ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচংয়ে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন

Posted: 25 জানুয়ারী, 2026

ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৫ আসনে কাস্তে মার্কার প্রার্থী হয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবর সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন। তার স্থায়ী নিবাস কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সিদলাইতে (বড় বাড়ি)। বাবা মরহুম আবদুল হান্নান বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। মা নূরজাহান বেগম অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের দুই মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। রতন সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোর হায়ার কমসোমোল স্কুল থেকে সামজতত্ত্বে উচ্চতর ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে প্রবেশনারী অফিসার হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকে যোগ দেন। ২২ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্বপালন করে ২০১৪ সালে জুলাই মাসে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বেচ্ছায় চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক জীবন গ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালের স্বৈারাচার-সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সহকারী সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল ছাত্র সংসদের প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৯০ ও ’২৪-এ স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দুই মেয়াদে সাত বছর বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন-এর কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কাফী রতন ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৫ আসনে প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষা, পেশা ও রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, নেপাল, সাইপ্রাস, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও মালোয়েশিয়া সফর করেন। তিনি জার্মানভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন অব রেভলিউশনারি পার্টিস এন্ড অর্গানাইজেশন (আইকর)-এর এশীয় অঞ্চলের এক মেয়াদে সমন্বয়ক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলের পক্ষে জাতীয় টেলিভশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন লেখক। ষাট বারের অধিক স্বেচ্ছায় রক্তদান করা কাফী রতন মরণোত্তর চক্ষু দানেরও অঙ্গীকার করেছেন।