জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার
Posted: 17 মে, 2026
একতা প্রতিবেদক :
রাজধানীর মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে সারাদেশে হাম মহামারীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মহামারী প্রতিরোধে সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলার প্রতিবাদ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ মে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। স্মারকলিপি পাঠ করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। বিক্ষোভ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার। এসময় নেতৃবৃন্দ আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। অন্যথায় অবস্থানসহ ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারী দেন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, সারাদেশে হাম মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৪ শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। বিপুল সংখ্যক পরিবার সন্তান হারিয়ে শোকাহত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা কেনা হয়নি। কারণ সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়, অনিয়মের মামলা প্রত্যাহার ও ব্যক্তিস্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। এমনকি ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে না-এই কারণে টিকা কেনা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলা ও ব্যর্থতার নির্মম ফল। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় জনগণ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থা দূর করা এবং শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
একই দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খিলগাঁও : হাম মহামারী রোধে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সিপিবি নেতা অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ।
শিশু হত্যাকারী ড. ইউনূস ও নুরজাহানের শাস্তির দাবিতে গত ১৫ মে বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে সিপিবি খিলগাঁও শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খিলগাঁও শাখা সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিলন ও সমাবশে সঞ্চালনা করেন শাখার সহ-সম্পাদক রিফাত ইসলাম।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আক্তার হোসেন, দক্ষিণ কমিটির সদস্য মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র নাথ মন্ডল, খেলাঘর নেতা শ্যামল বিশ্বাস, গোড়ান শাখার সম্পাদক দিন বন্ধু দাস, যুব নেতা রবিউল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা শাহিন আলম, ছাত্রনেতা ফকরুল ইসলাম প্রমুখ।
অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে হবে। টিকার মাধ্যমে শিশুদের ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধি পায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, বস্তি এলাকাসহ শ্রমজীবী মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা হাম কর্নার ও বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। গরিব মানুষ যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং চিকিৎসার অভাবে যেন কোন পিতা তার সন্তানকে না হারায় তার জন্য সরকারকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শিশু হত্যাকারী ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
পল্টন : সিপিবি পল্টন শাখার সম্পাদক রফিজুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে ও সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির সঞ্চলনায় গত ৯ মে রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে হামে তিনশতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্যে রাখেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ইউনূস সরকারের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা তথ্য প্রমাণসহ বলেছেন। বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে বিশ্বের মধ্যে নানা বিষয় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকারের অবহেলায় এই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। অথচ সরকার রহস্যজনক কারণে দোষীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এজন্য তিনি ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেন।
এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদিব সাহা, সিপিবি পল্টন থানার সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ।
চট্টগ্রাম : শিশুমৃত্যু রোধে অবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার বিক্ষোভ ও মিছিল গত ১৫ মে বিকাল ৫ টায় সিনেমা প্যালেস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী, সিপিবি সীতাকুন্ড থানার সভাপতি জহির উদ্দীন মাহবুব, কোতোয়ালি থানার সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী প্রমুখ।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশুর মৃত্যু জনমনে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতা এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে।