১১ দাবিতে গৃহ শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : সারাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং গৃহ শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গৃহ শ্রমিক ইউনিয়ন। গত ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা ১১ দফা দাবি তুলে ধরে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনের সভাপতি ময়না আক্তার শিশু নিখোঁজের ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গৃহ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক গৃহ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে শ্রমের ন্যায্য মূল্য, কর্মঘণ্টা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সাপ্তাহিক ছুটি ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে গৃহ শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাবেশ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সংগঠনের উপদেষ্টা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, পরিচালনা পরিষদের সদস্য শাখারভ হোসেন সেবক, সংগঠনের সংগঠক উম্মে হামি, খিলগাঁও আঞ্চলিক ফোরামের সভাপতি লাকি আক্তার, মোহাম্মদপুর আঞ্চলিক ফোরামের সহ-সভাপতি পিংকি আক্তার, সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পরিচালনা পরিষদের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি। বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সারাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গৃহ শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়। গৃহ শ্রমিকদের ১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- ১। অবিলম্বে গৃহ শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে এবং মানবিক জীবনযাপনের উপযোগী ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ২। গৃহ শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, নিয়োগপত্র, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শ্রম আইনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। ৩। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে সহজ শর্তে সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সহায়তার আবেদন ফরমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ৪। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা প্রতি মাসে একবার করতে হবে এবং তহবিল থেকে গৃহ শ্রমিকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ৫। বিদেশগামী গৃহ শ্রমিকদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে সুদবিহীন ঋণ দিয়ে বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। ৬। সব গৃহ শ্রমিক হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অপরাধী যেন প্রভাবের কারণে দায়মুক্তি না পায়। বিচার বিলম্ব বন্ধ করতে হবে এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও ভুক্তভোগী পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। ৭। গৃহ শ্রমিক নারীদের জন্য ৬ মাসের প্রসূতিকালীন ছুটি ও সুবিধা এবং সব গৃহ শ্রমিকের সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। ৮। গৃহ শ্রমিকদের শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শিশু লালন-পালন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ৯। বস্তিবাসীসহ সব গৃহ শ্রমিকের জন্য কলোনি নির্মাণ করে আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। ১০। গৃহ শ্রমিকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ১১। গৃহ শ্রমিকদের জরুরি সহায়তা ও অধিকার সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সেবা চালু করতে হবে। সমাবেশ থেকে একই সঙ্গে সারাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..