বাজেট : রেশনসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ চায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা

Posted: 28 জুন, 2026

একতা প্রতিবেদক : বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং আইনানুগ সময়ে মজুরি পুননির্ধারণের জন্য অনতিবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। গত ২৪ জুন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত স্মারকলিপিতে এই দাবি জানানো হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) এর সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করেন সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন খালেকুজ্জামান লিপন, খাইরুল মামুন মিন্টু, শিরিন সিকদার, শামীম আরা, গোলাম মোস্তফা, বাচ্চু মিয়া, আসাদুজ্জামান প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নারী জাগরনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। যার মূল ভিত্তিই হলো শ্রমিকের সস্তা শ্রম। শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে এদেশের গার্মেন্টস মালিকরা প্রচুর সম্পদের মালিক ও নব্য ধনীক শ্রেণিতে পরিণত হলেও অসহায় শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর তেমন কিছু করেনি। এমনকি মর্যাদাকর জীবনযাপন উপযোগী মজুরিও প্রদান করছে না, বিধায় বর্তমান প্রাপ্ত মজুরিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমিকের জন্য রেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনের মতো মৌলিক সামাজিক সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মালিকরা ঢালাওভাবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কখনো আইনের অপব্যবহার আবার কখনো আইন অমান্য করে হাজার হাজার শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করছে। বেশ কিছু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও জুট সন্ত্রাসী দ্বারা নানারকম ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি দিয়ে জালিয়াতি করে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত পাওনা আত্নসাৎ করছে। শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের শ্রমিক, শিল্প ও জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রসর করতে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বিদ্যমান শ্রম আইন অনুসারে প্রতি ৩ বছর অন্তর মজুরি পুননির্ধারণ করতে হবে। চলতি বছর ২০২৬ সালের নভেম্বর মাস হইতে মজুরি পুননির্ধারণ করা আইনী বিধান। অতিসত্তর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন না করলে আইনানুগ সময়ের মধ্যে মজুরি পুননির্ধারণ করা সম্ভব হবেনা। নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে বর্তমান সরকার বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং আইনানুগ সময়ে মজুরি পুননির্ধারণ করতে অনতিবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করবেন। সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সচিবালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল কদম ফোয়ারা, পল্টন মোড় হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশী বাধার মুখে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে এবং স্মারকরিপি প্রাপ্তির পর অতিসত্তর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষনা দেন সমাবেশের সভাপতি ও জি-স্কপ এর সমন্বয়কারী কাজী রুহুল আমিন।