‘ধোঁকাবাজ’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে পাকিস্তানের অফারটা ছিল আকাশকুসুম স্বপ্নের মতো- একদম ‘অল ইনক্লুসিভ’ ডিল! যেন- এমন অফার কোথাও গেলে পাবে নাকো তুমি, / সকল দেশের সেরা অফার আমার ফাঁকিস্তানি...। বলতে গেলে- স্নাতক, স্নাতকোত্তর আর পিএইচডি পড়বেন, সঙ্গে থাকবে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, পকেট খরচের চর্ব্য-চোষ্য ভাতা, ফ্রি হোস্টেল, এয়ারপোর্টের রিটার্ন টিকেট-সব মিলিয়ে একটা এককালীন আস্ত ‘স্বাগতম প্যাকেজ’ আরকি! বিজ্ঞাপন দেখে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও আবেগে আপ্লুত হয়ে ভাবলেন, ‘পড়াশোনার বদলে এমন রাজকীয় আদর-আপ্যায়ন আর কোথায় মেলে!’ ফলে ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক ফাঁদে পা মিলিয়ে’ ঢাকার তীব্র ট্রাফিক জ্যাম আর জিলিপি কায়দার পথঘাট পার হয়ে শত শত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে হাজির হলেন। কয়েক মাস ধরে কঠিন বাছাই প্রক্রিয়া চলল। অবশেষে যখন ই-মেইল এল, আনন্দে আত্মহারা হতে যাওয়া মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা চিঠি খুলে চক্ষু চড়কগাছ! চিঠিতে লেখা- ১০০ শতাংশ টিউশন ফি মাফ করা হলো। বাকি থাকা-খাওয়া, বিমান ভাড়া, ভিসা ফি, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স- সব নিজের পকেট থেকে বুঝে নিন।’ আর ভাগ্যিস যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল নেই, তারা তো সেই আবাসনটুকু থেকেও বঞ্চিত! এমন আকাশ-পাতাল তফাত দেখে এক শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে ভাবলেন, রাজকীয় দাওয়াত পেয়ে এসে দেখেন প্লেটে কেবল খালি পানি ছাড়া আর কিছুই নেই! তবে পাকিস্তান হাই কমিশন তো স্থানে স্থানেই ফাঁকি দিয়ে অভ্যস্ত। তারা বলে দিলেন, চিন্তা করবেন না, সব যোগ্যদের সমান চোখে দেখা হবে। প্রথমে মস্ত বড় ফ্রি প্যাকেজের মুলা ঝুলিয়ে শেষে হাতে একখান ‘ধন্যবাদ’পত্র ধরিয়ে দেওয়ার নামই বোধহয় ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’! ফলে বিপুল উৎসাহে আবেদনের পর অনেকেই এখন বলছেন, “থাক, ভাই! এই ‘নলেজ করিডোর’ দিয়ে হেঁটে নিজের পকেটের খেসারত দেওয়ার চেয়ে দেশেই থাকা ভালো!”

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..