জ্বালানি তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

Posted: 26 এপ্রিল, 2026

একতা প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কর্তৃক অকটেন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস চরমে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক বাজারের দোহাই দিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হলেও, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিলে এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তাই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু এক বিবৃতিতে বলেন, জ্বালানি খাতের একটি বড় সংকট হলো বিসিপি,পাম্প মালিক ও ডিলারদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের অবৈধ মজুত রাখা এবং ওজনে কম দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম রোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বর্ধিত মূল্যের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তারা বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ চেয়েছিল পাম্পগুলোতে তেলের সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। তেলের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা আর ‘তেল নেই’ অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করাই ছিল সময়ের দাবি। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার না করে সরকার জনগণকে উপহার দিল উচ্চমূল্য, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। নেতৃবৃন্দ বলেন, যেখানে অকটেন এবং পেট্রোল চাহিদার প্রায় সমপরিমাণ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। নিজস্ব সম্পদের সুফল ভোগ করার পরিবর্তে জনগণকে যদি আমদানিকৃত তেলের সমান বা তার চেয়ে বেশি দাম দিতে হয়, তবে দেশীয় উৎপাদনের উপযোগিতা কোথায়? তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব কেবল গাড়ির মালিকদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। মুদ্রাস্ফীতির এই কঠিন সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে পিষ্ট করছে। যুবনেতারা বলেন, সরকারের উচিত ছিল পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিপিসির পূর্বের মুনাফা থেকে ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখা। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে একটি সহনশীল ও যৌক্তিক দাম নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।