সাম্রাজ্যবাদ পরাজিত হবেই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বিশ্বব্যাপী মাকড়সার জালের মত বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদ। ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস। ১৯৭৩ সালের এ দিনে ভিয়েতনামে মুক্তিকামী মানুষের উপর চলমান মার্কিন নাপাম বোমা হামলা এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভিয়েতনাম সংহতি দিবসে শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম এবং মির্জা কাদেরুল ইসলাম। এই দুই বীর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের অগ্রপথিক। তাঁরা যুগে যুগে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন মানবতার মুক্তির সংগ্রামে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে সদ্য বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেওয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশে সর্বপ্রথম রাজপথ রঞ্জিত হয় ছাত্রদের রক্তে, তৎকালীন পুলিশের গুলিতে ভিয়েতনাম সংহতি মিছিলের কর্মসূচিতে। শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম, মির্জা কাদেরুল ইসলাম। তাই ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি অগ্নিস্পর্ধিত চেতনার দিন। মতিউল-কাদেরের সেদিনের আত্মত্যাগ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মুক্তির আন্দোলনকে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল। ২০০০ সালে ভিয়েতনাম সরকার শহীদ মতিউল ইসলাম ও মীর্জা কাদেরুল ইসলামকে ভিয়েতনামের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭২ সালে ভিয়েতনামে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন তীব্রতর হয়। ভিয়েতনামের আকাশে বোমারু বিমান, নাপাম বোমা, রাসায়নিক বোমা ব্যবহার করে বিশ্ব মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই দেশের ছাত্র সমাজ ও ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। জোরদার হয় ভিয়েতনাম সংহতি আন্দোলন। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়ন ও ডাকসুর এই যৌথ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থানে রাখার জন্য গণ আন্দোলন গড়ে তোলা। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে ছাত্র সমাবেশ শেষ করে ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আদমজী কোর্টস্থ মার্কিন দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রেরণ করা। সেদিন বটতলায় ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে শেষে মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে প্রতিবাদী মিছিল শুরু হয়। কিন্তু হাইকোর্টের সামনে প্রেসক্লাবে যাবার মোড়ে (বর্তমান গোল চত্বর) সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সহস্র কণ্ঠের শ্লোগানের প্রকম্পিত মিছিল পৌঁছালে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে রাজপথে লুটিয়ে পড়ে ছাত্ররা। শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মির্জা কাদেরুল ইসলাম। আহত হন পরাগ মাহবুব, ফরীদ হোসেন, আমীরুল ইসলাম, সুলতান আহমেদসহ আরো অনেকে। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ হবার স্থানে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতি বছর ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মানবমুক্তির সংগ্রাম, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, শোষণ বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ-রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামকে অগ্রসর করে সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা ছাড়া ভিন্ন কোনও বিকল্প আমাদের সামনে নেই। বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল শক্তির কর্তব্য হচ্ছে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা। বিভিন্ন গণআন্দোলন, শ্রেণিভিত্তিক আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে সামনে অগ্রসর করা। আজকের প্রতিবাদের লড়াইয়ে আমাদের চেতনায় মতিউল কাদেররা বারবার ফিরে আসুক। প্রতিরোধ প্রতিশোধে নিশ্চিহ্ন হোক সাম্রাজ্যবাদ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..