মনোহরদী-বেলাবতে সাজ্জাদ জহির চন্দন

Posted: 25 জানুয়ারী, 2026

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে কাস্তে মার্কার প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও মনোহরদীর সন্তান কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তার বাবা অ্যাডভোকেট কাজী জহিরুল হক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহকুমা পরবর্তীতে ঢাকা মহানগরী ন্যাপের সভাপতি। মা কাজী জাহান আরা বেগম। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্কুল জীবনেই বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন চন্দন। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। স্বৈরাচার বিরোধী ও ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম এই ছাত্রনেতা গত ২২ বছর ধরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্ত হন কৃষক আন্দোলনে। কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কৃষক ও গ্রামের মেহনতি মানুষের নানা দাবি দাওয়া নিয়ে এলাকায় ও জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। যাঁর অনেকগুলি ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা, প্রতি বছর ধান, গম ইত্যাদি পণ্যের অতন্ত ১০ শতাংশ লাভে সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা ইত্যাদি অন্যতম। এছাড়া বরেন্দ্র আন্দোলন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৭ সালে যথাযথভাবে ও যথাসময়ে হাওরের নদীগুলিতে বাঁধ নির্মাণ না করায় কৃষকের ফসল ভেসে যায়। তারপর থেকে লাগাতার আন্দোলনের ফলে সরকার যথাসময়ে হাওরে বাঁধ নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছে। হাওর অঞ্চলের কৃষকের ফসল রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর নেতৃত্বে কৃষক সমিতি সারাদেশে ইজারা প্রথা বাতিল, পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসে দুর্নীতি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোদ কৃষকের থেকে ফসল ক্রয়ের জন্য ক্রয় কেন্দ্র খোলা, ডিজেল, বিদ্যুৎ, সারসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো ইত্যাদি নানা দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুথানেও তিনি সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে ভূমিকা রেখেছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন নিজের এলাকায়ও কৃষক ও মেহনতি মানুষের সব সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বেই বেলাব-মনোহরদীতে সব্জি সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজের দাবিতে, থানা ভূমি অফিস ও হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। বিশ্ব ছাত্র-যুব আন্দোলনের একজন কর্মী এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা হিসেবে বিশ্বের নানা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। নিজের এলাকার মানুষের জন্য চন্দন বলেন, “আমাদের এই এলাকায় কৃষক ও গরিব মেহনতি মানুষের পক্ষে বহু আন্দোলন ও লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে। কমরেড ফয়েজ মাস্টার, আব্দুর রশিদ (তারা মাস্টার), কমরেড আখতারুজ্জামান পণ্ডিত, কমরেড কালু মাস্টার, কমরেড রহমান মাস্টার, শামসুল হক ভূইয়া, কৃষক নেতা আব্দুল হাই, ফজলুল হক খন্দকার, কমরেড অন্নদা পালসহ অনেক বিপ্লবী ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দ এ লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। “ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধারা এই এলাকায় বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমরা কমিউনিস্ট পার্টি বুর্জোয়া ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোর নীতিহীন রাজনতির বিরুদ্ধে সৎ ও মেহনতি মানুষের পক্ষে একটি বাম গণতান্ত্রিক সরকার গড়ে তোলার সংগ্রাম করছি। তারই অংশ হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছি।” তিনি আরও বলেন, আশা করি সৎ দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা, গরিব মেহনতি মানুষের পক্ষের রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে কমিউনিস্ট পার্টির হাতকে শক্তিশালী করবেন এবং গরিব-মেহনতি মানুষের মার্কা কাস্তেতে নিজের মূল্যবান ভোটটি দিবেন ।