বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ
Posted: 26 জুলাই, 2026
একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশসহ পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ, খরা ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’ বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের লাখো মানুষ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সংস্থাটি বলছে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আবহাওয়ার বৈরিতা আরও বাড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
আইআরসি আরও জানায়, পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে এবং তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ গলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আফগানিস্তানেও গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পূর্ব আফ্রিকায় পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। সোমালিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ৪৮ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ২০২৩ সালের এল নিনোজনিত বন্যায় সেখানে প্রায় ১৩ হাজার টন ফসল নষ্ট হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
আইআরসি জানায়, ইথিওপিয়ার উঁচু এলাকায় ভারী বৃষ্টি এবং সোমালিয়ার মৌসুমি বৃষ্টির কারণে প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে পানির উৎস দূষিত হয়ে কলেরা ও তীব্র পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আইআরসির জরুরি কার্যক্রমবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন বলেন, একই সময়ে একাধিক সংকট তৈরি হচ্ছে। যে জনগোষ্ঠীর নতুন ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সবচেয়ে কম, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে মাসের প্রথম ১১ দিনেই জুলাই মাসের মোট স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ হয়ে গেছে।