চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের, বিদেশি কোম্পানির নয়
Posted: 11 অক্টোবর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। বর্তমানে এই টার্মিনালটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আওতাধীন চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল তার সক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার করছে এবং রেকর্ড সংখ্যক মুনাফা উপার্জন করছে। এই টার্মিনাল থেকে অর্জিত আয় দিয়ে পায়রা বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের বৈদেশিক আমদানি-রপ্তানির অন্যতম লাইফলাইন। এটি বিদেশি কোম্পানির নিকট ইজারা দেওয়ার অর্থ হল বাংলাদেশের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এছাড়াও এই নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের পাশেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি শত্রুদের হস্তগত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা বলেন, এই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে মার্কিন নৌবাহিনীর চুক্তি রয়েছে, যার ভেতর দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনাধীন যেকোনো বন্দরে নোঙর করতে পারে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। শুধু অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ এই নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার জন্য বিএনপি সরকার উঠেপড়ে লেগেছে শুধুমাত্র তার বিদেশি প্রভুদের খুশি করার জন্য।
ছাত্রনেতারা আরও বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে যাদের কাছে দস্তখত দিয়ে এসেছেন তাদের খুশি করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। আমরা অবিলম্বে সরকারকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। একইসাথে চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাই।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “আমরা সরকারকে ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী গণআন্দোলনে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পরিণতি কথা স্মরণ করে দেশবিরোধী সকল সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। সরকার যদি জনগণের এই দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে তবে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।”