কমরেড হেনা দাসের প্রয়াণ দিবসে সিপিবির শ্রদ্ধা ও স্মরণসভা

Posted: 27 জুলাই, 2025

একতা প্রতিবেদক : বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেত্রী কমরেড হেনা দাসের ১৬ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ২০ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টায় নারায়ণগঞ্জ মহাশ্মশানে তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন, মহিলা পরিষদ, উদীচীসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হেনা দাসের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আলোচনা করেন, সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস, সদস্য দুলাল সাহা, বাসদ জেলা কমিটির সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব। আরও উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি শহর কমিটির সভাপতি আ. হাই শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সুজয় রায় চৌধুরী বিকু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি রীনা আহমেদ, সদস্য কৃষ্ণা ঘোষ, শোভা সাহা, হেনা দাসের মেয়ে ডা. দীপা ইসলাম, নাতনি নবনিতা, শ্রমিক নেতা এম এ শাহীন প্রমুখ। ঢাকা : কমরেড হেনা দাসের প্রয়াণ দিবসে ঢাকায় মুক্তিভবনে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কমরেড হেনা দাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিরবতা পালন করেন। কমরেড হেনা দাসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কমরেড হেনা দাস আজীবন এদেশের মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন। বিপ্লবী পরিবারে জন্মগ্রহণকারী কমরেড হেনা দাস ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকেছেন। তিনি আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্র এ ব্যাপারে দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সরকারের সময়ে নানা বিষয়ে সংস্কারের কথা বলা হলেও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংস্কার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী আসন বাড়ানো ও সরাসরি নির্বাচনের দাবি করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সম্পাদক রাগিব আহসান মুন্না, আবিদ হোসেন, সদস্য সোহেল আহমেদ, নিমাই গাঙ্গুলী প্রমুখ। স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গরিব মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের বলিষ্ঠ যোদ্ধা। তিনি ১৯৪২ সালে সিলেট শহরের পুরানলেনে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ তথা সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে কমরেড হেনা দাস মাত্র ১৪ বছর বয়সে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে সংগঠকের ভুমিকা রেখেছেন। এছাড়াও নারী ও শিক্ষা আন্দোলন, চা শ্রমিক, আদিবাসী এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অন্যতম পুরোধা ছিলেন তিনি। তারা আরও বলেন, কমরেড হেনা দাস কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে সর্বদা নিবেদিত ছিলেন। সারাজীবন তিনি শিক্ষা-সংস্কৃতি-রাজনীতি নিয়ে লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে। কমরেড হেনা দাস ২০০৯ সালের ২০ জুলাই ৮৫ বছর বয়সে নারায়ণগঞ্জে প্রয়াত হয়েছেন। মানবমুক্তির মহান সংগ্রামে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। কমরেড হেনা দাসের মতো বহুমুখী ধারার আন্দোলনের নেত্রী এদেশে খুবই কম জন্মেছেন।