৪৫টি কারখানা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে চালু কর

Posted: 04 অক্টোবর, 2026

একতা প্রতিবেদক : সরকারি ৪৫টি শিল্প-কারখানা বেসরকারিকরণের নামে লুটপাটের আয়োজন বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে চালু রাখা, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন করে ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। এসব দাবিতে গত ২ অক্টোবর বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টিইউসির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টিইউসির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা ইদ্রিস আলী, সাদেকুর রহমান শামীম, হাফিজুল ইসলাম, আলী হোসেন, হকার্স নেতা সেকেন্দার হায়াত, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন, আমিনুল ইসলাম, যুব শ্রমিক নেতা দীপক শীল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং মহান মে দিবসে প্রধানমন্ত্রী বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা দেওয়ায় দেশের শ্রমজীবী মানুষ আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু তা না করে ইতিমধ্যেই সরকার—পাট, চিনি, বস্ত্র, কাগজ, সার, ইস্পাত, রাসায়নিক ও প্রকৌশলসহ সরকার ৪৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় শিল্প-সম্পদ লুটপাটের বিশেষ আয়োজন। বক্তারা বলেন, এ সব রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রকৃত মালিক জনগণ। সংবিধান অনুযায়ী সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এবং সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়া এসব করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই দেশ ও জনগণের জন্য শুভকর নয়। এছাড়া অতীতে যেসব কারখানা বেসরকারিকরণ করা হয়েছিল তার কোনটাই চালু থাকেনি। নেতৃবৃন্দ বলেন, পে-স্কেলের মাধ্যমে সরকারি আমলা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক কর্মচারীদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। অতীতের সরকারের মতোই এহেন একচোখা নীতির ফলে একদিকে বৈষম্য বাড়ছে, অন্যদিকে একই বাজারের ভোক্তা শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের পক্ষে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই স্থায়ী মজুরি কমিশন, গঠন, গার্মেন্ট ও নির্মাণসহ যেসব সেক্টরে মজুরি বোর্ডের মেয়াদ তিন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে সেসব সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন ও জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করা অতীব জরুরি। এমতাবস্থায় আশু করণীয় হিসেবে সমাবেশ থেকে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করা হয়— ১। ৪৫টি রাষ্ট্রীয় কারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে চালু করতে হবে। সকল কন্ধ কারখানা চালু এবং শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে হবে। ২। অবিলম্বে স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন ও ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে। গার্মেন্ট ও নির্মাণসহ সকল সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন ও বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে মানবিক জীবযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। ৩। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ৪। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য-তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৫। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি ও লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ৬। শ্রমিক হত্যার বিচার, ছাঁটাই-নির্যাতন-দমন-পীড়ন বন্ধ এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭। শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও আইনানুগ পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। ৮। সমকাজে সমমজুরি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন করতে হবে। ৬ মাস স্ব-বেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি আইন করে প্রদান করতে হবে। ৯। রাষ্ট্র ও সমাজে বিদ্যমান খুন, ধর্ষণ, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবজি, দখলদারিত্ব বন্ধ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।