পুরাতন ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে বামপন্থি ও
গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার করতে হবে
Posted: 25 জানুয়ারী, 2026
একতা প্রতিবেদক :
শোষণ-নিপীড়নমূলক পুরাতন ব্যবস্থার বদলে বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার পুরাতন ব্যবস্থা বহাল রেখেছে। বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার না হলে শোষণ-নিপীড়নমূলক পুরাতন ব্যবস্থার উচ্ছেদ সম্ভব নয়। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার গঠন করতে হবে।
গত ২২ জানুয়ারি সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা অন্দোলন, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও গণআন্দোলনের শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে থেকে শুরু হয়েছে সিপিবি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রচার।
সেখানে সমাবেশে সিপিবির সাবেক সভাপতি সেলিম বলেন, “পুরাতন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি ও উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর আস্ফালন রুখতে হলে আসন্ন নির্বাচনে জনতার বৃহত্তর ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়ে সিপিবি মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোট হতে হয় নিরপেক্ষ। হাসিনা নিরপেক্ষ ভোট দেয়নি জন্য মানুষ তাকে উৎখাত করেছে।”
বর্ষীয়ান এই জননেতা প্রশ্ন তোলেন, “সরকার যদি জনগণের অর্থ ব্যয় করে কোনো একটি পক্ষের প্রচার করে তাহলে সেটা কিভাবে নিরপেক্ষ ভোট হয়? তিনি আরও বলেন, গণভোট শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়, এটা প্রতারণামূলক ত্রিশটি পৃথক বিষয়ে একটি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তর কোনো গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে এই মুহূর্তের কর্তব্য সতর্ক ও সচেতনভাবে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ গঠন করা। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন ও ’২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান করেছে সেই রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে শোষণ-নিপীড়নের পক্ষের রাজনীতি ও উগ্র ডানপন্থি শক্তিকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। ”
এ কার্র্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজসহ সিপিবি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের পূর্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে ঢাকা-৪ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ ফিরোজ আলম (মামুন), ঢাকা-৫ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা দীপু, ঢাকা-৮ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, ঢাকা-৯ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান মিলন, ঢাকা-১২ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী কল্লোল বনিক, ঢাকা-১৪ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী রিয়াজউদ্দিন, ঢাকা-১৫ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল), ঢাকা-১৩ আসনের মই মার্কার প্রার্থী খালেকুজ্জামান লিপন, ঢাকা-৭ আসনের কাঁচি মার্কার প্রার্থী সীমা দত্তসহ প্রার্থীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
একইসঙ্গে সারাদেশে সিপিবি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।