শ্রেণি ও অন্যান্য পরিচিতি সত্তা উত্তর আধুনিকতা বনাম মার্কসবাদ

Posted: 10 আগস্ট, 2025

পরিচিতি সত্তার রাজনীতি নিয়ে উত্তর আধুনিকতার (Post-Modern) সঙ্গে মার্কসবাদের মৌলিক কিছু বিরোধ আছে। প্রথমত, উত্তর আধুনিকতা মনে করে– মার্কসবাদে মানুষের শ্রেণিসত্তাকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একচেটিয়া প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উত্তর আধুনিকতার অভিযোগ মার্কসবাদে মানুষের অন্য সত্তাকে খাটো করে দেখানো হয়েছে। মানুষের বহু মাত্রাকে স্বীকার না করে শুধুমাত্র শ্রেণিমাত্রায় তাকে চিহ্নিত করে মার্কসবাদীরা শুধু ভুল করেছেন তা-ই নয়, আসলে শ্রেণিমাত্রাকে অবলম্বন করে মার্কসবাদীরা মানুষের অন্যমাত্রাকে দমন করতে চেয়েছেন। এভাবে এই দমনের রাজনীতিকে সংগঠিত করে তারা মানুষের একটি বিশেষ মাত্রার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। তৃতীয়ত, উত্তর আধুনিকতা দাবি করে–মার্কসবাদী শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতা আছে। মার্কসবাদ বুঝতে চায় না যে, প্রতিটি মানুষের নানা সত্তা থাকে। যে মানুষ শ্রমিক, সে আবার পুরুষ কিংবা বাঙালি কিংবা মুসলমান। চতুর্থত, উত্তর আধুনিকতা মনে করে–মার্কসবাদে শ্রেণিস্বার্থ ও শ্রেণিসংগ্রামের নিরিখে সব সামাজিক বিষয়কে বিচার করার ফলে নিপীড়িত মানুষের অন্য ধরনের সংগ্রামকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্ব-ভূমিকার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে অন্যান্য শ্রেণির ভূমিকা যথার্থভাবে মূল্যায়িত হয়নি। উত্তর আধুনিকতার মতে, ইতিহাসের চালিকাশক্তি বলে কিছু নেই অথবা একমাত্র শ্রেণিসত্তাই ইতিহাসের চালিকাশক্তি হতে পারে না। মানুষের শ্রেণি ও অন্য সত্তা সম্পর্কিত উত্তর আধুনিক বোধের সঙ্গে মার্কসবাদের কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। মার্কসের পূর্ববর্তী সমাজতাত্ত্বিকরা সমাজে শ্রেণির উপস্থিতির প্রতি দিকনির্দেশ করেছেন। মার্কস যে অবদানটি রেখেছিলেন তা হলো, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদন ব্যবস্থার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যে শ্রেণিঅস্তিত্বের প্রশ্নটি জড়িত, সেই সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করা। মার্কসের মত ছিল, উৎপাদন সম্পর্কের বৈরী চরিত্র থেকেই শ্রেণির উদ্ভব। শ্রেণির উদ্ভবের মূল কারণটি হলো উদ্বৃত্ত উৎপাদন। এই উদ্বৃত্ত সম্পদকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমেই শ্রেণিব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সমাজের বিভিন্ন অংশের পার্থক্যের মূল কারণ হিসেবে মার্কসবাদ চিহ্নিত করে শ্রেণিবিভাজনকে; অর্থাৎ সামাজিক স্তরবিভাজনের মূল উৎস রূপে চিহ্নিত করা হয় শ্রেণিকে, যা থেকে উৎসারিত হয় অন্যান্য পার্থক্য, যেগুলো আপেক্ষিকভাবে গৌণ। মার্কস বিভিন্ন ধরনের সামাজিক গোষ্ঠীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করেননি। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর পার্থক্যের মধ্যে শ্রেণিপার্থক্যটাই প্রধান। কারণ, তা সমাজের ভিত্তি (উৎপাদন পদ্ধতি) থেকে উদ্ভূত। শ্রেণি হলো সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী, যা সমাজের ওপর নির্ধারক প্রভাব বিস্তার করে। মার্কসীয় শ্রেণিবিশ্লেষণ বস্তুত বিষয়বাদী (Object)। কারণ, সমাজজীবনের যেটি মূল ভিত্তি অর্থাৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, সেটির ভিত্তিতেই শ্রেণির অবস্থানকে নির্দিষ্ট করা হয়। মার্কসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিষয়গত বাস্তবতা তথা উৎপাদন পদ্ধতি থেকে শ্রেণির উদ্ভব হলেও, শ্রেণি একটি সক্রিয় সামাজিক সত্তা হিসেবে সমাজে তার ভূমিকা রাখে। মার্কসীয় দৃষ্টিতে বিষয়গত বাস্তবতা তথা উৎপাদন পদ্ধতি থেকে শ্রেণির উদ্ভব। কিন্তু একইসঙ্গে তা বিষয়ীগত ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে দ্বান্দ্বিকভাবে সম্পর্কিত। কারণ, শ্রেণি একটি সক্রিয় সামাজিক সত্তা হিসেবে কাজ করে। এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন মার্কস ‘মানুষকে বিষয়গত জগতের এক সচেতন বিষয়ীগত সত্তা’ বলে গণ্য করেন। প্রত্যেক শ্রেণির নিজস্ব শ্রেণিস্বার্থ আছে। মার্কসীয় চিন্তায় এই শ্রেণিস্বার্থ নির্ধারিত হয় উৎপাদন পদ্ধতিতে শ্রেণির অবস্থান ও ভূমিকা দিয়ে। মার্কসের কাছে শ্রেণি নিজেই একটি বিষয়গত ধারণা। কারণ, বিষয়গত ধারণার সঙ্গে এর সম্পর্ক দিয়েই একে চেনা যায়। এভাবে শ্রেণিস্বার্থকে চেনা যায় বিষয়গত বাস্তবতার ভিত্তিতে, আর শ্রেণিসদস্যের বিষয়ীগত ক্রিয়াকলাপের বিচার করা যায় তাদের শ্রেণিস্বার্থ অনুযায়ী। মার্কসের মতে, শ্রেণিসম্পর্কের বৈরী প্রকৃতির কারণ হচ্ছে শ্রেণিস্বার্থ পরস্পরবিরোধী এবং তা সমন্বয়যোগ্য নয়। এজন্য শ্রেণিগুলো উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে সংগ্রাম দেখা দেয়। মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদের কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে এই শ্রেণিসংগ্রামের ধারণা: ‘আজ পর্যন্ত যত সমাজ দেখা গেছে, সেই সব সমাজের ইতিহাস শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। স্বাধীন মানুষ ও দাস, প্যাট্রিশিয়ান ও প্লিবিয়ান, জমিদার ও ভূমিদাস, গিল্ডকর্তা আর কারিগর, এক কথায় অত্যাচারী এবং অত্যাচারিত শ্রেণি সর্বদাই পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে থেকেছে। অবিরাম লড়াই চালিয়েছে, কখনও আড়ালে কখনও-বা প্রকাশ্যে...’ (মার্কস-এঙ্গেলস : কমিউনিস্ট ইশতেহার) পুঁজিবাদী সমাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকনির্দেশনা পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই মার্কস এই শ্রেণিদৃষ্টিভঙ্গি থেকে কখনও বিচ্যুত হয়নি। শ্রেণিসংগ্রামের এই সূত্রটিকে তিনি সমাজবিকাশের একটি সাধারণ সূত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রকৃতিবিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানীরা যেমন প্রকৃতি ও জীবের বিবর্তনের সূত্র আবিষ্কার করেছেন, একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে মার্কসও ঠিক তেমনি সমাজের শ্রেণিসংগ্রামের সূত্র আবিষ্কার করেছেন। এ সূত্র অনুযায়ী, শ্রেণিদ্বন্দ্বই হলো সমাজের বস্তুগত দ্বন্দ্ব এবং সমাজবিকাশের চালিকা শক্তি। এই দ্বন্দ্বই সমাজের গতি ও পরিবর্তনের দ্বান্দ্বিকতা প্রকাশ করে। ‘মার্কসই প্রথম ইতিহাসের গতির এই প্রধান বিষয়টি আবিষ্কার করেন যে, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন অথবা ভাবাদর্শের অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে চলুক না কেন সমস্ত ঐতিহাসিক সংগ্রামই হলো প্রকৃতপক্ষে সামাজিক শ্রেণিসংগ্রামের অল্প বিস্তর স্পষ্ট অভিব্যক্তি। এসব শ্রেণির অস্তিত্ব তথা সম্পর্ককেও আবার নিয়ন্ত্রিত করছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিকাশের মাত্রা, তাদের উৎপাদন পদ্ধতি ও তার দ্বারা নির্ধারিত প্রথা। প্রকৃতি বিজ্ঞানের রাজ্যে তেজের রূপান্তরের নিয়ম যেমন, ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই নিয়মটিও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ।’ (এঙ্গেলস : লুই বোনাপার্টের আঠারোই ব্রুমেয়ার, তৃতীয় জার্মান সংস্করণ, এঙ্গেলসের ভূমিকা, রচনা সংকলন) মার্কসবাদ অনুসারে অর্থনীতি, সামাজিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বিকাশ ও মননমূলক ঘটনাবলি সংঘটিত হয় অভ্যন্তরীণ অসংগতিগুলোর মাধ্যমে। প্রথমত ও প্রধানত, উৎপাদনী শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের সংঘাতের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে পুঁজির দ্বন্দ্ব, সমাজের ভিত্তি ও উপরিকাঠামোর দ্বন্দ্ব, বিষয়গত ও বিষয়ীগত উপাদান ইত্যাদির মধ্যকার সংঘাতের মাধ্যমে। কিন্তু বিষয়গত অসংগতিগুলো বিকাশের উৎস হওয়া সত্ত্বেও, ওসবের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিরসন হয় না। এসবের নিরসন হয় জনগণ, শ্রেণি, জাতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বাধীন পার্টিগুলোর উদ্যোগের মাধ্যমে। ইতিহাসের বিষয়গত ধারায় সৃষ্ট সমস্যা ও কর্তব্য যেসব সামাজিক শক্তি মোকাবিলা করে, মার্কসবাদে সেগুলোকে ইতিহাসের চালিকা শক্তি বলা হয়। এ দিক থেকে বিচার করলে মূল উৎপাদনী শক্তি হিসেবে ব্যাপক জনগণ ও তাদের কার্যকলাপই ইতিহাসের মূল চালিকা শক্তি। অর্থাৎ ইতিহাসের চালিকা শক্তি হচ্ছে সমাজে বিদ্যমান অসংগতি, যা থেকে জন্ম নেয় শ্রেণিসমূহের সংগ্রাম, তাদের স্বার্থগুলোর সংঘাত। ব্যাপক জনগণের কার্যকলাপ দ্বারাই ইতিহাসের মূল চালিকাশক্তি গঠিত হয়। আর ব্যাপক জনসাধারণ হলো প্রথমত ও প্রধানত মেহনতি মানুষ। তারাই সমাজ জীবনের মূল ভিত্তি বৈষয়িক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এজন্য মার্কসবাদ সমাজবিকাশের প্রশ্নে মেহনতি শ্রেণিকেই ইতিহাসের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখে। কিন্তু মার্কসবাদ একটা সমাজকে দেখে বহু মাত্রিকতার মধ্যে। এই বহুত্বের মধ্যে অনেক ধরনের প্রশ্ন থাকে, বিভিন্ন সত্তা ও দ্বন্দ্ব থাকে। সমাজে যেমন থাকে মানুষের শ্রেণি, জাতি, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ সত্তা ও দ্বন্দ্ব। এসব সত্তা ও দ্বন্দ্বের মধ্যে শ্রেণিপ্রশ্নই সবচেয়ে মৌলিক। এই শ্রেণিপ্রশ্ন, এই দ্বন্দ্বই সমাজটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্য বিষয়গুলোও শ্রেণিপ্রশ্নের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। শ্রেণিদ্বন্দ্ব যতটা নিরসন হয়, অন্য দ্বন্দ্বগুলোর ততটা নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এজন্য শ্রেণিদ্বন্দ্ব এখানে মৌলিক ও প্রধান দ্বন্দ্ব। অন্য দ্বন্দ্বগুলো শ্রেণিদ্বন্দ্বের ওপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল নয়, তাদের স্বাধীন কিছু বিকাশের ধারা আছে, এসব দ্বন্দ্বও শ্রেণিদ্বন্দ্বকে প্রভাবিত করে। কিন্তু উত্তর আধুনিকতার মতে, কোনো কিছুই অন্য কিছু দিয়ে নির্ধারিত হয় না। কোনো কিছুই অন্য কিছুর অস্তিত্বের জন্য অত্যাবশ্যক নয়। মানুষের বহু সত্তা আছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, অঞ্চল, শ্রেণি–এ রকম বিভিন্ন পরিচয় আছে। এসবের মধ্যে কোনোটিই এককভাবে প্রধান নয় এবং এসবের মধ্যে কোনো আন্তঃসম্পর্ক নেই। যেহেতু এসবের মধ্যে কোনো আন্তঃসম্পর্ক নেই, সেজন্য সুবিধাবঞ্চিত নিপীড়িত অংশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, দরকারও নেই। বঞ্চিতরাই যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্রভাবে তার অবস্থা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করবে। এভাবে উত্তর আধুনিকতা মানুষকে বিভিন্ন গোষ্ঠী, ধর্ম, অঞ্চল ইত্যাদিতে বিভক্ত করে তাদের মধ্যে সংঘাত ও প্রতিযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করে দেয়। শ্রেণি সেখানে কোনো বিষয়ই নয়, বড়জোর পরিচিতির একটা অংশমাত্র। উত্তর আধুনিকতার পরিচিতি সত্তার রাজনীতি শ্রেণিঐক্য নষ্ট করার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ শ্রেণিআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মার্কসবাদ মানুষের শ্রেণিসত্তাকেই একমাত্র সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেনি, মানুষের অন্যান্য সত্তার নিজস্ব গতিশীলতাকে মার্কসবাদ গুরুত্ব দেয়। কিন্তু শেষ বিচারে সমাজের অন্যান্য বিরোধের পরিণতি এবং সমাজের সামগ্রিক বিকাশ নির্ভর করে শ্রেণিদ্বন্দ্ব নিরসনের ওপর। এজন্য ঐতিহাসিক কারণেই সমাজ প্রগতির প্রশ্নে শ্রেণিসত্তাকেই মার্কসবাদ মানুষের প্রধান সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে। উত্তর আধুনিকতার পরিচিতি সত্তার রাজনীতির বিরুদ্ধে মার্কসবাদীরা মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনা করে। আজকের দুনিয়ায় বুর্জোয়ারা এই পরিচিতি সত্তাকে ব্যবহার করে মানুষের শ্রেণিসমাবেশ ঘটাতে বাধা প্রদান করছে। এজন্য মানুষকে সংকীর্ণ ভাগাভাগিতে বিভক্ত করে দেয় এমন প্রতিক্রিয়াশীল জনগোষ্ঠীগত পরিচিতি সত্তার বিরোধিতা করে মার্কসবাদীরা। আবার এসব জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পক্ষে সংগ্রাম করে তারা। এসব জনগোষ্ঠীর ওপর প্রকৃত নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে মার্কসবাদীরা শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। লেখক : সভাপতি, খুলনা জেলা কমিটি ও সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি