মার্কিন স্বার্থে বন্দি বাংলাদেশ
Posted: 05 এপ্রিল, 2026
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের নামে যে চুক্তি করে গেছে, সেটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ সব দিক থেকেই মার্কিন স্বার্থের কাছে বন্দি হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে করা এই চুক্তি বাংলাদেশের ওপর আমেরিকার কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বোয়িং বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য হবে। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সমরাস্ত্র তৈরির জন্য বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।
ইতোমধ্যেই এল৩ হ্যারিস নামক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম সংযোজন (অ্যাসেম্বলিং) করার জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের (টেকনোলজি ট্রান্সফার) নামে ড. ইউনূসের সরকার এই কোম্পানিকে বাংলাদেশে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে গেছে। অর্থাৎ, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার শুধু বাণিজ্য চুক্তি করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাংলাদেশের সামরিক খাতে মার্কিন কোম্পানির আগমনের দ্বারও খুলে দিয়ে গেছে। নির্বাচনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বার্তা দিয়েছেন, সেখানে নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। ট্রাম্পের এই বার্তার মধ্য দিয়ে একথা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই আমেরিকার মূল লক্ষ্য।
প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা বলে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে নিবে। তবে তারা কখনো বাংলাদেশের কাছে ডিজাইন বা মূল প্রযুক্তি হস্তান্তর করে না। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে আংশিক সংযোজন পদ্ধতিতে শুধু আলাদা যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানো হবে। এতে প্রকৃত কোনো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হবে না। বরং আমদানির নামে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হওয়ার পথ সুগম হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে আমেরিকার সঙ্গে এই নতুন শর্তযুক্ত চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে, কার্যকর হওয়ার আগেই দেশের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং ভবিষ্যতে যে কোনো দেশের সঙ্গে যে কোনো ধরনের চুক্তি করার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।