কৃষক সমিতির পঞ্চদশ জাতীয়
সম্মেলন আগামী ফেব্রুয়ারিতে
Posted: 19 এপ্রিল, 2026
একতা প্রতিবেদক :
আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পঞ্চদশ জাতীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি। এ সম্মেলনকে সামনে রেখে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে থেকে সাংগঠনিক শক্তি ও ধারাবাহিক আন্দোলন বেগবান করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভা গত ১৭ এপ্রিল হয়। সংগঠনের সভাপতি এ্যাড. এস এম এ সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উত্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন। অর্থ রিপোর্ট উত্থাপন করেন সহসভাপতি নিমাই গাঙ্গুলী।
আগামী মে মাসে জেলা কমিটির সভা, জুন মাসব্যাপী সাংগঠনিক মাস ঘোষণা করা হয়। সাংগঠনিক মাসে সদস্য সংগ্রহ, গ্রাম ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন, উপজেলা কমিটির সভা করা হবে। আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসব্যাপী গ্রাম ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসব্যাপী উপজেলা সম্মেলন এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসব্যাপী জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় আমেরিকার সাথে কৃষি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রমূলক দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা, প্রকৃত উৎপাদক কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরণ, সার ও ডিজেলসহ কৃষি উপকরণ সরকারি দামে বিতরণ, সার ও ডিজেলের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, ধান ক্রয়ের নীতিমালা সহজ করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঠ থেকে ধান ক্রয়, চালের চেয়ে অধিক পরিমাণে ধান ক্রয়ের দাবিতে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে লুটেরা, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর এদেশের কৃষক-ক্ষেতমজুর-গ্রামীন শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থার উত্তোরণ হবে বলে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। বরং আরো সংকটাপন্ন হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দল গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি উগ্র সম্প্রদায়িক জামাত নেতৃত্বাধীন জোট।
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে। এই বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১০ মে চূড়ান্ত রূপ নেবে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের কৃষি বাণিজ্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমেরিকার সাথে কৃষি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রমূলক দেশবিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষকদের জন্য আপাত ইতিবাচক কতক ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা কতটুকু পূর্ণাঙ্গ রূপ নেবে তা এখনই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকসহ গ্রামীণ জনপদের মানুষের সুবিধার কথা বলে জনতুষ্টিমূলক খাল খননের উদ্বোধন করলেও সারাদেশে খাল খননের আগে নদী, খালের সীমানা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা ও দখলমুক্ত খাল রক্ষা করা, খাল খননের নামে কৃষকের জমি কেটে নেয়া ইত্যাদি বিষয়ে কোনো জরিপ না করেই এই খাল খনন কৃষকের জন্য আরো সমস্যার সৃষ্টি হবে। মূলত খাল খননের নামে দলীয় লোকজনের আর্থিক সুবিধাটাই প্রাধান্য পাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কৃষক সমিতির দাবি ছিল প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের। সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করলেও কৃষকদের ঋণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নানান হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে।
প্রকৃত উৎপাদক কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরণ ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ভর্তুকি, প্রণোদনাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি কৃষক সমিতির দীর্ঘদিনের। পহেলা বৈশাখের দিন সরকার কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, এই কৃষি কার্ড বিতরণে চরমভাবে দলীয়করণ করা হবে।
কৃষক সমিতির উদ্যোগে প্রকৃত উৎপাদক প্রান্তিক কৃষকসহ ভূমিহীন কৃষকদের কৃষি কার্ড আদায় করে নেয়ার জন্য আন্দোলন করতে হবে। সংগঠনের ব্যানারে প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট অফিসে আগেই জমা দিতে হবে। এইভাবে তালিকাভুক্ত কৃষকদের নিয়ে গ্রাম কমিটি গঠন করে সংগঠনকে প্রকৃত কৃষকের সংগঠনে রূপ দিতে হবে।
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণ দেখিয়ে কৃষকদের সেচ, ধান কাটা ও ধান ভাঙ্গানোর মেশিন ডিজেল সংগ্রহের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে। সময় মত এবং প্রয়োজনমতো ডিজেল পাচ্ছেন না। চড়া দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। কৃষি বাজার সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সরকার এখনো কৃষি বাজার নিয়ন্ত্রণের বা সিন্ডিকেট ভাঙ্গার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুর রহমান সেলিম, কাজী সোহরাব হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. শাহ আলম, নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, সুকান্ত শফি চৌধুরী, মানবেন্দ্র দেব, লাকি আক্তার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেন খান, ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, মোতালেব মোল্লা, তোফাজ্জল হোসেন শান্তি, সাদেকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, জহর লাল দত্ত, আসাদুল্লাহ টিটো, গৌরাঙ্গ মল্লিক, সুধীন সরকার মঙ্গল, হুমায়ুন কবির, হাসেন আলী, আহসান হাবীব, আব্দুস সাত্তার মণ্ডল।