
একতা প্রতিবেদক :
সুপ্রিম কোর্টের আদালত কক্ষে বিচারকের উপস্থিতিতে সহিংসতা, আদালত ব্যবস্থাপনায় সীমাহীন দুর্নীতি, বিচারক নিয়োগে দলীয় কোটা, স্বজনপ্রীতিসহ দেশের গোটা বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।
সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশে বার ও বেঞ্চের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে গত ২৭ আগস্ট দুপুর ১ টায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বার শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্ট বার শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমাউন কবির, সুপ্রিম কোর্ট বার শাখার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট বার শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাম চন্দ্র দাস, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে আইনজীবী নেতা হাসান তারিক চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশে আদালত ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি এবং অনিয়ম সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিচার প্রার্থীগণ আশা করেছিল ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। বিচার ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধিত হবে। অথচ, আইনের শাসনের বদলে এখন চলছে আইনহীনতা, মব সন্ত্রাস, চরম দুর্নীতি এবং ব্যাপক চাঁদাবাজি। বিচারক ও অ্যাটর্নি সার্ভিসের নিয়োগে মেধার বদলে স্বজনপ্রীতি এবং নানা ধরনের কোটার বিবেচনা এখনো ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। অন্যায়ভাবে এবং ঢালাওভাবে দেয়া রাজনৈতিক মামলার আগাম জামিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পেন্ডিং আপিল এবং রিট আবেদন শুনানির জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ নাই। সেকারণে লক্ষ লক্ষ মামলা ঝুলে রয়েছে। বিচারপ্রার্থীগণ বিচারহীনতার শিকার হচ্ছেন। সর্বোচ্চ আদালতে বেঞ্চ অফিসার এবং জেলা আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে– বাংলাদেশ এখন বহির্বিশ্বে আইনহীনতা এবং অবিচারের এক নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি হিসেবে হাজির হয়েছে। আমরা দেশে গণতন্ত্র-ন্যায়বিচার চাই। আইনের শাসন চাই। সে লক্ষ্যে দেশের বিজ্ঞ আইনজীবী গণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নাই।
হাসান তারিক চৌধুরী আরো বলেন, বার সমিতিসমূহ দলীয় লেজুড়বৃত্তি নোংরা ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে বার সমিতি সমূহকে রাজনৈতিক দলের লেজুড় সংস্কৃতির কবল থেকে রক্ষার কোনো বিকল্প নাই। সে লক্ষ্যে বারসমূহের সংবিধান সংশোধন এবং বার কাউন্সিলের স্থায়ী নির্দেশনার কোনো বিকল্প নাই।
আজ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীগণ নিজের কোট-গাউন রাখার জায়গা পান না। নিজের কাঁধকে হ্যাংগার বানিয়ে তাঁরা আইন পেশা পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টে একটি বহুতল বিশিষ্ট আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণের দাবি সব সরকারই উপেক্ষা করেছে। অথচ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান জরাজীর্ণ ভবন যে কোনো মুহূর্তেই ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পতিত স্বৈরাচারের মতোই এখন সুপ্রিম কোর্ট বারসহ দেশের বিভিন্ন বারসমূহ অন্যায়ভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। যথাসময়ে বারসমূহের নির্বাচনের দাবিকে অযৌক্তিক এবং অন্যায়ভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।