বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে
Posted: 10 মে, 2026
একতা প্রতিবেদক:
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায় ১২ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ। তাপ বাড়লে বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। যা শক্তিশালী বজ্রমেঘ সৃষ্টির মুখ্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষাকালের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। ঋতুচক্রের পরিবর্তন বজ্রপাতের হার বাড়ায়। আর্দ্র ও তপ্ত বাতাসের সংমিশ্রণে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ঘন ঘন বজ্রঝড় সৃষ্টি হয়।
বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে গেলে বজ্রপাতের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ধূলিকণাগুলো মেঘের ভেতরে ঘর্ষণ বাড়িয়ে বৈদ্যুতিক চার্জ জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। মেঘের ভেতরে থাকা জলীয় বাষ্প যখন উপরে ওঠে, তখন বরফকণা বা তুষারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মেঘের উপরের অংশে পজিটিভ এবং নিচের অংশে নেগেটিভ চার্জ জমা হয়। এই দুই স্তরের মধ্যে যখন বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক আধানের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, তখন বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ নির্গত হয়। আর এটিই হচ্ছে ‘বজ্রপাত’।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বাড়ছে বজ্রপাতের হার। বজ্রপাতের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে কৃষিজীবী, প্রান্তিক মানুষ বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করছেন। এই হার ক্রমশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বজ্রপাতে মৃত্যু নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। এর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকার নিয়েও খুব একটা ভাবা হয় না। তবে এক হিসেবে দেখা গেছে, গত এক দশকে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটেছে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিবছর গড়ে বজ্রপাতে মানুষ মারা যাচ্ছে ৩০০ জনের বেশি। গত দশ বছরের মধ্যে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩১৯ জন। ২০২৩ সালে বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটেছে ৩২২ জন। ২০২৪ সালে মারা গেছেন ২৯৭ জন। ২০২৫ সালে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় বজ্রপাতের হার কিছুটা কম ছিল। এ বছর মারা গেছেন ১৭৩ জন। তবে ওই বছর ২৮ এপ্রিল একদিনেই সর্বোচ্চ ১৯ জন কৃষকসহ ২৩ জন মানুষ বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন। চলতি বছর ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটেছে ৬০ জনের মতো। গত ১৮ এপ্রিল ৭টি জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, বজ্রপাতে নিহতদের ৭০ শতাংশই প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী। পেশাগতভাবে তারা কৃষক। ক্ষেত-খামারে কাজ করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় তারা বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করছেন। বজ্রপাত এখন হয়ে উঠেছে কৃষিজীবীদের বড় একটি পেশাগত ঝুঁকি। খোলা মাঠে কাজ করার সময় তারা এই দুর্ঘটনার শিকার হন।