সিপিবি ঢাকা জেলা কমিটির সভা
Posted: 26 এপ্রিল, 2026
একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা জেলা কমিটির সভা থেকে নেতৃবৃন্দ আগামী ২৭ এপ্রিল আমেরিকার সঙ্গে দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সংসদ অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি সফল করা এবং সাংগঠনিক-আন্দোলন কর্মসূচি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও প্রকৃত উৎপাদক কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরণ, সার ও ডিজেলসহ কৃষি উপকরণ সরকারি দামে বিতরণ, সার ও ডিজেলের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, ধান ক্রয়ের নীতিমালা সহজ করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঠ থেকে ধান ক্রয়, চালের চেয়ে অধিক পরিমাণে ধান ক্রয়, শ্রমিকের জাতীয় মজুরি ঘোষণা, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের দাবিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
গত ১৮ এপ্রিলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে সভা থেকে বক্তারা এ আহ্বান জানান। ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি সুকান্ত শফি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উত্থাপন করেন ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন। আলোচনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা বেগম সাজু, মো. শাজাহান, জেলা কমিটির সদস্য শেখ রুহুল আমিন, কমরেড ইদ্রিস আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিকিম আলী, শামসুল আলম ইন্নান, কাজী ফিরোজ, কে. এম মিন্টু, সাইফুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
সভায় সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে লুটেরা, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর এদেশের শ্রমিক-কৃষক-ক্ষেতমজুর-গ্রামীণ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থার উত্তোরণ হবে বলে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গরিব মেহনতি জনগোষ্ঠীর অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নাই। বরং আরো সংকটাপন্ন হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দল গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি উগ্র সম্প্রদায়িক জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন সম্পাদন করে। এই বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১০ মে চূড়ান্ত রূপ নেবে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের কৃষি, বাণিজ্য, সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমেরিকার সঙ্গে কৃষি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রমূলক দেশবিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের জন্য আপাত ইতিবাচক কতক ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা কতটুকু পূর্ণাঙ্গ রূপ নেবে তা এখনই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকসহ গ্রামীণ জনপদের মানুষের সুবিধার কথা বলে জনতুষ্টিমূলক খাল খননের উদ্বোধন করলেও সারাদেশে খাল খননের আগে নদী, খালের সীমানা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা ও দখলমুক্ত খাল রক্ষা করা, খাল খননের নামে কৃষকের জমি কেটে নেয়া ইত্যাদি বিষয়ে কোন জরিপ না করেই এই খাল খনন কৃষকের জন্য আরো সমস্যার সৃষ্টি হবে। মূলত খাল খননের নামে দলীয় লোকজনের আর্থিক সুবিধাটাই প্রাধান্য পাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির দাবি ছিল- প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের। সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করলেও কৃষকদের ঋণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নানান হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রকৃত উৎপাদক কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরণ ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ভর্তুকি, প্রণোদনাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি কৃষক সমিতির দীর্ঘদিনের। সরকার কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। প্রকৃত উৎপাদক প্রান্তিক কৃষকসহ ভূমিহীন-কৃষকদের কৃষি কার্ড আদায় করে নেয়ার জন্য আন্দোলন করতে হবে। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ, ষাটোর্ধ কৃষক-ক্ষেতমজুর-শ্রমিকদের টাকা জমা ছাড়া পেনশনের ব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে হবে।