যুক্তরাষ্ট্র রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করায় চীন-রাশিয়ার নিন্দা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা খুব কম। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ আনার এক দিন পর রুবিও এ কথা বলেছেন।রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন। তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ রুবিওর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না।সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোটাই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ। রুবিও আরও বলেন, ‘আমি সত্যি কথাই বলছি। তবে বর্তমানে যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি, তাতে এমন সমাধানের সম্ভাবনা খুব একটা নেই।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। ব্রুনোর অভিযোগ, রুবিও সামরিক হামলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ‘নির্দয় ও পরিকল্পিতভাবে’ কিউবার বিরুদ্ধে কাজ করছে। বর্তমানে কিউবা তীব্র জ্বালানিসংকটে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কিউবার সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অনেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। সাংবাদিকেরা মার্কো রুবিওর কাছে জানতে চান যে, রাউল কাস্ত্রোকে আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না বা করলে কীভাবে করা হবে। জবাবে রুবিও বলেন, ‘আমরা যদি তাঁকে এখানে আনার চেষ্টা করি, তবে সেই পরিকল্পনা আমি গণমাধ্যমকে কেন বলব?’মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ মিয়ামিতে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ঘোষণা করেন। টড ব্লাঞ্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, কাস্ত্রো ‘নিজ ইচ্ছায় বা অন্য কোনোভাবে’ সেখানে হাজির হবেন।রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তার বোন। এ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দেশটির অর্থনীতির লাভজনক খাতগুলোর বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।রুবিওর অভিযোগ, মোরেরা ফ্লোরিডায় বসবাস করলেও একই সঙ্গে হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে সহায়তা করছিলেন। তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে। বহিষ্কারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হেফাজতে থাকবেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ দেশ’। তাঁর প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকেরা নিজেদের দেশে ফিরে কিউবাকে সফল হতে সাহায্য করতে চান।ট্রাম্প বলেন, ‘৫০-৬০ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টরা এ বিষয়ে কী করা যায়, তা ভেবেছেন। মনে হচ্ছে, আমিই হয়তো সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব। আর আমি সেটা করতে পারলে খুশি হব।’এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মিত্রদেশ কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আর ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার ওপর যে চাপ তৈরি করা হচ্ছে তা ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ পর্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ট্রাম্প বারবারই কিউবার ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..