ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ
কেন্দ্র স্থাপন বন্ধের দাবি
Posted: 06 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নন্দীপাড়া ও ঝারপাড়া মৌজায় ১৭৩.১৩ একর ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার যে প্রক্রিয়া তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জীবন থাকতে তাঁদের ফসলী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে দিবেন না। তারা বলেন, আমরাও চাই সৌরবিদ্যুৎ হোক। কিন্তু সেটি কোনোভাবেই এলাকার ফসলি জমি নষ্ট করে নয়। তারা অন্যত্র অকৃষিজ জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কারণে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে থেকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ কৃষক ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ, আসাদুজ্জামান মিলু, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস, ক্ষেতমজুর সমিতির ময়মনসিংহ জেলার সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য্য হারুন আল বারী, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য সুশান্ত দেবনাথ খোকন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির নেতা মোঃ নুরুজ্জামান, জেলা কৃষক ফোরামের নেতা আজহারুল ইসলাম আজাদ, স্থানীয় নেতা মোজাম্মেল হোসেন ও আতিয়ার রহমান।
এর আগে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নন্দীপাড়া ও ঝালপাজা মৌজার ১৭৩.১৩ একর জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনাপত্তিপত্র দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন স্থানীয় সাংসদের স্ত্রী তাসলিমা আক্তর। জানা যায়, প্রথমে কৃষি কর্মকর্তা আপত্তি জানালেও ২৭ দিনের মধ্যেই সাংসদ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের চাপে অনাপত্তিপত্র দেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবিত জমির মধ্যে এক ফসলি, দুই ফসলি জমি রয়েছে প্রায় ১৪০ একর। এখানে বসতবাড়ি ও পুকুরও আছে। এসব ফসলি জমি জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন অবশ্যই সর্মথনযোগ্য ও যুগোপযোগী একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা অনেকটা মেটানো যাবে বলেও নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন। কিন্তু এ প্রকল্প করতে হবে উপকূলীয় অব্যবহৃত জায়গা, চরাঞ্চলের মতো অকৃষি অব্যবহৃত জমি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নানাভাবে ফসলি জমি এমনিতেই কমে যাচ্ছে। তার ওপর এক ফসলি, দুই ফসলি উক্ত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে এই ফসল থেকে বঞ্চিত হবে কৃষক ও সর্বোপরি জনগণ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ কৃষি জমি ধ্বংস করে যে কোনো ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুর, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় কৃষক - ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, সাধারণ সম্পাদক অজিত সরকার, বাংলাদেশ কৃষক ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন দুলাল প্রমুখ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।