গুম, খুনের রাজনীতির বিপরীতে এসেছে মব সন্ত্রাস ও বুলডোজারের রাজনীতি
Posted: 31 আগস্ট, 2025
একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির দ্বিতীয় সম্মেলনে পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করেছে। বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একদিকে আমেরিকার সাথে নানান গোপন চুক্তি করছে। অন্যদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সারাদেশে অব্যাহত মব সন্ত্রাস চলছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জোরালো অবস্থান দেখলেই আঘাত আসছে। এর বিরুদ্ধে দেশের বাম গণতান্ত্রিক এবং দেশপ্রেমিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বৈষম্য নিরসনে বামপন্থিদের লড়াকু আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, গুম, খুনের রাজনীতির বিপরীতে এসেছে মব সন্ত্রাস ও বুলডোজারের রাজনীতি। এই অপ-রাজনীতির কারণে স্বৈরাচারবিরোধী মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা আজকে জিম্মি।
‘সমাজ বদলের লক্ষ্যে শোষণ-বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক জোট সরকার প্রতিষ্ঠা কর’-এই স্লোগানকে ধারণ করে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের দ্বিতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম এসব কথা বলেন।
সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিবেশ তৈরি করে দেশকে গণতান্ত্রিক পথের যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মুক্তিযুদ্ধকে আক্রান্ত করা এবং গণতান্ত্রিক যাত্রা রুখতে নানা অপশক্তির চলমান তৎপরতা রুখে দিতে হবে। গণতন্ত্রের সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, বিগত সময়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানেও ভোটাধিকার হরণের নানান কূটকৌশল চলছে। বিগত সরকার মানুষের টাকা লুটপাট করেছে। কিন্তু লুটপাটের ধারা এখনো অব্যাহত আছে। এদেশে গরিব মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে লুটপাটের পুঁজিবাদী ধারাকেই উচ্ছেদ করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে চরম দক্ষিণপন্থি এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তির আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। যারা একাত্তরে পরাজিত হয়েছে তাদের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। গণতন্ত্রের লড়াই চলছে, চলবে। নিঃস্ব গরিব মানুষের গণতান্ত্রিক লড়াইকে কমিউনিস্ট পার্টিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি দেশের স্বার্থবিরোধী ও গণবিরোধী সকল জনবিরোধী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে এদেশে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে। গত ৫৪ বছরে এদেশ একটি বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। ঢাকা শহরকে শাসন করেছে গণবিরোধী শাসকেরা। বর্তমানে ঢাকা শহর বৈষম্যের অনিরাপদ শহর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তার ভোটাধিকার চায়। গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে বামপন্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশ গত ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে) অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবি উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান জামাল হায়দার মুকুল, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন।
সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে একটা লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গীতি-আলেখ্য ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ পরিবেশন করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।
ঢাকা মহানগর উত্তরের ইতোমধ্যে সমাপ্ত ২০টি শাখা ও থানা কমিটির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত ১০৫ জন প্রতিনিধি কাউন্সিলে অংশগ্রহণ করবেন।