কমিউনিস্ট মতাদর্শে একতার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক
হায়দার আকবর খান রনো
বাংলাদেশে এখন অনেক বিশাল আকারের খবরের কাগজ, টেলিভিশন ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম রয়েছে। এগুলোর মালিক বড় বড় ধনীক গোষ্ঠী। বুর্জোয়া প্রচার মাধ্যম কখনোই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে যেতে পারে না। মেহনতি মানুষের শ্রেণি সংগ্রামকে খাটো করে দেখানোই এসব প্রচার মাধ্যমের অন্যতম লক্ষ্য। এমনকি আমাদের দেশের বুর্জোয়া শ্রেণি চরিত্রগতভাবে লুটেরা ধরনের এবং সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের মালিকানাধীন সংবাদপত্রে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিফলিত হতে পারে না। এই জন্য কমিউনিস্টদের নিজস্ব ভিন্ন চরিত্রের প্রচার মাধ্যম দরকার। ‘একতা’ সেই ধরনেরই একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
আজ থেকে একশ’ বছরেরও বেশ আগে লেনিনের তার বিখ্যাত ‘কী করিতে হইবে’ শীর্ষক গ্রন্থে সারা রুশ দেশব্যাপী একটি একক পত্রিকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। লেনিনের উদ্যোগেই রাশিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টির (তখন নাম ছিল সোশ্যাল ডেমোক্রেট পার্টি) মুখপত্র হিসেবে ‘ইস্ক্রা’ নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। সেই পত্রিকা তখন গোপনে বিদেশে ছাপা হতো এবং চোরা পথে রাশিয়ায় প্রবেশ করত। লেনিন এই পত্রিকাকে একই সাথে প্রচারক ও সংগঠক হিসেবে অভিহিত করেন। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রের এই দ্বিবিধ চরিত্র এখনো প্রাসঙ্গিক।
১৯১২ সালের দিকে রাশিয়ায় আবার নতুন করে বিপ্লবী জোয়ার শুরু হলে তখন প্রকাশ্যে পত্রিকা বের করার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন বলশেভিক পার্টি ‘প্রাভদা’ নামে একটি পত্রিকা বের করে। বারবার পুলিশী আক্রমণে প্রাভদার প্রকাশনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপরও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই প্রাভদা প্রকাশিত হতে থাকে এবং তার পাঠক সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। এই দৃষ্টান্তটি আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।
আরও আগে ১৮৪৮ সালে (১ জুন) জার্মানির বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় কার্ল মার্ক্স কোলন থেকে ‘নয়ে রাইনিশে জাইটুং’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকায় কার্ল মার্ক্স বিপ্লবে শ্রমিক শ্রেণির কর্তব্যের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অনেক বিষয়াবলি তুলে ধরেন। পত্রিকার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। কার্ল মার্ক্স তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে তার অর্ধেক দান করেন এই পত্রিকার জন্য এবং বাকি অর্ধেক দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের শ্রমিকদের অস্ত্র কেনার জন্য। বিপ্লব পরাজিত হলে পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। এবং কপর্দকশূন্য কার্ল মার্ক্স ইংল্যান্ডে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
এই সকল কথা বলার উদ্দেশ্য হলো পত্রিকা কমিউনিস্টদের জন্য কী পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিস্ট পার্টি বুর্জোয়া প্রচারের ওপর নির্ভর করতে পারে না। তার অবশ্যই থাকতে হবে নিজস্ব মুখপত্র, কমপক্ষে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা তা যত ছোট আকারেই হোক না কেন। ‘একতা’ সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অর্ধ শতাব্দীর বেশি কাল ধরে এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে আসছে। পার্টি চেষ্টা করেছে এই পত্রিকার মাধ্যমে তার মতামত তুলে ধরতে। পার্টির মুখপত্র পার্টির সংগঠনের মাধ্যমেই বিতরণ করতে হবে এবং পাঠকরা দাম দিয়েই তা কিনবে। এইভাবে পত্রিকা পালন করবে সংগঠকের ভূমিকা। একই সঙ্গে পার্টি সভ্য, সমর্থক ও দরদীদের অর্থ সাহায্যের ওপরই দাঁড়াবে এই মুখপত্র। বিগত অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা পর্যালোচনা করতে পারব এই কাজ পার্টি কতটা সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছে। আমি এই সংক্ষিপ্ত লেখায় সেই আলোচনায় যাচ্ছি না।
তবে একটি কথা বলতে চাই, পার্টির মুখপত্র কেবলমাত্র পার্টির বক্তব্য ও কিছু তাত্ত্বিক লেখা দিয়েই ভরলে চলবে না। এর মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে বাংলাদেশের ও সারা দুনিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়াবলি। লেখার মানকে উন্নত করতে হবে। বিভিন্ন রচনার মধ্যে যেমন প্রতিফলিত হবে মার্ক্সীয় ও লেনিনীয় দৃষ্টিভঙ্গি, তেমনই তার মধ্যে নান্দনিক উৎকর্ষতাও থাকতে হবে। আমি আশা করব ‘একতা’ সেই পথে আরো অগ্রসর হবে।
বিশেষ রচনা
গণমাধ্যমের গলায় দড়ি
সকল বাধা মোকাবিলা করে একতা এগিয়ে যাবেই
শাসকদের ‘উন্নয়ন’ থেকে জনগণের অভ্যুত্থান এবং তারপর
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি কি ঔপনিবেশিক অর্থনীতির নতুন রূপ?
বাংলাদেশে নয়া উদারবাদ উৎপত্তি-বিকাশ ও সংকট
কমিউনিস্ট দৈনিক ‘স্বাধীনতা’
ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেয় না
যুদ্ধ ও করণীয়
একতার অবিচল পথচলা শেষ হয় না
চব্বিশের কাঠগড়ায় বুর্জোয়া রাজনীতি এবং শ্রমিক শ্রেণির শিক্ষা
সংবাদপত্র ও রাজনীতি
একতার লড়াই চলছে, চলবে
পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া
ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি
একতার জন্য প্রত্যয়
সত্যেনদার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে
একতা পড়ো, শ্রমিক শ্রেণির একতা গড়ো, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করো
অধিকারের সংগ্রামে অদম্য ‘একতা’
কমিউনিস্ট পার্টি ও কার্ল মার্কসের প্রাসঙ্গিকতা
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন