নারী ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে

Posted: 31 মে, 2026

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে অপরাধীরা বারবার এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটনের সাহস পাচ্ছে। রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারাদেশে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২২ মে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সাবেক সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার, নারী শাখার সদস্য মনোয়ারা বেগম। সমাবেশ পরিচালনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন। সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “বিচারহীনতা নিয়ে রামিসার পরিবারের হতাশা ও ক্ষোভ বাস্তবতারই প্রতিফলন।” তিনি অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রতিবাদ সমাবেশে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রামিসাসহ সম্প্রতিকালে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজ আমাদের সমাজ কোথায় চলে গেছে তারই চালচিত্র এটি। যে নরপিশাচ এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, যদিও রামিসার বাবা বলেছেন বিচার হবে কিনা জানেন না। আর আমরা হয়তো কিছুদিন পরে এটা ভুলে যাব। তারপরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সরকার এবং সমাজের উদ্দেশ্যে বলতে চাই: দীর্ঘদিন ধরে সমাজে যে অপশক্তি বাস করছে তারা নারীকে মানুষ হিসেবে দেখে না। দেখে ভোগ্যপণ্য হিসেবে। এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করে জয়ী হতে না পারলে এই অপশক্তিকে দমন করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, শিশু ও নারীদের জন্য নিরাপদ নগর-দেশ গড়তে না পারলে, এটাকে সভ্য দেশ বলা যাবে না। সরকার বিচারের কথা বলেছেন আমরা দ্রুততম সময়ে এই বিচার সম্পন্ন দেখতে চাই। আর সরকার যদি প্রকৃত সমাধান চায় তাহলে বলব আজই ঘোষণা দেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ হবে শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ।’ এবং বলেন এটি রক্ষা করতে যা যা করার সেই কাজটি করব। তিনি বলেন, যে বা যারা এধরনের ঘটনার সাথে জড়িত হবে, মদদ দেবে তাদের বিরুদ্ধে সরকার যেমন ভূমিকা নেবেন একই সাথে সমাজের মানুষের ঐক্য গড়ে তুলে এসব অপশক্তিকে চিহ্নিত ও দমন করতেও ভূমিকা নিতে হবে। সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ ব্যাহত হবে। সমাবেশে ডা. সাজেদুল হক রুবেল ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বর্বরতা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে আতঙ্কিত ও ব্যথিত করে তুলেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার বলেন, সকল ধর্ষণ, হত্যা আর খুনের বিচার করতে হবে। শুধু একজন সন্তানহারা স্বজনের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা নয়, সরকারকে অপরাধীর বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে সকল পরিবারের প্রতি যথার্থ সমবেদনা জানাতে হবে। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।