ছাঁটাইয়ের নামে চাকরিচ্যুতি ও দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে

Posted: 14 জুন, 2026

একতা প্রতিবেদক : গার্মেন্টস ও ট্যানারিসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ছাঁটাইয়ের নামে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি, দমন-পীড়ন বন্ধ এবং জাতীয় বাজেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। টিইউসির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে গত ৮ জুন বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানান হয়েছে। টিইউসির মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি শেখ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টিইউসির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থসম্পাদক শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমিন, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রীস আলী, নির্মাণ শ্রমিক নেতা মো. আলী হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা খায়রুল মামুন মিন্টু, ট্যানারি শ্রমিক নেতা আক্তার হোসেন, হকার্স নেতা সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে অনেক কারখানায় শ্রমিকদেরকে কাজে যোগ দিতে দিচ্ছে না এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলা হামলার হুমকি দিচ্ছে। যা হয়রানীমূলক ও মানবতাবিরোধী। তারা বলেন, সস্তা শ্রম আর লুটপাটের উপর গড়ে উঠা ধনিক মালিকরা কোনো ধরনের আইন কানুন ও বিধিবিধানের তোয়াক্কা কওে না। শ্রম আইনের ২০, ২৩ (৪), ২৬ ও ১৩ (১)সহ অধিকাংশ ধারার অপব্যবহার করে মামলা-হামলা-নির্যাতন-চাকরিচ্যুতি ও দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশও জুট সন্ত্রাসী মালিকদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তৎপর। নেতৃবৃন্দ মালিকদের এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সকল শ্রমিককে চাকরিতে বহাল রাখার জন্য জোর দাবি জানান। একইসাথে সরকারকে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় লড়াই করে মালিকদের এহেন কর্মকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেয়া হবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধগতিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। এমনকি খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। উৎপাদন ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা ও আবাসনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি কর্তব্য, যা বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইস্তেহারের মাধ্যমেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই আসন্ন বাজাটে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।