ডেঙ্গু ও হামে প্রাণহানি বাড়ছেই
Posted: 19 জুলাই, 2026
একতা প্রতিবেদক :
হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়তেই আছে। এছাড়া, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৭৮০ আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা ৩২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১১ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ২৪৪ জন। একই সময়ে ৯৮ হাজার ৬০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৩১ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
চলতি বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নয় হাজার ৭৭০ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরে এ যাবত মোট আট হাজার ৮২৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৯১২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়ামাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে গুটি বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করে, হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা কার্যত হামেই মৃত্যু। রোগ শনাক্তের সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত হামে মৃত্যু বলা যাচ্ছে না।
হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী চলছে টিকাদান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, শতভাগের বেশি শিশু টিকার আওতায় এসেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন- টিকা দেয়ার দুই মাস হতে চললেও কেন কমছে না সংক্রমণ? টিকা সব শিশু পাচ্ছে কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।