান তুলে দেওয়া হলে এসব পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা বন্ধের উপক্রম হবে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ হারাবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত সরকার এসেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল শাসকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা। তারেক রহমানের সরকারও এই শ্রেণীচরিত্রের বাইরে নয়। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না করে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক- এই দাবি জানাই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..