ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বগুড়ায় শিক্ষা সমাবেশ
Posted: 03 মে, 2026
বগুড়া সংবাদদাতা :
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের উদ্যোগে গত ২৫ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক সাতমাথায় শিক্ষা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি বায়েজিদ রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয় ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ফিজু, সাবেক সভাপতি ও সিপিবি বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী শেখ, সাবেক সভাপতি ছাব্বির আহম্মেদ রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফ্রিক হাসান প্রান্ত, বগুড়া পৌর কমিটির আহ্বায়ক রাকিব হাসান, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ সংসদের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, আজিজুল হক কলেজ সংসদের সদস্য দ্বীন মোহাম্মদ সজিব, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শিশির, শাজাহানপুর উপজেলার আহ্বায়ক সৈকত হোসেন, কাহালু উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক রাম চন্দ্র প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লড়াই, সংগ্রাম ও গৌরবের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ৭৪তম বর্ষ পূর্ণ করছে। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বৈষম্যহীন একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির জন্য লড়াই অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে এদেশের মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০০৭ এর সেনাহঠাও আন্দোলন, ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা যোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের রয়েছে অসংখ্য শহীদ। বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে ছাত্র ইউনিয়নের নাম।
বক্তারা আরো বলেন, এখনো বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শিক্ষা বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্ব এবং শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনির্মাণে লড়াই করে যাচ্ছে। ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্ম থেকেই দেশের মানুষের মুক্তির প্রশ্নে, শিক্ষার অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছে কিন্তু কখনো আদর্শের প্রশ্নে আপসনামা লেখেনি। সমাজ পরিবর্তনকামী লাখো লাখো স্বপ্নবাজ বিপ্লবীর সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এ দেশের মানুষের মুক্তি-সংগ্রামে, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তার জন্মলগ্ন থেকেই নিবেদিতপ্রাণ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এছাড়া শিক্ষা সমাবেশ থেকে বক্তারা নিম্নলিখিত দাবি জানান, ১। অবিলম্বে একই ধারার গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কর। ২। শিক্ষাখাতে জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ অথবা জাতীয় বাজেটের ২৫% বরাদ্দ নিশ্চিত কর। ৩। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকর কর। ৪। অবিলম্বে হাম এবং হামের উপসর্গে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫। সারাদেশে চলমান মব সন্ত্রাস অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ইতোপূর্বে সংঘঠিত সকল ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৬। আমেরিকার সাথে দাসত্বের চুক্তি বাতিল করতে হবে। ৭। বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।
আলোচনার শুরুতে শিক্ষার অধিকার আদায়, গণতন্ত্র রক্ষা, জনসাধারণের অধিকার আদায় ও ন্যায্যতার পক্ষের লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গকারী এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।