প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প ধারা গড়ার আহ্বান

Posted: 28 জুন, 2026

একতা প্রতিবেদক : পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবেলা করে গণমানুষের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। গত ২৪ জুন বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা থেকে এ আহ্বান জানান হয়। লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন সফল করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপন। বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় নেতা মাসুম রানা, বাংলাদেশ জাসদ এর নেতা নাজমুল হক প্রধান, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার নেতা নাসির উদ্দিন নাসু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেত্রী মোশারেফা মিশু, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ডা. ফয়জুল হাকিম লালা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা হারুন রশীদ ভুঁইয়া, সোনার বাংলা পার্টির নেতা সৈয়দ হারুন অর রশীদ ভুঁইয়া, ইউপিডিএফ নেতা অমল ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের ১১ সেপ্টেম্বরের জাতীয় কনভেনশনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানান। এবং জেলায় জেলায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের এ উদ্যোগকে পৌঁছে দিতে দলগুলোর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সভায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন, মফিজুর রহমান লালটু, জাকির হোসেন, বিমল কান্তি দাস, কবি রঘু অভিজিৎ রায়, রঞ্জন দাস শিবু, ইকবালুল হক খান, হাবিবুল আলম, কামারুজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জেলায় জেলায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে কর্মীসভা করা হবে। জাতীয় কনভেনশনে দেশের সকল জেলা থেকে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে দেশে একটা প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প ধারা গড়ে তোলা হবে। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবেলা করে গণমানুষের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। মানব মুক্তির পরিপূরক একটা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন বিষয়ে যৌথ সভা এদিকে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন বিষয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর যৌথ সভা ২৫ জুন সন্ধ্যা ৬.৩০টায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের মাহফুজসহ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের অন্তর্ভূক্ত সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ঊদীচীর সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আনোয়ার তপন। সভার সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কামারুজ্জামান ভূঁইয়া। সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন না করে সরকার আরো গণবিরোধী চরম দক্ষিণপন্থী অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা চলছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। আমেরিকার সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করা হয়নি। সংস্কৃতির ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় আক্রমণ করা অব্যাহত আছে। এই সুযোগে স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় ২৪-এর গণ অভ্যূত্থানে সংস্কৃতিকর্মীদের কার্ফু ভঙ্গের দিন ২৬ জুলাই স্মরণে সমস্ত গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক শক্তির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একসাথে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ৩০ জুলাই জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার মানুষের সাংস্কৃতিক অবরোধ ও ২ আগস্ট দ্রোহযাত্রাকে স্মরণ করে নানা আয়োজন করা হবে।