ক্ষেপণাস্ত্র-সংকটে ইউরোপ, সুবিধাজনক অবস্থানে রাশিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘোষণা করেছিলেন ইউরোপ ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, তখন মহাদেশটিতে থাকা তাঁর মিত্ররা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল। প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জার্মানিতে মোতায়েন করার কথা ছিল। এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপে ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার অঙ্গীকারের একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছিল। বাইডেন সেদিন যা মুখে বলেননি, কিন্তু ন্যাটোর সেনাপ্রধানেরা খুব ভালো করেই জানতেন, সেটা হলো রাশিয়ার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার যে মারাত্মক ঘাটতি ছিল, এই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তা পূরণ করতে যাচ্ছিল। ইউরোপের কাছে সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য টমাহক এবং একই ধরনের দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুত আছে। কিন্তু রাশিয়ার অভ্যন্তরে থাকা ডুবোজাহাজ রাখার ঘাঁটি (সাবমেরিন পোর্ট) ও বিমানঘাঁটির মতো গভীর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সমকক্ষ কোনো অস্ত্র তাদের ছিল না। অন্যভাবে বলতে গেলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল অপরিহার্য। আর এগুলো যত দ্রুত জার্মানিতে মোতায়েন করে রুশ ঘাঁটিগুলোর দিকে তাক করে রাখা যেত, ততই ভালো ছিল। কিন্তু দুই বছর পর বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জার্মানির সঙ্গে এক বিতণ্ডার জেরে টমাহক সরবরাহ বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ইউরোপীয় মিত্রদের স্তম্ভিত করে দিয়েছেন। এর ফলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইউরোপের দুর্বলতা আবারও প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বার্লিনকে এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা হয় আবার আমেরিকানদের কাছে ফিরে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অনুনয়-বিনয় করতে পারে; অন্য কোথাও থেকে একই ধরনের অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে অথবা যৌথ ইউরোপীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে পারে। জার্মানি একই সঙ্গে এই তিনটি পথই অনুসরণের চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। এটি হয়তো পরিস্থিতি কতটা গুরুতর তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্য টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে, যে দেশটি শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসতে পারে এবং ইউরোপকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা দিতে পারে, সেটি হলো ইউক্রেন। বার্লিনের একটি কূটনৈতিক সূত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছে, ‘জার্মানি এখনো এটি (টমাহক) কেনার অথবা লাইসেন্স নিয়ে জার্মানিতে উৎপাদন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আরেকটি বিকল্প হলো ইউক্রেনের সঙ্গে কাজ করা।’ জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে মার্কিন প্রশাসনের মন গলানোর চেষ্টা করবেন তিনি। বাইডেন প্রশাসনের প্রস্তাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর মোতায়েন করার কথা থাকলেও পিস্টোরিয়াস আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে পারবেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..