মাটি ও প্রান্তিক জীবনের কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
Posted: 26 জুলাই, 2026
বাংলা কথাসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরবর্তী যুগে যে কয়েকজন সাহিত্যিক নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও ঔজ্জ্বল্যে ভাস্বর হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেবল একজন সাধারণ ঔপন্যাসিক বা ছোটগল্পকার নন; তিনি ছিলেন সমাজ এবং রূপান্তরশীল গ্রামীণ জীবনধারার কালজয়ী দলিলদার।
রাঢ় অঞ্চলের লাল মাটি, অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, সামন্ততন্ত্রের পতন এবং উদীয়মান আধুনিকতার অভিঘাত- এই সবকিছুকে তিনি মহাকাব্যিক বিস্তারে তাঁর সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক বনেদি জমিদার পরিবারে। তার পিতা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা প্রভাবতী দেবী।
তারাশঙ্করের জন্মগ্রহণের পূর্বে তার মা-বাবার জ্যেষ্ঠপুত্রের অকালমৃত্যু ঘটে। এই শোকে কাতর পরিবারে ‘তারা’ দেবির পূজার সংকল্প করা হয়। পূজা শুরুর ঠিক দশ মাস পর জন্ম হয় তারাশঙ্করের। ফলে মা প্রভাবতী দেবী ও পরিবারের বিশ্বাস ছিল, তিনি তারা দেবির কৃপায় জন্মগ্রহণ করেছেন। এই ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তিবোধ থেকেই তার নাম রাখা হয় ‘তারাশঙ্কর’।
শৈশবে তিনি মাদুলি, তাবিজ, কবচ এবং প্রাচীন সামাজিক সংস্কারের গণ্ডিতেই বেড়ে উঠেছিলেন। নীতিজ্ঞান, ধর্মীয় শ্রদ্ধা এবং সততার প্রাথমিক পাঠ তিনি পেয়েছিলেন তার মা প্রভাবতী দেবীর কাছ থেকে। তবে শৈশবের এই সংস্কারাচ্ছন্ন পরিবেশ পরবর্তীতে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তা ও জীবনদর্শনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এবং ইতিহাসের উত্তাল পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রগতিশীল চিন্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের শরিক হয়ে ওঠেন।
লাভপুর স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রথমে সেন্ট জেভিয়ার্স এবং পরে আশুতোষ কলেজে পড়াশোনা করেন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণে পুলিশি নজরদারি এবং পাশাপাশি স্বাস্থ্যভঙ্গের কারণে তাঁর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত পাঠক্রম সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
কিশোর বয়স থেকেই সমাজকল্যাণকর কাজে তিনি উৎসাহী হন। চোদ্দ বছর বয়সে ‘সমাজ সেবক সমিতি’র সদস্য হয়ে গ্রামজীবনের দুঃখ নিবারণের ব্রতধারণ করেন তারাশঙ্কর। বিবেকানন্দের সেবাধর্ম ও ক্ষুদিরামের দেশপ্রেম ছিল তাঁর শৈশব-কৈশোরের জীবনাদর্শ। পরিণত বয়সে গান্ধিবাদের অহিংস-অসহযোগিতায় তিনি দীক্ষিত হলেও, বিবেকানন্দ এবং ক্ষুদিরামের প্রেরণা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে এবং গৌরবদান করেছে।
তারাশঙ্করের জীবন ও সাহিত্যকর্মে তাঁর মা বাবা এবং পিসিমার প্রভাব ছিল অপরিসীম। ‘আমার কালের কথা’ গ্রন্থে মায়ের কথা লিখতে গিয়ে তারাশঙ্কর বলেছেন, ‘আমার জীবনে মা আমার সত্যসত্যই ধরিত্রী, তাঁর মনোভূমিতেই আমার জীবনের মূল নিহিত আছে, শুধু সেখান থেকে রসই গ্রহণ করেনি, তাঁকে আঁকড়েই দাঁড়িয়ে আছে। ওই ভূমিই আমাকে রস দিয়ে বাঁচিয়ে, প্রেরণা দিয়ে বলেছে,-’আকাশলোকে বেড়ে চল, সূর্য আরাধনায় যাত্রা কর।...’
আর বাবার কথা, ‘তিনি মারা যান অল্প বয়সে। আমার বয়স তখন আট বৎসর। কিন্তু তার স্মৃতি আমার মনের উপর গভীর রেখাপাত করে গিয়েছে।’ তাঁর বাবার ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল অনেক বই। তারাশঙ্কর নিঃশব্দে বিচরণ করেছেন তাদের পাতায় পাতায়, আহরণ করেছেন সাহিত্যের বোধ এবং জিজ্ঞাসা; পরবর্তীকালে এই সঞ্চয় সহায়ক হয়েছে তাঁর সাহিত্য সৃষ্টিতে।
তাদের সংসারে ছিলেন এক স্বামী পুত্রহারা পিসিমা, যাঁর দৃপ্ত ব্যক্তিত্ব ও সংগ্রামশীলতা তারাশঙ্করকে সাহস জুগিয়েছে।
এঁদের তিনজনের কথাই উল্লেখ করেছেন তারাশঙ্কর ‘আমার জীবনে যাঁদের প্রভাব রক্তে, মাংসে, মেদে, মজ্জায়, চিন্তনে, মননে ধাতুগত হয়ে আছে তাঁদের মধ্যেৃৃবাবা, মা, পিসীমা।’
সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ই তরুণ তারাশঙ্কর মহাত্মা গান্ধীর আহ্বান জানানো ‘অসহযোগ আন্দোলনে’ সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারারুদ্ধ করে। তবে কারামুক্তির পর তিনি কেবল সাহিত্যচর্চাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; কংগ্রেসের কর্মী হিসেবে জনসেবায় যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
তারাশঙ্করের সাহিত্যিক জীবনের শুরুটা গদ্য দিয়ে হয়নি, হয়েছিল কবিতা দিয়ে। ১৯৩৩ সালে তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিপত্র’ প্রকাশিত হয়। তবে সাহিত্যচর্চার শুরুর দিকেই প্রখর আত্মউপলব্ধি থেকে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কবিতার ফ্রেমে তাঁর বিশাল ও গভীর জীবনবোধ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের জটিল টানাপোড়েন, সামাজিক রূপান্তর ও মহাকাব্যিক অভিজ্ঞতা প্রকাশের প্রকৃত মাধ্যম হলো গদ্য।
এরপর তিনি পুরোপুরি উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৈতালী ঘূর্ণি’ প্রকাশিত হয়। ওই একই বছর তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৪০ সালে তিনি পরিবার নিয়ে কলকাতার বাগবাজারে একটি ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন এবং ১৯৪১ সালে বরাহনগরে স্থানান্তরিত হন। সাহিত্যিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে চলে আসার পর তিনি ১৯৪২ সালে বীরভূম জেলা সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন এবং ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংগঠনের সভাপতি নিযুক্ত হন। জীবনের শেষভাগে, ১৯৭০ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যের মূল ভিত্তি ছিল রাঢ় অঞ্চল-বিশেষ করে বীরভূম ও বর্ধমানের প্রান্তিক গ্রামীণ পটভূমি। বাংলা সাহিত্যে তিনি এমন এক মানবগোষ্ঠীকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যারা আগে সাহিত্যের মূলধারায় উপেক্ষিত থাকত। সাঁওতাল, বাগদি, বাউরি, ডোম, বোষ্টম কিংবা গ্রামীণ কবিয়াল সম্প্রদায়ের মতো অনগ্রসর ও শোষিত মানুষের জীবনযাত্রাকে তিনি অত্যন্ত গভীর মমতায় তুলে ধরেছেন।
চরিত্রটি সমাজের যত নিম্নেই অবস্থান করুক না কেন, তারাশঙ্কর তার ভেতরের আত্মমর্যাদা ও মানবিক মহত্ত্বকে পরম শ্রদ্ধায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মন্বন্তর (পঞ্চাশের মন্বন্তর), দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাত, দেশভাগজনিত যন্ত্রণা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং নারীত্বের অবমূল্যায়নের মতো যুগান্তকারী ঘটনাপ্রবাহ তিনি তাঁর লেখনীতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ক্ষয়িষ্ণু সামন্তপ্রথা ও জমিদারির পতন, আধুনিক নগর জীবনের বিকাশ এবং গ্রামীণ কাঠামোর ভাঙন তার রচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টিশীলতা ছিল এক প্রবহমান নদীর মতো। তিনি সুদীর্ঘ সাহিত্যজীবনে বিপুল পরিমাণ সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন। তাঁর সামগ্রিক রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী, ২টি ভ্রমণ কাহিনী, ১টি কাব্যগ্রন্থ এবং ১টি প্রহসন লিখেছেন।
তাঁর সাহিত্যের কল্পনা জীবন পেয়েছে মাটি ও মানুষের ঘ্রাণে, তাদের সম্পর্কের সুগভীর দ্বান্দ্বিকতায়, তাদের সংগ্রামের স্বেদস্পর্শে ও স্বপ্নের নিবিড়তায়। ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘ধাত্রীদেবতা’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’, ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’, ‘ডাকহরকরা’, তথা অসংখ্য গল্প-উপন্যাসে গ্রামের সমাজ, ক্ষয়িষ্ণু জমিদারতন্ত্র ও সরল সাদাসিধে মানুষের হাসিকান্নার কাহিনি ও তাদের জীবনানুবর্তনের পৌনঃপুনিকতার শিল্পিত প্রকাশ ঘটেছে, বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার-দফাদার, ডাক-হরকরা, তাঁতি, কামার, মুচি রাঢ়ের ভাষায় তাদের উপেক্ষিত প্রাণের কথা বলেছে, আবার সামন্ত, আধা-সামন্ত, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, মাস্টার, গান্ধিবাদী এবং বিপ্লবীও তাদের বিশ্বাস ব্যথা, স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের জন্য বিলাপ করেছে। এই অপূর্ব রসায়নে গড়া তারাশঙ্করের সাহিত্যের সংসার। ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে সুকুমার সেন লিখেছেন ‘তারাশঙ্কর লইলেন তাঁহার দেশ দক্ষিণ-পূর্ব বীরভূমের সাধারণ লোকের জীবন-পুরানো গ্রামের জমিদার-ঘর হইতে নদীচরের মাল-বেদে পাড়া পর্যন্ত।
তারাশঙ্করের কালজয়ী উপন্যাসের পাশাপাশি রচনা করেন অসামান্য এক গুচ্ছ ছোট গল্প। তারাশঙ্করের প্রথম ছোটগল্প সঙ্কলন ‘ছলনাময়ী’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৬খৃঃ। তার ছোটগল্পের সমষ্টি ‘জলসা ঘর’ (১৯৩৭), ‘রসকলি’ (এপ্রিল ১৯৩৮) ও ‘হারানো সুর’ এর মাধ্যমেই বাংলা ছোটগল্পে তার তর্কাতীত প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়। তার ছোটগল্পগুলোতে রাঢ় দেশের জীবনযাত্রার শাখা-চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ‘জলসা ঘর’-এ আভিজাত্য বংশ মর্যাদার সাথে নিম্নস্তরের সামাজিক পরিবেশের তুলনামূলক সমাজ-চিত্র ফুটে উঠেছে।
‘হারানো সুরে’ নিম্নশ্রেণীর জীবনযাত্রার ছায়াছবি অবলম্বনে কাহিনীর পরিবেশন করতে চেয়েছেন। ‘রসকলি’ গল্প সংগ্রহে ভাবের অকৃত্রিমতায়, বিষয় বৈচিত্রে ঘটনাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এ গ্রন্থে যেমন গ্রাম্য পরিবেশে আত্মদ্বনদ্ব এবং সামাজিক কোলাহল স্থান পেয়েছে তেমনি পশুত্ব এবং মানবতার মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তি রসানুভূতি পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত।
তারাশঙ্করের ভাষা সরল কিন্তু ঋজু। তিনি কোথাও রাজনৈতিক উম্মাদনায় বিভ্রান্ত হননি বরং সহজ সরল গ্রাম্য সহজ জীবানুভূতিতে দীপ্তিমান। জলসাঘর, তারিনী মাঝি, রসকলি, কাল পাহাড়, অগ্রদানী, বেদেনী, যাদুকরী, নটু মোক্তার, সওয়াল, কামধেনু, পিতা-পুত্র, ডাইনী, শ্মশানের পথে তার অসংখ্য ছোট গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম।
তারাশঙ্করের রচনার নাট্যগুণ ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যপট চলচ্চিত্রকারদের দারুণভাবে আকর্ষিত করেছিল। তাঁর লেখা উপন্যাস, গল্প ও নাটক থেকে প্রায় ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় তারাশঙ্করের সাহিত্যের গভীরতা উপলব্ধি করে তাঁর দুটি বিখ্যাত গল্প ও উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছিলেন—’জলসাঘর’ এবং ‘অভিযান’। এই চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিপুল প্রশংসিত হয়। এছাড়া ‘কবি’, ‘আরোগ্য নিকেতন’, ‘গণদেবতা’র মতো উপন্যাসগুলোও রূপালী পর্দায় সফলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য ও অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ভারতীয় সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পুরস্কার লাভ করেন তাঁর বিখ্যাত গণদেবতা উপন্যাসের জন্য।অর্জন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান রবীন্দ্র পুরস্কার। আরোগ্য নিকেতন উপন্যাসের জন্য ভারতের জাতীয় সাহিত্য আকাদেমির পুরষ্কারে ভূষিত হন।
এছাড়া ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ ভূষিত হন।
১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক সত্যকার বটবৃক্ষ। তিনি কেবল গল্প লিখে পাঠককে বিনোদন দেননি; বরং মাটি ও মানুষের কাছাকাছি গিয়ে সমাজ-ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল তৈরি করেছিলেন। রাঢ় অঞ্চলের লাল ধূলিউড়ানো পথঘাট, অবহেলিত মানুষের কান্না-হাসি, কিংবা সামন্ত রাজপ্রাসাদের প্রদীপের নিভু নিভু শিখা-সবকিছুকে তিনি এমন অনন্য মমতায় ধরে রেখেছেন যে বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।