শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে পারলেই উন্নত দেশ গড়া সম্ভব
Posted: 17 মে, 2026
একতা প্রতিবেদক :
দেশের ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’। খেলাঘরের অগ্রযাত্রার ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গদ ১৫ মে সকাল সাড়ে ১০ টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘শিশুর নিরাপদ জীবন; প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল একটি সুখী, মানবিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সেমিনারে সভাপতিত্বে করেন খেলাঘরের চেয়ারপারসন গবেষক ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. লেনিন চৌধুরী।
চলমান সময়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক অসচেতনতার কারনে শিশুদের জীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয়গুলোকে সামনে রেখে শিশুর বেড়ে ওঠার নিরাপদ পরিবেশ, সুস্থ বিকাশ ও আনন্দময় আগামী গঠনে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আবু সাঈদ, নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, প্রকৌশলী আলী ইদ্রিস, বাদল রায়, প্রকৌশলী শ্যামল বিশ্বাস, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, সাংবাদিক উম্মল ওয়ারা সুইটি, ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী ও শিশু প্রতিনিধি অদ্রিতা রায়।
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পথশিশু, ২০ লাখ ৯০ হাজার গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু এবং ৩৫ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ৩৩ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন। শিশু ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও শঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব, মোবাইল ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বক্তারা শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, যৌন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে একটি মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।