গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট নানা কর্মসূচি পালন করবে সিপিবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম দিন গত ৪ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে যথাযথ মর্যাদায় ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস এবং তার আগে ১৮ই জুলাই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ছাত্রনেতা মাহমুদুল হাসান রিজভীর মৃত্যুদিবসে দেশব্যাপী সমাবেশ, গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিশেষ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও পক্ষকালব্যাপী সারাদেশে জেলা উপজেলায় নানামুখি কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায়- সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে, অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় গণতন্ত্র ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। সকাল ১১ টায় শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি করণীয় এবং সংস্কার বিষয়ক আলোচনা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লুনা নূর। সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংগঠকবৃন্দ ও কন্ট্রোল কমিশনের সদস্যবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন। সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির এই সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সুনির্দিষ্ট করণীয়, ত্রয়োদশ পার্টি কংগ্রেস, সর্বোচ্চ পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানা আলোচনা করা হয়। সভায়, দেশের বর্তমান সংকট উত্তোলনে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের সুনিশ্চিত তারিখ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও, রাখাইনে করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের কাছে লিজ দেওয়া, দেশে অন্যদেরকে সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা, স্টার লিংক এর সাথে চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা নেয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দেশে শ্রমজীবী বিভিন্ন মানুষের সংকট বৃদ্ধি, আয় কমে যাওয়া, বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মব সন্ত্রাসের নামে জীবনকে অস্থিতিশীল করে তুলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়। সভায় সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়, সিপিবি দেশে শোষণমুক্ত সমাজ, তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। এজন্যই বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কর্মরত রয়েছে, এর মধ্য দিয়েই সিপিবি সমাজ ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন অর্থাৎ মৌলিক সংস্কার করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সংগ্রাম অগ্রসর করতে হবে। একই সাথে বর্তমান সরকার যদি গণতন্ত্র উত্তরণে ইতিবাচক সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করা হবে। কিন্তু সংস্কারের নামে একাত্তরের বিপরীতে ৪৭ কে প্রতিস্থাপন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানের চার মূলনীতিকে সরিয়ে ফেলার মতো যে কোন ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..