জ্বালানি খাতে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি নির্ভরতা কমাও

Posted: 02 আগস্ট, 2026

একতা প্রতিবেদক : চলমান তীব্র গ্যাস সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে অবিলম্বে ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার কাছ থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানির জন্য এটা কৃত্রিম সংকট কিনা জনগণ জানতে চায়। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান করে এই ভয়াবহ দুর্ভোগ থেকে জনগণকে স্বস্তি দেয়ার দাবি জানান। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির উদ্যোগে ৩০ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন, সদস্য কল্লোল বণিক, পল্লবী থানার সদস্য রাসেল মল্লিক, তেজগাঁও থানার নেতা মাহমুদ হাসান জুয়েল এবং হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত। উপস্থিত ছিলেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি সাজেদুল হক রুবেলসহ মহানগর উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শ্যামল বিশ্বাস। বিক্ষোভ সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েও সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত গ্যাস বিল আদায় করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণের কাছ থেকে গ্যাসের বিল আদায় করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতকে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার নীতি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত জি-টু-জি জ্বালানি চুক্তি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে শক্তিশালী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এলএনজি আমদানি ও বিদেশনির্ভর জ্বালানিনীতি থেকে সরে এসে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্বালানি খাতে একটি স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের ন্যায্য জ্বালানি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিটি থানায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।