কমছে না হামের প্রকোপ
বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ
Posted: 05 জুলাই, 2026
একতা প্রতিবেদক :
সাড়ে তিন মাস ধরে সংক্রমণ ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছে হাম। টিকাসহ নানা উদ্যোগেও কমছে না এই রোগের প্রকোপ। এর মধ্যেই আবার চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ।
জুনে প্রায় প্রতিদিন হাজারের বেশি শিশু হাম এবং উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে রোগীকে।
বর্ষার এ সময়টায় অনেকের জ্বর হচ্ছে। এটি একদিকে হামের উপসর্গ, পাশাপাশি ডেঙ্গুরও। দুই ক্ষেত্রেই শরীরে র্যাশও দেখা যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ দেখে চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে।
গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ শতাধিক শিশু।
এরই মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও এতে মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় দেশের জনস্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৮ জন। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই শনাক্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এবার ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরেই সংক্রমণ বেশি হবে। কিন্তু সেসব এলাকার রোগীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসায় পথে তাদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে ডেঙ্গু রোগীদের ডিহাইড্রেশন ও প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটে আসতে না হয়।
ফগিংকে অকার্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে এভিডেন্সবেইজড, লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য।
এছাড়া মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত টিকাদান কভারেজের অভাবই হামের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রধান কারণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, হামের সংক্রমণ থামাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিরও পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা হয়নি। ফলে অনেক অভিভাবকই এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে পারেননি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল, বস্তি এবং কম সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ তথ্য যথাযথভাবে পৌঁছায়নি।
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যদি প্রায় এক হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাহলে প্রতিদিনই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকবে। মৃত্যু ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা।’