চীনের বিপ্লব

চায়না মিডিয়া গ্রুপ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোন সম্রাট, কোন ক্ষমতাসীন শাসক, সবাইকে ‘প্রবল, দুর্বল, শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা’ চক্রের ঐতিহাসিক নিয়মে চলতে হয়েছে। তবে শত বছরের সিপিসি ইতিহাসের এ নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসেছে কিভাবে? চীনের প্রেসিডেন্ট এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তা হলো- পার্টির আত্মবিপ্লব। ২০২৪ সালের ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৩তম বার্ষিকী। গত ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ৭৫ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে সিপিসি। যা বিশ্বের ইতিহাসে অব্যাহতভাবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করা রাজনৈতিক দল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোন সম্রাট, কোন ক্ষমতাসীন শাসক, সবাইকে ‘প্রবল, দুর্বল, শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা’ চক্রের ঐতিহাসিক নিয়মে চলতে হয়েছে। তবে শত বছরের সিপিসি ইতিহাসের এ নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসেছে কিভাবে? চীনের প্রেসিডেন্ট এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তা হলো- পার্টির আত্মবিপ্লব। ‘আত্মবিপ্লবের’ কথা বললে কয়েক হাজার বছরের চীনা সংস্কৃতির বিপ্লবের কথা বলতে হয়। বিপ্লব শব্দটি ২২০০ বছরের আগে প্রাচীন ক্লাসিক গ্রন্থ ‘ই চিং’এ পাওয়া যায়। বিপ্লবকে চীনা ভাষায় বলা হয়, কে মিং। কে মানে বিপ্লব। মিং মানে ভাগ্য। প্রাচীন লোকরা মনে করত, রাজাদের ভাগ্য স্বর্গ থেকে নির্ধারিত। তাই সম্রাট পরিবর্তন করা মানে বিপ্লব। একশ বছরের বেশি আগে মার্কসবাদ চীনে প্রচারিত হয়। মার্ক্সবাদের তত্ত্ব অনুসারে উৎপাদন সম্পর্কে যখন উৎপাদন শক্তির বিকাশ সীমাবদ্ধ হয়, তখন ‘সামাজিক বিপ্লব’ আসে। একই সঙ্গে মার্কস ও এঙ্গেলস-এর রচনায় এ ধরনের আলোচনাও রয়েছে যে, “যে রাজনৈতিক সংগঠন শাসক শ্রেণীকে উৎখাত করে, তাকে প্রথমে নিজের মধ্যে নোংরা বিষয়গুলো পরিত্যাগ করতে হবে, যাতে সে সমাজ পুনর্গঠনের কাজে যোগ্য হতে পারে।” এতে দেখা যায় যে, শাসক দল যদি সামাজিক বিপ্লব প্রচার করতে চায়, তবে প্রথমে তাদের নোংরা এবং অপ্রচলিত জিনিসগুলি পরিত্যাগ করে ‘আত্ম-বিপ্লব’ চালাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, সিপিসি’র তাত্ত্বিক ব্যবস্থায়, পার্টি নিজেকে একটি শাসক দল এবং একটি বিপ্লবী দল হিসাবে বিবেচনা করে। ‘শাসন’ ও ‘বিপ্লব’ এর মধ্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে সিপিসি। পার্টি ক্ষমতায় থাকলে বিপ্লবের প্রয়োজন নেই, এমন সহজ সম্পর্ক মনে করে না পার্টিটি। কারণ, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সিপিসি সর্বদাই উৎপাদন শক্তি প্রচার করছে এবং উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের দ্বন্দ্বের সমাধান করছে। যতদিন সিপিসি সামাজিক বিপ্লবের অগ্রগতি করছে, ততদিন তাকে অবশ্যই “আত্ম-বিপ্লব” করতে হবে। রাজনৈতিক বিপ্লবের কাজ সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হলেও সমাজ বিপ্লবের কাজটি সর্বদাই সঠিক পথে রয়েছে। তাই, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং, মার্কসবাদের মূল নীতিগুলোকে চীনের নির্দিষ্ট বাস্তবতা এবং চীনের চমৎকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে একত্রিত করেছেন এবং “পার্টির স্ব-বিপ্লব” প্রস্তাব করেছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বের বৃহত্তম মার্কসবাদী শাসক দল হিসাবে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বড় হলেও অনেক অসুবিধা রয়েছে। যাকে মনে রাখতে হবে শাসনের পরীক্ষা, সংস্কার এবং উন্মুক্তকরণ পরীক্ষা, বাজার অর্থনীতির পরীক্ষা। বাইরের পরিবেশ এবং মানসিক শিথিলতার সমস্যা, সামর্থ্যের অভাব, জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নিষ্ক্রিয় ও দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার বিপদ দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই পার্টির আত্মবিপ্লবের যাত্রা সব সময় স্থায়ী হতে হবে। তিনি এই তত্ত্বের অর্থ ও প্রক্রিয়াগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যথা: স্ব-শুদ্ধি– দলের দুর্নীতি নির্মূল করা, আত্ম-বিন্যাস: ক্ষতিপূরণ করা। আত্ম-উন্নয়ন: স্ব-উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং স্ব-উন্নতি: বাধা অতিক্রম করা। সি চিন পিং শুধুমাত্র নতুন যুগে ক্ষমতাসীন দল গঠনের মৌলিক তত্ত্ব হিসাবে ‘আত্ম-বিপ্লব’ এগিয়ে রাখেননি, বরং ‘আত্ম-বিপ্লব’ এর মহান অনুশীলন পরিচালনা করার জন্য ৯ কোটি ৮০ লাখ সিপিসি সদস্যদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে তিনি ক্রমাগতভাবে পার্টির স্ব-বিপ্লবী পদ্ধতির প্রতিষ্ঠান এবং নিয়মাবলী উন্নত করেছেন, পার্টির ব্যাপক এবং কঠোর শাসন প্রচার অব্যাহত রেখেছেন, ভাল আচরণ ও শৃঙ্খলা জোরদার করেছেন। তিনি গোটা পার্টি এবং দেশের জনগণকে নিয়ে চীনা বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পয়লা জুলাই চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিসি’র সরকারি জার্নাল ‘ছিউশি’তে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিংয়ের লেখা ‘নতুন যুগ ও নতুন যাত্রায় সিপিসি’র দায়িত্ব ও কাজ’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রবন্ধটি হলো ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর সিপিসি’র বিংশ জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধি সম্মেলনে উল্লেখিত সি চিন পিংয়ের প্রতিবেদনের একটি অংশ। প্রবন্ধটিতে বলা হয়, তখন থেকে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় দায়িত্ব হলো সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ও নেতৃত্ব দিয়ে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়া, দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্য অর্জন করা এবং চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের মাধ্যমে চীনা জাতির মহান সমৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা। প্রবন্ধটিতে আরো বলা হয়, চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন হলো সিপিসি’র নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন। বিভিন্ন দেশের আধুনিকায়নের অভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে এবং নিজের অবস্থা-ভিত্তিক চীনা বৈশিষ্ট্য আছে। চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হলো: সিপিসি’র নেতৃত্ব বজায় রাখা, চীনা বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্র বজায় রাখা, উচ্চ মানের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা, পুরো প্রক্রিয়ায় জনগণের গণতন্ত্র বিকাশ করা, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সুরেলা সহাবস্থান প্রচার করা, মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলা বেগবান করা এবং মানবসভ্যতার একটি নতুন রূপ তৈরি করা। প্রবন্ধটিতে বলা হয়, বর্তমানে আমরা চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে খুব কাছাকাছি আছি, আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি, আমাদের আরও কঠোর প্রচেষ্টার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সূত্র : ছাই ইউয়ে মুক্তা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ এবং সিএমজি বাংলা

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..