খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কোনো সংস্কার হয়নি
Posted: 25 জানুয়ারী, 2026
একতা প্রতিবেদক :
সারাদেশে খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য কোনো সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার যারা করতে পারবে না, শ্রমজীবী মানুষ তাদের ভোট দেবে না। সংস্কারের ডামাডোল সৃষ্টি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানুষকে অন্ধকারে রেখে অনেক কিছু করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা সংক্রান্ত বিষয়ে জনআকাঙ্খার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
অসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের ইশতেহারে শ্রমজীবী হকারদের ১০ দফা সংযুক্ত করার আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে গত ১৯ জানুয়ারি বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীরের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা-৮ আসনে সিপিবি মনোনীত কাস্তে মার্কার প্রার্থী ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, কার্যকরি সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি আফসার আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ ফিরোজ, শাহীনা বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে ত্রিদ্বীপ সাহা বলেন, পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ ও জুলুম নির্যাতন করে কখনো সংকটের সুরাহা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেই উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সর্বত্র ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নতুন করে দখল ও বণ্টন শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে গরিব খেটে খাওয়া মানুষদের কর্মসংস্থান থেকে উচ্ছেদ করে শত কোটি টাকার চাঁদাবাণিজ্যে নতুন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করতে মানুষকে নিঃস্ব করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী বলেন, শ্রমজীবী মানুষকে তার স্বপক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করে ক্ষমতায় নিতে হবে। নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সোচ্চার ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করছি।
তিনি বলেন, শহরে সৌন্দর্য, নাগরিক সুবিধা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা এই তিনটি বিষয় পৃথক করে দেখা ভুল। সমন্বিত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সকল সংকটের সুরাহা করতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, নির্বিচারে হকার উচ্ছেদ ও মালামাল ধ্বংসের সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে এবং জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে নগরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি দাবি জানান, নির্বিচারে সারাদেশে হকারদের রুটি-রুজির অবলম্বন বন্ধ করার অভিযান পরিচালনা করা হবেনা এই অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোকে করতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, হকারসহ শ্রমজীবী মানুষের জীবনে আজ নাভিশ্বাস উঠে গেছে। সরকার শ্রমজীবী মানুষের জন্য কোনো ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ করছে না। এমনকি বাজার নিয়ন্ত্রণও করতে পারছে না। অন্যদিকে হকারসহ স্বনিয়োজিত পেশার মানুষের একমাত্র বাঁচারও অবলম্বনটুকুও কেড়ে নিচ্ছে।
তিনি সারাদেশের মেহনতি জনতাকে জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সমাবেশে হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, এই সরকার ধনীক শ্রেণির সরকার। তাই হকার, রিকশাসহ সকল শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। হকাররা এ দেশের বৈধ নাগরিক। হকারদের উচ্ছেদ করা অবৈধ কাজ। তিনি এই অবৈধ কাজের বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করা একটি পেশা। যা সারা পৃথিবীতে প্রচলিত। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও ব্যবস্থা রয়েছে। পুনর্বাসন ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে হকারদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।