‘মুরাদনগরের ঘটনা প্রমাণ দিচ্ছে সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ’
Posted: 06 জুলাই, 2025
একতা প্রতিবেদক :
মুরাদনগরে নারী ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারীদের শাস্তি দাবিসহ সারাদেশে অব্যাহতভাবে নারী ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠন।
সমাবেশগুলোতে নেতারা বলেন, মুরাদনগরে নারী ধর্ষণের ঘটনা ২৬ জুন ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার আগ পর্যন্ত দেশবাসী জানতে পারেনি। মুরাদনগরের ঘটনা প্রমাণ দিচ্ছে- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জানমাল নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। বিক্ষোভ থেকে নেতৃবৃন্দ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া এবং এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন জনগণকে ঐক্য ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ঢাকা : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারী সেল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত ৩ জুলাই প্রতিবাদী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, সর্বত্র নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, সিপিবি কেন্দ্রীয় সম্পাদক লুনা নূর, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাকসুদা আক্তার লাইলী প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার।
মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, সারাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। একটি ঘটনার বর্বরতা আরেকটি ঘটনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এসকল ভয়াবহ ঘটনা প্রতিরোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সারা দেশে নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জুলাইয়ে নারীরা রাস্তায় না নামলে স্বৈরাচার হটানো সম্ভব হতো না। অথচ আজকে সেই নারীরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার। অন্তর্বর্তী সরকার জানমালের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অবিলম্বে সরকারকে প্রতিটি ঘটনার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। নাহলে সারাদেশে বিক্ষুব্ধ নারী সমাজ আবারও রাজপথে নেমে আসবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারী নির্যাতন ক্রমশ বাড়ছে। সরকারের যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মুরাদনগরে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ফজর আলী ও তাঁর সহযোগীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিতে হবে। ঘরের দরজা ভেঙে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তা ভিডিও করে প্রচারের মতো বর্বর ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। এটাই শেষ ঘটনা নয়। প্রতিদিন নারী নির্যাতন ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা-সংস্কৃতির অবনমন, পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার দাপট ও বিচারহীনতা নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১০০টি মামলার ৯৭টির-ই কোন বিচার হয় না। টাকা ও ক্ষমতার দাপটে অপরাধীরা পার হয়ে যায় এবং আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশু ও তার পরিবার আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেও অনেক সময় অপরাধী পার পেয়ে যায়। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। নারী বিদ্বেষী বা নারীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা বা মনোভাবও নারী নির্যাতনকে বাড়িয়ে দেয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট : মুরাদনগরে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
গত ২৯ জুন সংবাদপত্রে প্রেরিত বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী বলেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘরের দরজা ভেঙে এক হিন্দু নারীকে যেভাবে গণধর্ষণ, নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করে প্রচার করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। অভিযুক্ত ধর্ষক ফজর আলী ও তার সহযোগীসহ সারাদেশে নারী নিপীড়ক ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সিপিবি : প্রশাসনের ব্যর্থতার নিন্দা এবং ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এ প্রতিবাদ জানান।
যুব ইউনিয়ন : বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু এক বিবৃতিতে কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘৃণ্য ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র নারীর প্রতি বর্বরতা নয়, বরং গোটা সমাজ ও মানবতাবোধের ওপর নগ্ন আঘাত।
কুমিল্লা : মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রচারের প্রতিবাদে ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ রঞ্জন কর, জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু নন্দী, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত দেবনাথ অপূর্ব, ভূমিহীন নেত্রী সুফিয়া বেগম, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য নন্দিতা তালুকদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল শীল, খলিলুর রহমান, যুব নেতা রাজীব নন্দী, নারী নেত্রী সবিতা তালুকদার, গৌতম দে সরকার, মো. মাসুদ, সুর্বণা প্রমুখ।
ভূমিহীন সংগঠনের চান্দিনা আঞ্চলিক সভাপতি লুৎফা বেগমের সভাপতিত্বে ও আব্দুর জব্বারের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম : ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশ করে সিপিবি নারী সেল চট্টগ্রাম জেলা। সংগঠনের আহ্বায়ক রেখা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ছাত্রনেতা শুভ দেবনাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা, জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, যুবনেতা নাবিলা তানজিনা, ছাত্রনেতা নুরনাহার আক্তার শিরিন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ধর্ষণ যে হারে মহামারীর মতো ছড়িয়েছে, তা বাংলাদেশকে আজ বিবস্ত্র করে তুলেছে।