প্রস্তাবিত বাজেট বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট দেশের বিশাল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। প্রস্তাবিত এই বাজেট ঘোষণার পর গত ১২ জুন এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ লাখের অধিক চালক ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকে এই বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেহনতি মানুষের কল্যাণমুখী বাজেট হতে পারে না। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি ব্যাটারিচালিত গাড়ির লাইসেন্স বিষয়ের অনুপস্থিতি ও সামাজিক সুরক্ষায় শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের তথা মেহনতি মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমন কঠিন সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো পর্যাপ্ত বরাদ্দ বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। হাড়ভাঙা খাটুনি খাটা এই শ্রমিকদের জন্য সুলভ মূল্যে স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় আপদকালীন চিকিৎসা তহবিল কিংবা শহর অঞ্চলে তাদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থার মতো অতি জরুরি বিষয়গুলো বাজেটে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইকের প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার এই বিশাল খাতকে নিয়মের মধ্যে এনে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাত থেকে নিবন্ধন সংক্রান্ত আয় বা সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ রাখা হয়নি। নিবন্ধন না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ চালকদের স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও একশ্রেণির চাঁদাবাজের চরম হয়রানি ও উচ্ছেদের শিকার হতে হচ্ছে। বাজেটের এই উদাসীনতা প্রকারান্তরে চাঁদাবাজদেরই উৎসাহিত করবে ও সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই বাজেট সংশোধন করার জোর দাবি জানান। তারা ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’র দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটিয়ে নামমাত্র ফিতে বিআরটিএ (ইজঞঅ) কর্তৃক যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের আহ্বান জানান। সড়কে পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের জন্য বাজেটে বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা তহবিল ও স্থায়ী রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসাথে বাজেটে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনে প্রণোদনার মত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শিল্পবান্ধব উদ্যোগ আরও বৃদ্ধির দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..