আমার ‘একতা’র স্মৃতি

Posted: 16 আগস্ট, 2026

১৯৭০ সালের ৩১শে জুলাই কমিউনিস্ট পার্টির অগ্রযাত্রার এক ঐতিহাসিক দিন। পার্টি নিষিদ্ধ থাকলেও পার্টির পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে-আমাদের তরুণ বয়সে তখন এটা একটা অত্যন্ত আনন্দদায়ক সংবাদ ছিল। ২৪শে জুলাই কমরেড সুনীল রায় আমাকে বললেন, নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল, শহর, শীতলক্ষ্যার এপাড়-ওপাড় মিলিয়ে কত সংখ্যা একতা লাগবে তা ৩১শে জুলাইয়ের ২/৩ দিন পূর্বে জানাতে হবে ‘একতা’র দপ্তর বাংলাবাজারে। আমি সমস্ত অঞ্চল ঘুরে ২৫ কপি পত্রিকা বিক্রি করা যাবে এই মর্মে কমরেড আবুল হোসেন ভাইয়ের কাছে একতা অফিসে জানিয়ে আসি। ৩১শে জুলাই পত্রিকা অফিসে গিয়ে দেখি বিরাট কর্মযজ্ঞ। সেদিন যাঁদেরকে দেখেছিলাম তাঁরা হলেন কমরেড মতিউর রহমান, কমরেড মুনিরুজ্জামান, কমরেড কুন্তল বিশ্বাস, কমরেড আবুল হোসেনসহ আরো কয়েকজন ছিলেন; এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। পত্রিকার মূল্য ছিল ২৫ পয়সা। পত্রিকা বিতরণ করতে গিয়ে আমার এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়ে গেল সপ্তাহে ২ বার শ্রমিক ব্যারাকে, শ্রমিকদের বাড়িতে, শহরাঞ্চলে, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে পার্টি কমরেড, পার্টি দরদী প্রত্যেকের সাথে একটা যোগসূত্র গড়ে তোলার। ৩১ শে শুক্রবার সকালে পত্রিকা নিয়ে এসে গোদনাইল শিল্পাঞ্চলের ২নং ঢাকেশ্বরী, চিত্তরঞ্জন, লক্ষ্মী নারায়ণ মিলে পত্রিকা বিতরণ করে শহরে নির্ধারিত কয়েকটি বাড়িতে পত্রিকা দিয়ে দুপুর দুইটা-আড়াইটা নাগাদ ভগবানগঞ্জে বিপ্লবী কমরেড প্রাণগোবিন্দ গুণের বাসায় স্নান-খাওয়া সেরে নদীর পূর্ব পাড়ে চলে যেতাম। গুণ বাবুর বড় ছেলে প্রদীপ গুণ তখন ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী–তিনি ৫ কপি পত্রিকা বিক্রি করতেন। কত স্মৃতি মনে পড়ে! কমরেড বাণী গুণ (প্রাণগোবিন্দ গুণের স্ত্রী) আমি না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। পরে নদী পেরিয়ে ডকইয়ার্ড হয়ে, চৌরাপাড়া হয়ে ১নং ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ মাইল পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছাতাম সন্ধ্যার পর। কমরেড কামাল ছিলেন সমস্ত ২নং ঢাকেশ্বরী মিলে যে ১০ কপি পত্রিকা বিলি হতো, তিনি তার দায়িত্বে ছিলেন। সিপিবি’র প্রাক্তন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তীও ১ কপির গ্রাহক ছিলেন। তখন তো আর লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সাথে আমার পরিচয় ছিল না। তিনি তখন ছিলেন নবম শ্রেণির ছাত্রী। ১নং ঢাকেশ্বরী মিলের কোয়ার্টারে সপরিবারে থাকতেন। এর মধ্যে দেশে নানান রাজনৈতিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পর আইয়ুবী দুঃশাসনের অবসান হয়ে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতাসীন হন। এবং তিনি সারা দেশে ’৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করেন। নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তারপর শুরু হয় ক্ষমতা হস্তান্তরের নানান টালবাহানা। ১ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নানাবিধ চক্রান্তের অংশ হিসাবে অবশেষে পূর্ব বাংলার গণমানুষের স্বাধিকারের প্রশ্নকে পদদলিত করে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দেয়। আবার উত্তাল হয়ে ওঠে পূর্ববাংলা। অবশেষে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে সর্বাত্মক স্বাধীনতার প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আমি এবং ‘একতা’ পত্রিকার তদানীন্তন গুরুত্বপূর্ণ সজ্জন মানুষ কমরেড মুনিরুজ্জামানসহ আরো অনেকেই রেসকোর্সের ঐ সমাবেশে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনি। পরবর্তীতে প্রকাশিত ‘একতা’ সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং তার বিশ্লেষণ নিয়ে মুনিরুজ্জামানের একটি অমূল্য লিখা প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, প্রথম দিন যে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটাসহ ৭ মার্চের পর বা পূর্বাপর ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত যেসব পত্রিকার কপি ছিল তা আমি সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যে বাড়িতে রেখেছিলাম, ঐ বাড়িটি লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করার ফলে ঐ অমূল্য লেখনিসম্বলিত পত্রিকাগুলো আর পাইনি। অবশেষে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে লড়াই-সংগ্রাম থেকে বিরত করবার জন্য বঙ্গবন্ধুর সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ইয়াহিয়া-ভুট্টোসহ অনেক নেতা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে এসে পূর্বাণী হোটেলে আলোচনা শুরু করে। আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ প্রহসন। আলোচনার নামে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে জমায়েত করতে থাকে। এদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি খান আবদুল ওয়ালী খান, মাহমুদুল হক ওসমানী, মির গাউস বক্স বেজেঞ্জু এসে ন্যাপ, আওয়ামী লীগসহ অনেকের সাথে আলোচনা করেন। ৬ দফা প্রশ্নে- পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁদের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল বলে তখন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে এলো সেই কালরাত্রির ২৫ শে মার্চ। ঐদিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। আমি যথারীতি শিল্পাঞ্চল, শহর এবং নদীর ওপাড়ের বিগত সপ্তাহের পত্রিকা বিক্রির টাকা সংগ্রহ করে ২নং ঢাকেশ্বরী বাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ধরে ঢাকা যাব পরের দিন প্রকাশিতব্য পত্রিকা আনবার জন্য। বাসস্ট্যান্ডে যাবার আগে একতার অন্যতম গ্রাহক বেতিয়ারার শহীদ শহিদুল্লার সাথে দেখা হয়। তাঁর কাছে পত্রিকার বকেয়া ছিল ৫০ পয়সা। তাঁর কাছে খুচরো ছিল না বলে সে আমাকে ১ টাকা দিয়ে বললো, দাদা, আপনাকে আমি অগ্রিম ২ কপির টাকা দিয়ে দিলাম। সেই শহীদুল্লাহ পরবর্তীতে অসীম সাহসী হয়ে বেতিয়ারা যুদ্ধে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। আমি এবং ‘একতা’ কর্তৃপক্ষ শহীদ শহিদুল্লাহর কাছে ৫০ পয়সা ঋণী হয়ে রইলাম। এই যন্ত্রণা আমার সারাজীবন থাকবে! ২৫ শে মার্চ আমি যখন ‘একতা’ অফিসে পৌঁছাই তখন ঢাকা শহরে থমথমে অবস্থা। কুন্তল বিশ্বাস, মুনিরুজ্জামান এবং আবুল হোসেন ভাই এবং আমি সর্বশেষ খবর জানবার জন্য ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে হকার্স মার্কেটের ছাদে ন্যাপ অফিসে যাই। যখন যাচ্ছিলাম তখন ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বড় বড় গাছ রাস্তায় ফেলে অবরোধে নেমে পড়ে। ন্যাপ অফিসে গিয়ে দেখি ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদকে ঘিরে ঢাকা শহরের প্রায় সব ন্যাপ নেতা, ছাত্র নেতারা উপস্থিত। কী হতে যাচ্ছে সব কিছুই সবার কাছে অজানা। ঠিক এমন সময় ন্যাপ অফিসে একটি ফোন এলো অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদের কাছে। প্রফেসর সাহেব এসে বললেন, শেখ মুজিব ফোন করেছিলেন, তিনি বলেছেন আলোচনার সকল দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভুট্টো আর ইয়াহিয়া পাকিস্তানে পাড়ি দিয়েছি। প্রফেসর সাহেব বললেন, মুজিব বললো এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রই পাকিস্তান সরকারকে গণহত্যার পথ থেকে বিরত করার অনুরোধ করেনি। পরিস্থিতি কী হয় বোঝা যাচ্ছে না। তবে সবাই যাতে ১/২ দিন সাবধানে থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করে। যাই হোক আমি এবং আমার সাংবাদিক বন্ধু চপল বাশার অফিস থেকে নেমে নানান ব্যারিকেড পেরিয়ে নীলক্ষেত দিয়ে অগ্রসর হতে থাকি। প্রতি বৃহস্পতিবার আমি সাধারণত হয় জগন্নাথ হল না হয় তাঁতীবাজার আমার মাসীর বাসায় অথবা অন্য কোনখানে রাত্রিযাপন করি। জগন্নাথ হলে আমার কিছু চট্টগ্রামের বন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র। ওরা যদি নাও থাকে ওদের রুমের চাবি থাকে কমরেড কালিরঞ্জন শীলের কাছে। ঐ রাতে জগন্নাথ হলে মৃত্যুর ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে বেঁচেছিলেন তা আরেক কাহিনী। আমার চট্টগ্রামের বন্ধুরা আগেই হল ত্যাগ করে চট্টগ্রাম চলে যায়। আমি জগন্নাথ হলে ঢুকতে যাব ঠিক এসময় বন্ধু চপল বাশার আমার হাতটা ধরে বললো, দেখ, তুমি হলের আবাসিক ছাত্র নও, রাতে যদি সেনাবাহিনী তল্লাশি চালায় তাহলে তোমার গ্রেফতার হবার আশংকা আছে। কাজেই তুমি আমার বাসায় চল, না হয় তুমি তাঁতীবাজার তোমার মাসির বাসায় যাও। ওর কথায় আর যাইনি হলে। না হয় হলের অগণিত ছাত্রের মরদেহের সাথে মৃত্যুর মিছিলে আমিও সামিল হতাম! পরে মাসীর বাসায় গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে রইলাম। মাসির বাসার কাছেই থাকতেন শ্রদ্ধেয় রণেশ দাশগুপ্ত। ২৬ তারিখ সারাদিন ছিল কারফিউ। সারাক্ষণ রণেশদার কথা ভাবছিলাম। যেভাবে ২৫ তারিখ রাত থেকে ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ চলছিল তা আমরা ঐ বাড়ির ছাদ থেকে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছিলাম। রাজারবাগ আর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচণ্ড লড়াই আর হত্যাযজ্ঞ চলছে। রণেশদাকে নিয়ে আমি ব্যাকুল হয়ে পড়ি। ভাবছিলাম কারফিউর মধ্যেও যদি তাকে এই বাসায় নিয়ে আসা যেত! কিন্তু বাইরে যাবার কোন উপায় ছিল না। পরদিন কারফিউ শিথিল হলে রণেশদার কাছে আমি যাই। তাঁতীবাজারের অতি প্রাচীন বাড়ি, অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় ছোট্ট একটি ঘর। একটি মাদুরের উপর একটি কাঁথা বিছানো। পাশি একটি মশারি আর বিছানার চারপাশে স্তূপাকৃত অগণিত বই। দেখলাম বালিশে হেললান দিয়ে সুকান্তের মতো গালে হত রেখে নিষ্পলক দরজার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমাকে দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। রণেশদার কথা অনুযায়ী আমি ঢাকা মেডিকেলে কোন আহত অথবা নিহত কোন ছাত্র-শিক্ষকের সন্ধান পাই কিনা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম শহীদ মিনারটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর কয়েকজন লোক বলাবলি করছে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোন ছাত্র-শিক্ষকই আর বেঁচে নেই। মেডিকেলের এক দাড়োয়ান বললো, ওখানে কয়েকজন মৃতপ্রায় রুগি ছাড়া সবাই পালিয়ে গেছে। যাই হোক ২৯ মার্চ কমরেড ওসমান গণি এসে রণেশদাকে নিয়ে গেলেন আর আমাকে বললেন রণেশদা সবাইকে নিয়ে বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ওপারে চলে যেতে। আমরা অবশেষে অনেক পরিবারসহ নদী পেরিয়ে বিভিন্ন পথপরিক্রমা করে, নাবাবগঞ্জ থেকে মে মাসের ২ তারিখ রওনা দিয়ে নানানভাবে মে’র ৭ তারিখ আগরতলা পৌঁছাই। পরে আমাকে কলকাতা যেতে হয় জ্ঞানদা এবং সুনীলদা পরামর্শে। সেখানে আমাকে পার্টির পার্ক সার্কাসের প্রবাসী কার্যালয়ে ফরহাদ ভাই, অনীলদা এবং শ্রদ্ধেয় রমেন মিত্র কিছু কাজে নিয়োজিত করেন আমাকে। পরবর্তীতে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে একটি জিপ যোগে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে সীমান্তবর্তী পার্টির সব ক্যাম্প হয়ে আগরতলা পৌঁছাই ১৭ ডিসেম্বর। দেশ তখন স্বাধীন। জ্ঞানদাসহ কমরেড নুরুর রহমান, একতার আবুল হোসেন ভাই এবং বেশ কয়েকজন তাঁদের শিশু সন্তানসহ নারী কমরেড তখন ছিলেন। জ্ঞানদার কাছেই আমার কাছে একতার টাকা পাওনাদার শহীদুল্লাহর বেতিয়ারা যুদ্ধে শহীদ হবার সংবাদ শুনি। ১৭ তারিখ রাতেই ‘একতা’ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে কথা হচ্ছিল একতা’র কর্মী কমরেড আবুল হোসেনের সঙ্গে। একতা প্রকাশিত হয় ৩১ জুলাই ১৯৭০ এ। অক্টোবরের দিকে আবুল ভাই আমাকে একটি চিরকুট দেখিয়েছিলেন। ঐ চিরকুটে ৯ জনের নাম ছিল। তার মধ্যে আমার নামও ছিল। অর্থাৎ সে সময়ে যারা যারা ভাল বিক্রেতা–সময় মতো টাকা পরিশোধ করে, প্রচার সংখ্যা বেশি তাদের তালিকা। আবুল ভাইকে বললাম, আপনার ফাইল থেকে বিখ্যাত একজন গোপন কমরেডের হস্তলিপি সম্বলিত চিরকুটটি চুরি করতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এটি হয়তো আমার জীবনে এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। কিন্তু শৃঙ্খলা ভঙ্গের ভয়ে আমি তা করিনি। আবুল ভাই বললেন, ঐটা ছিল কমরেড খোকা রায়ের হস্তলিপি। একটা প্রশংসা বার্তা। অবশেষে আমরা ১৮ তারিখে জ্ঞানদার সভাপতিত্বে আগরতলার ক্রাফট্স হোস্টেলে সিপিআই, সিপিএম, কংগ্রেস, আরএসপি নেতাদের সাথে বিজয় দিবস পালন করি। জ্ঞানদার নির্দেশে আমাকে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গাইতে হলো। পরদিন সবাই রওনা হলাম আমাদের স্বাধীন মাতৃভূমিতে। জ্ঞানদাসহ সবাই চলে গেলেন ঢাকায় আর আমি চলে গেলাম আমার পুরানো কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল শিল্পঞ্চলে। আবার সেই পার্টির কাজে আত্মনিয়োগ এবং ‘একতা’ প্রকাশিত হবার পর একতা বিক্রির কাজে। সব গ্রাহকই আছেন, নেই শুধু শহিদুল্লাহ। পার্টি বিকাশ লাভ করার পর অন্যরা দায়িত্ব নিয়েছে ‘একতা’র। আজও ‘একতা’র প্রতি আমার ৮১ বছর বয়সেও একই আবেগ কাজ করে। কবে রবিবার কাগজটি হাতে পাবো! জানি না সেই আবেগটি আজকের তরুণ কমরেডরা ধারণ করেন কি-না! লেখক : প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর