হাম: জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান প্রগতিশীল চিকিৎসকদের

Posted: 31 মে, 2026

একতা প্রতিবেদক : শিশু প্রাণঘাতী হাম মহামারি মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ। গত ২১ মে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে শিশু প্রাণঘাতী হাম মহামারি মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা এবং জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্লাটফর্মের আহ্বায়ক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক কাজী রকিবুল ইসলারমর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম আবু সাঈদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, অধ্যাপক এম এইচ ফারুকী, গোলাম রাব্বানী, জয়দীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ। সমাবেশে প্লাটফর্মের দাবি এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিবিদ শ্যামল বিশ্বাস। আলোচকরা হাম মহামারীতে শিশুমৃত্যুর তদন্ত এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিশু প্রাণঘাতী হাম মহামারি মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং যারা এ গাফিলতির জন্য দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে পর্যায়ক্রমে ১৫% বরাদ্দের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাবেশে বক্তারা চিকিৎসা কেন্দ্রে মব সন্ত্রাসের অবসান ঘটাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই ক্রন্তিলগ্নে গণমানুষের অধিকার আদায়ে সম্পৃক্ত সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের এক হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। জনস্বাস্থ্য সংকট ও উত্তরণের পথ শীর্ষক সেমিনার ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের উদ্যোগে “হামে শিশুমৃত্যু : জনস্বাস্থ্য সংকট ও উত্তরণের পথ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ মে সকাল ১১টায়। হামের চলমান মহামারিতে প্রাণ হারানো সব কোমলমতি শিশুদের স্মরণ করা হয় সেমিনারে। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সারওয়ার ইবনে সালাম এর সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এম এইচ ফারুকী। প্যানালিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ, ডা. মুশতাক হোসেন, ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার। সংবাদ সম্মেলনে এই সংকটের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও টিকাদান ব্যবস্থার বড় গাফিলতি বা খামখেয়ালিপনা, সময়মত টিকা দেওয়ার ঘাটতি, টিকা ক্রয় ও মজুত করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা, ভিটামিন এ খাওয়ানো কর্মসূচি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ থাকা এবং ২০২০ সালের পর হাম ক্যাম্পেইন কার্যক্রম ২০২৪ এর ডিসেম্বরে না হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিম্নলিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। ১. চলমান গণটিকাদান কর্মসূচি সারাদেশে বিশেষভাবে জোরদার করা, যাতে দেশের প্রায় শতভাগ শিশু পূর্ণমাত্রায় টিকার আওতায় আসে। ২. সকল সরকারি হাসপাতালে বিশেষ হাম কর্ণার চালু করা এবং সেখানে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৩. ছয় মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুদের নিয়মিত (৬ মাস অন্তর) ভিটামিন-এ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৪. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং টিকা উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ৫. ছয়টি বিভাগে জনগণের টাকায় নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জোগাড় চালু রাখা। ৬. জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যখাতে শুন্য পদসমূহে নিয়োগ প্রদান করা। ৭. মাঠপর্যায়ে টিকা বহনকারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন অনতিবিলম্বে পরিশোধ করা। ৮. আসন্ন জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২০২৭ থেকেই স্বাস্থ্যখাতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা। ৯. জাতীয় বাজেটের ১৫% ও জিডিপির ৫% স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রাখা। ১০. সকল উপজেলা হাসপাতাল ১০০ শয্যায় এবং সকল জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা এবং সকল হাসপাতালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী শয্যা অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া।