কৃষির মৌলিক সংকট কতটুকু নিরসন হবে?
Posted: 21 জুন, 2026
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে সংসদে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এই প্রস্তাবিত বাজেট টাকার অংকে বিশাল। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মিলিয়ে মোট ৪৩,৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কৃষি খাতের (কৃষি মন্ত্রণালয়) জন্য ২৮,৮৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৩.০৮%।
বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও কৃষি খাতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে যথার্থ নয়। গত এক দশকে আপাতভাবে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটের তুলনায় কৃষিতে বরাদ্দ সবসময়ই উপেক্ষিত। কৃষি এখনো খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে কাঠামোগতভাবে উন্নত হয়নি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ লাখ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ বাজেট ছিল প্রায় ৭.৯০ লাখ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত আগামী বাজেটে ১৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কৃষি খাতে বরাদ্দের বৃদ্ধি অনেক কম। যদি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ প্রায় ৫.৫ শতাংশ ধরা হয়, তাহলে টাকার অঙ্কে তা ছিল প্রায় ৪৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি সামান্য বেড়ে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬-৭ শতাংশের মধ্যেই সীমিত। এর বিপরীতে জাতীয় বাজেট বেড়েছে প্রায় ১৭.৭ শতাংশ হারে। এই বৃদ্ধির হার অনুযায়ী আগামী কৃষিখাতে বাজেট বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিলো প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে কৃষি উপকরণের দাম ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সরকার কৃষকের জন্য নানাবিধ সুযোগ সুবিধার কথা বললেও কৃষি উৎপাদন উপকরণ ও কৃষি বাজার সিন্ডিকেটের কবল থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য কোন স্পষ্ট ব্যবস্থা এখনো দৃশ্যমান নেই।
আগামী অর্থবছরে দেশের ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড বিতরণ করবে। এই কৃষি কার্ডের আওতায় কৃষকদের বছরে ২৫০০ টাকা করে বরাদ্দ রাখলেও প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা কৃষি কার্ড পাবেন কিনা এই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়। কারণ হতদরিদ্র কৃষকরা জানেন না কিভাবে তাদের নাম কৃষি কার্ডের জন্য লিপিবদ্ধ করতে হবে।
আগামী বাজেটে কৃষি উৎপাদনে কতক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সার ও কৃষি উপকরণের ক্রমবর্ধমান দাম, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং ভর্তুকি হ্রাসের কারণে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও আর্থিক সংকট বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বাজেটে আপাত বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটের অংশ হিসেবে কৃষিখাতের হিস্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি মোকাবিলায় আপদকালীন তহবিলে পর্যাপ্ত জোর ও কার্যকরী কৌশলগত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বাজেটে। বাজারে লাগামহীন নিত্যপণ্যের দাম এবং কৃষি যন্ত্রপাতির উচ্চ মূল্যের কারণে ক্ষুদ্র চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (অউচ) তহবিল বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সরাসরি সরকারি প্রণোদনা সময়মতো পাচ্ছেন না।
দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা নানা সংকটের মধ্য দিয়ে উৎপাদন করে যাচ্ছে। বাজেট করার আগে কৃষকদের সংকটগুলো কী, তা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে জরিপ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। কৃষকদের সংকট সমাধানকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা উচিত।
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী। কৃষকের ফসলের লাভজনক দাম, ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ, জীবন ধারণের মতো মজুরি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। অনেকের মাথা গোঁজারও ঠাঁই নেই। চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার নিশ্চয়তা নেই। কৃষি ঋণ, সার্টিফিকেট মামলা, এনজিও ঋণের কিস্তি, মহাজনী ঋণের সুদের কারবার কৃষক-ক্ষেতমজুরদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সব মিলিয়ে শোষণ, জুলুম, অত্যাচারের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে আছে কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন।
কৃষকের ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই পর্যাপ্ত শস্য গুদাম ও হিমাগার। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় লাভের টাকা চলে যাচ্ছে চাতাল মালিক, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে।
ভূমি অফিস, তহসিল অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ, সাব রেজিঃ, কৃষি ব্যাংক এবং ভিজিএফ, ভিজিডিসহ গ্রামীণ প্রকল্পসমূহে দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট, হয়রানি গ্রামীণ মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। সরাসরি কৃষকের জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি নেই। নেই ক্ষেতমজুরহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ। অপ্রতুল কৃষি ভর্তুকি ও গ্রামীণ বরাদ্দ। একদিকে গরিব মানুষের বরাদ্দ লুট হয়ে যায়, অন্যদিকে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে লুটপাটকারীরা।
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে লুটেরা, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর এ দেশের কৃষক-ক্ষেতমজুর-গ্রামীণ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থার উত্তরণ হবে বলে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নাই। জনগনের বহু আকাক্সিক্ষত নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই অনিশ্চিত জীবন থেকে কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ জনগণের মুক্তি মেলেনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশের মোট পরিবারের সংখ্যা ৩,৫৫,৫২,২৯৬টি। এর মধ্যে কৃষক পরিবার ১,৬৮,৮১,৭৫৭টি। জিডিপিতে কৃষির অবদান ২০২২-২৩ সালে ছিলো ১১.৩৮%। মোট জনশক্তির মধ্যে কৃষিতে ৪৫.৪% নিয়োজিত থেকে এদেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে।
সরকারি হিসেবে কোনো জমি নেই এমন মানুষের সংখ্যা ৯১ লাখ। দেশের উচ্চ দারিদ্র্যসীমায় থাকা ২৫ দশমিক ৮ শতাংশের নিজের কোনো জমি নেই। আবার হতদরিদ্রদের মধ্যে ৯ দশমিক ৫ শতাংশের কোনো জমি নেই। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্চ দারিদ্র্যসীমায় রয়েছে দেশের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। জনশুমারির হিসাব অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে উচ্চ দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন। বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৩ কোটি ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন মানুষের মধ্যে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশের কোনো জমি নেই। সে হিসেবে ভূমিহীনদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬৬ জন। অর্থাৎ প্রায় ৮২ লাখ মানুষের কোনো জমি নেই। জনশুমারির বাইরে আছে অসংখ্য মানুষ। সেই সকল মানুষের মধ্যে থেকে ভূমিহীনের সংখ্যা যা দাঁড়াবে তা নিয়ে দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ ভূমিহীন। এই বিপুলসংখ্যক ভূমিহীন মানুষের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে আগামী বাজেটে।
কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ এই বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চরম হতাশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়নই বাস্তব রূপ পাবে না।
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এ দেশের কৃষক-ক্ষেতমজুর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেটে যে বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে–
* জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বাজেটের ৪০% কৃষি খাতে বরাদ্দ করতে হবে।
* ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা। ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র চালু করে উৎপাদক কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় করা। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য গুদাম ও হিমাগার নির্মাণ। উৎপাদক কৃষকের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টন ধান ক্রয় করা।
* ভূমিহীন কৃষকসহ প্রকৃত উৎপাদক কৃষকদের কৃষি কার্ড, কৃষি শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড, পল্লী রেশন ও শস্য বিমা চালু কৃষি প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
* বিএডিসিকে সচল করা; সার-বীজ-কীটনাশক-সেচের পানিসহ সকল প্রকার কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে যথাসময়ে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা; ভেজাল সার-বীজ-কীটনাশক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
* বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষক ও ভোক্তা বাজার ব্যবস্থা চালু করা। সেচের পানি বিতরণে অনিয়ম-হয়রানি-দুর্নীতি বন্ধ করা।
* কৃষি শ্রমিকদের সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা এবং ১২০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু; সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কর্ম দিবস; ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা নির্ধারণ; পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কাজের এলাকায় নিরাপদে যাতায়াত ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।
* ষাটোর্ধ্ব কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের বিনা জামানতে পেনশন চালু করা।
* সরকারি খাস জমি সমবায়ের মাধ্যমে ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের মধ্যে বিতরণ করা; সকল ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য সরকারি আবাসন নিশ্চিত করা।
* উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে নতুন বাঁধ নির্মাণ; জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমিতে লবণাক্ততা নিরসনে নিয়মিত পরিকল্পিতভাবে নদী খনন। নদী দখলমুক্ত ও নদী খননের নামে কৃষি জমি কেটে নেয়া বন্ধ করা।
* হাওর-বাওড়-জলাশয় ইজারা দেয়া বন্ধ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার অধিকার দেয়া।
যেকোনো দেশের জাতীয় বাজেটে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের রাষ্ট্রক্ষমতায় লুটপাট, দুর্নীতি, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট রূপ জনগণ দেখেছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের অভিজ্ঞতাও এ দেশের জনগণ অর্জন করেছে। বিএনপি সরকার দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। একই সাথে মধ্যপন্থী চরম প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তি সংসদে বিরোধী দলে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে এখন আর সক্রিয় নেই। এই বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বাজেটে বিএনপি’র নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ইত্যাদি প্রয়োজনীয় ইতিবাচক কিছু সামাজিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের হতদরিদ্রদের জন্য তৈরি করা গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো খাল খননের মাটি দিয়ে ধ্বংস করার মধ্যদিয়ে সরকারের চরিত্র উন্মোচিত হয়। জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়ে উঠে। দলীয় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখলবাজি, মাফিয়া বাজার সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্বিকার। জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারিও নিয়ন্ত্রণ করে এই মাফিয়া চক্র। এই বাজেট কতোটুকু জনমুখী তা দৃশ্যমান হবে বাজেটের বরাদ্দ বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর।
বাজেটে আপাত জনতুষ্টিমূলক নানান ঘোষণা থাকলেও জাতীয় অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার প্রধান শক্তি কৃষি ও কৃষকের মৌলিক উন্নয়নকে প্রাধান্য না দিলে ‘জনতুষ্টি’ এক সময় জনরোষে রূপ নিতে হয়তো বেশি সময় নেবে না।
লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি