‘গায়েব’
Posted: 19 জুলাই, 2026
একতা প্রতিবেদক :
২০২৪ সালের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অনেক মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য গায়েব হয়ে গেছে। কিছু ভাস্কর্য উপড়ে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু ভাস্কর্য ভেঙে রাখা হয়েছে।
তবে ঝিনাইদহে যে ঘটনা ঘটেছে সেটাকে অভিনবই বলা যাবে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেটি অসমাপ্ত ছিল। ৫ আগস্টের পর তা একবার ভাঙচুর করা হয়। এখন সেটি আবার ভেঙে একেবারে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এখন কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার নেই। আছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিএনপি সরকার। আর ওই ভাস্কর্য ভেঙে কারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাও কিন্তু কোনো কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে না। বরং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ভাস্কর্য নির্মাণের যে প্রকল্প বা ফাইল ছিল সেটিই নাকি গায়েব হয়ে গেছে।
ফলে এখন সরকারের নতুন ধারা হচ্ছে, ভাস্কর্য অপসারণের সঙ্গে সঙ্গে ফাইলও গায়েব করে দেওয়া। এতে কোনো ঝামেলাও থাকল না।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। তবে কাজ শুরু হয় অনেক দিন পর। ২০১৬ সালে কিছু কাজ করার পর সেটি অসমাপ্ত থাকে। ভাস্কর্যটি আর উদ্বোধন হয়নি। সেভাবেই পড়ে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিকালে শত শত মানুষ এসে এখানে হামলায় চালায় এবং ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।
সম্প্রতি গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন শ্রমিক চত্বরের বেদীর অংশ ভাঙছেন। সেই ভাঙা টুকরো একটি পিকআপ ভ্যানে রাখা হচ্ছে। তবে বেদীর উপরের অংশটি এখনও অক্ষত রয়েছে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, এখন কারা এটি ভেঙে নিচ্ছে, সেটি ‘জানা নেই’ এবং এ প্রকল্প সংক্রান্ত কোনো ফাইলও দেখেননি বলে তার ভাষ্য।