মুক্তিযুদ্ধ ও কমরেড অমূল্য লাহিড়ী

রণেশ মৈত্র

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কমরেড অমূল্য লাহিড়ী একটি নাম। পাবনা জেলার বিপ্লবী আন্দোলনে, কৃষক আন্দোলনে, কমিউনিস্ট আন্দোলনে এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে, পাকিস্তানের নিষ্ঠুর গণবিরোধী, বর্বর শাসকগোষ্ঠীবিরোধী আন্দোলনে, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে আজীবন ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রামে বিপুল অবদান রেখে যান পাবনার লাহিড়ীমোহনপুরের কমরেড অমূল্য লাহিড়ী। তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রায় নব্বই বছর বয়সে। তাঁর জীবনে ব্যক্তিসুখের কল্পনা কদাপি ছিল না–ছিল না পারিবারিক জৌলুসেরও। যা কিছু পৈত্রিক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি পেয়েছিলেন তার সবই ব্যয়িত হয়েছে দেশ ও দশের জন্য তাঁরই হাত দিয়ে। তিনি ছিলেন একজন সর্বত্যাগী মানুষ। আমাদের দাদা, কারও বা কাকা। এবং অপরিহার্যভাবে সবার কমরেড। ’৮০-এর দশকে বা ’৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে যখন আমি নিয়মিত ওকালতি করতাম তখন লাহিড়ীমোহনপুর থেকে পাবনা এলেই তিনি বার লাইব্রেরিতে গিয়ে অবশ্যই আমার সঙ্গে দেখা করতেন, খবরাদি আদান-প্রদান করতেন। অবশ্যই সেগুলো কমিউনিস্ট পার্টি সংক্রান্ত খবরাখবর। ওই সময়ে তাঁকে এক পেয়ালা চা আনিয়ে দিয়ে একটি ছোট রুমে তাঁকে নিয়ে নিরিবিলি কাগজ-কলম হাতে বসেছি তাঁর স্মৃতিকথা নোট করার জন্য। হয়ত আধা ঘণ্টা ধরে নোট করে তাঁকে থামতে বলতাম, অপেক্ষমাণ লোকজনদের সঙ্গে অন্য রুমে বসে কথাবার্তা বলে ফিরে এসে কিছুক্ষণ আগে যা যা বলেছেন সেগুলোর পুনরোক্তি করতে বলতাম তাঁর দেয়া তথ্যগুলো যাচাই করার লক্ষ্যে। বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করতাম, দ্বিতীয় দফায় তিনি যা বলছেন তা প্রথমবারের সঙ্গে শুধু অসঙ্গতিপূর্ণই নয়–অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধীও। অমূল্য লাহিড়ীর বয়স যখন বারো-তেরো, তখন অমূল্য দা বিপ্লবী দল অনুশীলন পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে সশস্ত্র বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হন। অনুশীলন পার্টির সঙ্গে বেশ কিছুকাল তিনি সম্পৃক্ত থাকেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীকালে কারাগারে এবং দ্বীপান্তরে থাকাকালে তাঁর যোগাযোগ হয় বহু বিপ্লবীর সঙ্গে। ওখানে তখন সন্ত্রাসী বিপ্লবীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইংরেজরা বহু মার্কসবাদী বই বন্দিদের মধ্যে সরবরাহ করেছিল। বিপ্লবী বন্দিরা সেগুলো গভীরভাবে পড়াশোনা আলাপ-আলোচনা করেন এবং অনেকেই তখন সন্ত্রাসবাদী পথ পরিত্যাগ করে মার্কসীয় তত্ত্বে দীক্ষিত হন। অমূল্য দা-ও তাঁদের মধ্যে একজন। বন্দিদশা থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে কলকাতায় কমরেড মুজাফফর আহমেদের সঙ্গে। তিনি তাঁকে শ্রমিক আন্দোলানে যোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবন তো শহুরে জীবন নয়। কলকাতা থেকে চলে আসেন তিনি লাহিড়ীমোহনপুরে। যোগ দেন কৃষক আন্দোলনে। একপর্যায়ে সিপিআই নিয়ন্ত্রিত সারা ভারত কৃষক সভার বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির কার্যকরী সংসদের একজন সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত সারা ভারত কৃষক সভার ঐতিহাসিক সম্মেলনেরও তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃষক সমিতির সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। বাল্যকালেই তিনি সমবায় আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন এবং পৈত্রিক সম্পত্তির একটি বড় অংশ সমবায় সমিতিকে দিয়ে উল্লাপাড়া থানার একটি অঞ্চলজুড়ে কৃষি সমবায় গড়ে তুলেছিলেন। তার সুফল কৃষক সমাজ পেয়েছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই তিনি ওই এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সম্ভবত পার্টির নির্দেশে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং একপর্যায়ে কংগ্রেসের পাবনা জেলা কমিটির (হালের পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা মিলে) সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন। অমূল্য দা জেল থেকে ১৯৫৩ সালে বেরিয়ে আসার পর একে একে আমিনুল ইসলাম বাদশা, বাবর আলী, প্রসাদ রায় প্রমুখ কারাগারে আটক পাবনা জেলার সকল কমিউনিস্ট বন্দিই ১৯৫৪ সালের প্রথম দিকের মধ্যে মুক্তিলাভ করেন। কিন্তু সকলকেই নিজ শহরে বা থানা এলাকায় অন্তরীণ থাকতে হয় জেলগেট থেকেই পাওয়া নিষেধাজ্ঞা মানতে, নইলে আবারও আটক হওয়ার আশঙ্কা থাকত। কমিউনিস্ট পার্টি তখন বেআইনি। আন্ডার গ্রাউন্ডে গোপনে তাঁরা পার্টির কাজও পরিচালনা করতেন। কিন্তু পাবনা জেলার অনেক কমরেডই দেশবিভাগ এবং পাকিস্তান সরকারের নির্যাতনের হাত এড়াতে দেশত্যাগ করেন। ফলে উপরোক্ত ক’জন, সেলিনা বানু, সিরাজগঞ্জের আবু বকর সিদ্দিকী এবং কয়েকজন পার্টি সদস্য থাকলেন পাবনা জেলায়। তাঁরা সম্ভবত ১৯৫৩ বা ’৫৪ সালে গোপনে লাহিড়ীমোহনপুরের কাছাকাছি কোথাও রাতের বেলায় সমবেত হয়ে জেলা সম্মেলন করে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক নির্বাচিত হন অমূল্য দা। কৃষক সমিতির নেতা হিসেবে কমরেড অমূল্য লাহিড়ী তাঁর নিজ গ্রাম লাহিড়ীমোহনপুরে ’৬০-এর দশকে এক বিশাল কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষাধিক কৃষক ছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য কৃষক নেতা ও কর্মী তাতে যোগদান করেন। লাহিড়ীমোহনপুর তো বটেই, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার কোন মানুষই আজ পর্যন্ত অতবড় কৃষক সমাবেশ দেখেননি। দুঃখের বিষয়, ওই কৃষক সমাবেশের আগে থেকেই আমি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকায় সম্মেলনটিতে যোগ দিতে বা তা দেখার সৌভাগ্য ঘটেনি। ষাটের দশকের গোড়ার বা পঞ্চাশের দশকের একদম শেষের দিককার কথা। হঠাৎ শুনি অমূল্য দা’কে গ্রেফতার করেছে ভোরে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে। কি ব্যাপার? তাঁর বাড়িতে ভারতীয় কংগ্রেসের পতাকা এবং গোপনে রাখা বোমা পেয়েছে পুলিশ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দেয়া হয়েছে যার বিচার হবে বিশেষ সামরিক আইন আদালতে যশোরে। কাজেই জামিনের তো প্রশ্নই ওঠে না। স্পেশাল বা সামরিক মিলিটারি ট্রাইব্যুনালের বিচারক থাকতেন সামরিক বাহিনীর অফিসাররা আর তাঁরা সবাই ছিলেন অবাঙালি, পশ্চিম পাকিস্তানী। সুতরাং দুশ্চিন্তা আমাদের সবার মনে বাসা বেঁধেছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচার শেষে রক্ষা পাওয়া গেল দুটি কারণে। প্রথমত, ওই আদালতে আইনজীবী দেয়া যেত এবং যশোরের ভাল একজন ফৌজদারি আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিচারক পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক কর্মকর্তা হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন লঁফরপরধষ সরহফ সম্পন্ন ব্যক্তি এবং আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিচারকালে আদালত অমূল্য দা’কে জিজ্ঞেস করেন, ওই পতাকা কেন তাঁর বাড়িতে পাওয়া গেল। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিছুকাল পাকিস্তান পূর্বকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক থাকার কথা এবং সেই সুবাদে পতাকাগুলো বাসাতেই থেকে যাওয়া এবং তার পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী ওই পতাকার কাপড়গুলো দিয়ে বালিশের খোল বানানোর কথা বলেন। আদালত তা স্বাভাবিক বিবেচনা করে অমূল্য দা’র বক্তব্য সত্য বলে গ্রহণ করেন। বোমার ব্যাপারটিতে দেখা গেল একটি খালি কৌটা এবং তার মধ্যে দুটি ব্যবহৃত টর্চলাইটের ব্যাটারি এবং সামান্য কিছু তার ওই কৌটায় ঢোকানো। পুলিশ তাকেই বোমা বলে উল্লেখ করে আলামত হিসেবে আদালতে দাখিল করে। আদালত তা পূর্বেই যথারীতি বোমা বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করে তার রিপোর্টে বিষয়টি যে আদৌ বোমা নয় বরং সবই ফেলে দেয়া ব্যবহৃত জিনিস তা উল্লেখ করায় অমূল্য দা’কে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে (যিনি ওই মামলার বাদী) রীতিমতো প্রকাশ্যে গালাগাল করে আর কাউকে এভাবে হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন এবং করলে চাকরিচ্যুতির ভয়ও দেখান। তবুও এ দফায় তাঁকে প্রায় তিন বছর হাজত খাটতে হয়। এবং তাঁকে জীবনে সম্ভবত সাকুল্যে প্রায় দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর জেলেই কাটাতে হয়। অমূল্য দা, বৌদি, মেয়ে আপেল ও অঞ্জলি এবং দুই ছেলে নিয়ে গঠিত ওই সংসার। জীবনের বিশাল অংশ জেলে কাটাতে হওয়ায় এবং অপরদিকে সাংগঠনিক রাজনৈতিক, কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ততাজনিত কারণে সংসারের প্রতি উপযুক্ত নজর দিতে পারেননি এটা যেমন সত্য, তেমনি আবার এ কথাও সত্য যে, যতদিন সংসারের একজন হয়ে বাড়িতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন ততদিনই তিনি ছিলেন তাঁর সংসারের একজন যোগ্য অভিভাবকও। গ্রামের এবং আশপাশের এলাকার মানুষের একজন প্রিয় ‘বাবু’ এবং তাঁরা ‘বাবু’ বলেই ডাকতেন তাঁকে। এই ডাকের মধ্য দিয়ে তাঁর পারিবরিক সামন্ত জমিদারি পরিচিতির গন্ধও দিব্যি ফুটে ওঠে। সকল কমরেডই তাঁর কাছে ছিল প্রায় সন্তানতুল্য। কারণ সবার সঙ্গেই বয়সের ফারাক ছিল অনেক। প্রকৃত প্রস্তাবে অমূল্য দা’র রাজনৈতিক জীবন শুরুর সময় থেকে মধ্যজীবন পর্যন্ত যাঁরা তাঁর সহর্কর্মী বা সমসাময়িক ছিলেন পাবনা জেলায়– মৃত্যু অথবা দেশত্যাগজনিত কারণে তাঁদের কেউই আর এদেশে নেই। তাঁর এমন পিতৃসুলভ আচরণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা যাঁদের হয়েছে আমি তাঁদের অন্যতম। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চে পাকবাহিনী গভীর রাতে এসে পাবনা শহরকে তাদের দখলে নেয়। পাবনার তদানীন্তন জেলা প্রশাসক নূরুল কাদের এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি আমজাদ হোসেন এমএনএর নেতৃত্বে ছাত্র-যুবক-পুলিশ-আনসার সমবায়ে গঠিত প্রতিরোধ বাহিনীর সুকৌশল যুদ্ধ পরিচালনায় পাবনাতে আগত দুই শত পাকসেনা ও কর্মকর্তাকে খতম করে ২৯ মার্চ পাবনা মুক্ত হয়। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ওয়ালী) ওই প্রতিরোধ যুদ্ধে বিশাল ভূমিকা রাখেন। তখন এই শক্তিগুলো সমবায়েই গঠিত হয়েছিল একটি হাইকমান্ড। পাবনা মুক্ত করার ব্যাপারে প্রতিরোধ যুদ্ধে পদ্মার চরে অধিবাসী হাজার হাজার কৃষকের অংশগ্রহণ নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছিল। হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ এপ্রিল আমি আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনসহ কলকাতা যাই–উদ্দেশ্য দ্বিতীয় হামলা প্রতিরোধের জন্য ভারী অস্ত্র ও প্রশিক্ষক সংগ্রহ করে আনা। দেখা হয় কৃষক নেত্রী কমরেড ইলা মিত্র ও তাঁর স্বামী কমরেড রমেন মিত্রের সঙ্গে। তাঁরা কমরেড বিশ্বনাথ মুখার্জির মাধ্যমে দেখা করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জীর সঙ্গে। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে জানাবেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। দিল্লি থেকে ডেকে পাঠানো হলো আমাদের। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বললেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে আসছেন কলকাতায়। অপেক্ষাও করতে পারেন। আমরা অপেক্ষা করলাম, ইতোমধ্যে ১০ এপ্রিল পাবনার দ্বিতীয় দফা পতন ঘটে যায়। অমূল্য দা তখনও কলকাতা পৌঁছাননি। ইলা মিত্রের বাড়িতেই দেখা হলো কমরেড মণি সিংহের সঙ্গে। মণি দা পার্টির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত জানালেন। বললেন, নিজ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে রিক্রুটমেন্ট ক্যাম্প স্থাপন করতে। দেশ থেকে আসা ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী সমর্থকরা সেখানে থাকবেন, পরে প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্ত্রসহ দেশে পাঠানো হবে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে। সে অনুযায়ী শামসুজ্জামান সেলিমসহ গেলাম নদীয়া জেলার করিমপুরে একটি টিনের চালাঘর ও আঙিনাসহ ভাড়া নিয়ে পাবনা জেলার ন্যাপ, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ যুবশিবির স্থাপন করি। পরিচালনার দায়িত্ব আমার ওপর থাকল রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেয়ার দায়িত্বসহ। ইতোমধ্যে অমূল্য দা কলকাতা পৌঁছে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখা করেন এবং তরুণদের উৎসাহিত করেন। তিনি অবশ্য কলকাতা থাকলেন। এভাবে নয় মাসব্যাপী কয়েকশো তরুণকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে করিমপুর ক্যাম্প থেকে সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। কমরেড প্রসাদ রায় জুন মাস নাগাদ করিমপুর ক্যাম্পের অন্যতম দায়িত্ব নিয়ে আসেন। সেই থেকে দু’জন মিলে ক্যাম্প চালাতাম। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হওয়ার পর ২৫ ডিসেম্বর আমরা করিমপুর ক্যাম্প তুলে দিয়ে ট্রাকে চড়ে সরাসরি চলে আসি মুক্ত স্বাধীন পাবনায়। দেশে ফিরে এসে অমূল্য দাসহ আমরা পার্টি পুনর্গঠন ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করি। অমূল্য দা ন্যাপের সভাপতির দায়িত্ব ত্যাগ করে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ওই দায়িত্ব তিনি পালন করেন। লেখক : সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..