সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও
গণতন্ত্রের সংগ্রামকে এগিয়ে নিন
Posted: 25 জানুয়ারী, 2026
একতা প্রতিবেদক :
২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলায় শহীদ হিমাংশু, মজিদ, হাশেম, মোক্তার, বিপ্রদাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপিবি নেতারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র, দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মোহাম্মদ শাহ আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসলাম খান।
সমাবেশে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি সিপিবির সমাবেশে বোমা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল ধর্মান্ধ গোষ্ঠী অগণতান্ত্রিক লুটেরা শাসকগোষ্ঠী। দেশে প্রগতির ধারাকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য এর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। বর্তমানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে, অন্তবর্তী সরকার গণভোট নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকা রাখছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাজার, ছায়ানট, উদীচী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ধারার বিপরীতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। ফলে তারা আরও আস্ফালন করছে। স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের ধারাকে বিকৃত করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করেছে। লুটপাট সন্ত্রাস গুম খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশে ফ্যাসিস্ট শাসনে যেন আর ফেরত না আসে এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক উত্থান ঠেকাতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশবিরোধী শক্তি কমিউনিস্ট পার্টিকে ধ্বংস করার বারবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টিকে ধ্বংস করতে পারেনি। বর্তমানে সিপিবি অফিসে হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিপিবি সকল অপশক্তিকে মোকাবিলা করবে।
২০ জানুয়ারি শহীদদের স্মরণে অস্থায়ী বেদীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, সাপ্তাহিক একতা, হকার্স ইউনিয়ন, ট্যানারী শ্রমিক ইউনিয়ন, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সবশেষ আন্তর্জাতিক সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ২০ জানুয়ারি শহীদদের স্মরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘঠে।