প্রাচীন জিনিসপত্র নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ

Posted: 19 এপ্রিল, 2026

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : কোন কৃত্রিমতা কাগজের ছবি নয়, প্রাচীন ও পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে হাজির পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শতশত শ্রমজীবী কৃষক-ক্ষেতমজুর মানুষ। গাইবান্ধা সদর উপজেলা দারিয়াপুরে এই ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৮টায় সিপিবির দারিয়াপুর অঞ্চল কার্যালয়ে জমায়েত হয় শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমজীবী মানুষের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে মিহির ঘোষ বলেন, বাংলা নববর্ষ একটি সার্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের উৎসব। এই উৎসবকে গুলশান-বনানীর পান্তা ইলিশের উৎসব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এটা এই উৎসবের মুল চেতনার সঙ্গে যায় না। এই উৎসব যেদিন পচানব্বই ভাগ মানুষের উৎসবে পরিণত হবে সেদিনই তা পূর্ণতা পাবে। কৃষক, ক্ষেতমজুর, শ্রমিকসহ সব শ্রমজীবী মানুষের উৎসবে পরিণত করতে হবে। শোভাযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষরা তাদের পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত গরুর হাল, মাছ ধরার জিনিসপত্র, হুকা, রেডিও, মাতালসহ নানা উপকরণ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধনের পর শ্রমজীবী মানুষের মঙ্গল শোভাযাত্রা গ্রামের তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুল প্রাঙ্গণে শেষ হয়। সেখানে পান্তা খাওয়ার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা সিপিবির সভাপতি ছাদেকুল ইসলাম মাস্টার, প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা সন্তোষ বর্মণ, দারিয়াপুর অঞ্চল কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ পান্তা উৎসবে অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, প্রায় কুড়ি বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে সিপিবি দারিয়াপুর অঞ্চল কমিটি। প্রতি বছরের ন্যায় অঞ্চল কমিটির অধীনে থাকা ১৪টি শাখায় সংগৃহীত চাল আসে আঞ্চলিক পার্টি অফিসে। তাই দিয়ে তৈরি হয় পান্তা। পার্টি কমরেডদের দেয়া টাকায় পাট শাক, আলু ভর্তাসহ সব তৈরি হয়। সেই সঙ্গে নিজেদের টাকায় তৈরি করা হয় বৈশাখের পোশাক। এদিন পুরো এলাকা উৎসব আমেজে ভরপুর থাকে।