জাবিতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি
Posted: 31 মে, 2026
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে নারী শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন, গত রাতে আল্টিমেটাম শেষ হওয়া, অপরাধীকে গ্রেফতার করাতে ব্যর্থ হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ৬ দফা অনুযায়ী প্রক্টরসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারারাতব্যাপী অবস্থান ও প্রক্টর অফিসে তালা দেয়ার কর্মসূচি এবং পরবর্তী সকল কর্মসূচির প্রতি প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
ছাত্র ইউনিয়ন গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে এবং অপরাধী গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পরও প্রশাসন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা, বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার এক বিবৃতিতে বলেন, রাত ২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে নারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এক দৃঢ় ও ঐতিহাসিক প্রতিবাদ। সারারাত অপেক্ষার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসা বর্তমান প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা ও অসংবেদনশীলতার প্রমাণ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, উপাচার্য পূর্বে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দাবিসমূহ মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরে তা অস্বীকার করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি বেইমানি। একইসঙ্গে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের “ষড়যন্ত্রকারী” আখ্যা দেওয়া এবং হত্যার শিকার জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক শিক্ষার্থী শারমিন ইসলামনগরে বাসা নেয়ার বিষয়ে কেন জানায়নি প্রক্টরকে–প্রক্টরের এই ধরনের বক্তব্য কেবল ভিক্টিম ব্লেমিং নয়, বরং এটি নারী শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে অপমান ও দমনের অপচেষ্টা। যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাদের পক্ষে এই ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারারাত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও তারা আন্দোলন থেকে সরে যাননি। কারণ এই লড়াই শুধুমাত্র একজন ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের জন্য নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আগেরদিন শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত ৬ দফা দাবির সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার যে ঘোষণা শিক্ষার্থীরা দিয়েছে, তার সঙ্গেও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাত্মতা প্রকাশ করছে।
নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত আন্দোলন কোনোভাবেই দমন করা যাবে না। তাদের এই সংগ্রাম দেশের সকল শিক্ষার্থীর সংগ্রাম। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে সক্রিয় থাকবে।